চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

করোনা সংকটে ব্যবসায় ধাক্কা লাগলেও সাহসের সঙ্গে এগিয়ে চলেছি: বাণিজ্যমন্ত্রী

বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেছেন, মহামারি করোনাভাইরাসের সংকটময় সময়ে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যে ধাক্কা লেগেছে। তবু আমরা সাহসের সঙ্গে এগিয়ে চলেছি।

বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবার বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) এবং বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে এক চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে জুম প্লাটফর্মের মাধ্যমে ওই অনুষ্ঠানে যুক্ত হন মন্ত্রী।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক্সপোর্ট কমপেটিটিভনেস ফর জবস (ইসিফোরজে) প্রকল্পের জন্য জমি লিজ নিতে ওই দুটি প্রতিষ্ঠানের সাথে এই চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠিত হয়।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, `আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। কিন্তু করোনার কারণে কিছুটা ধাক্কা খেয়েছি। তারপরও বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় আমরা অনেক সাহসী পদক্ষেপ নিয়েই এগিয়ে চলেছি। প্রধানমন্ত্রী সে লক্ষ্যে নিরলস পরিশ্রম করছেন’।

তাই জমি লিজের এই চুক্তিটি কেবল একটি চুক্তি হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এ চুক্তি আমাদের এগিয়ে যাওয়ার ধাপ।।আজ যে চুক্তি স্বাক্ষরিত হলো এটা শুধু একটি চুক্তি নয়। এর মাধ্যমে অনেক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। রপ্তানি পণ্যের বৈচিত্র্যকরণ হবে বলে জানান তিনি।

টিপু মুনশি বলেন, `২০১৮ সালে তিনটি সূচক অর্জন করে আমরা উন্নয়নশীল দেশের তালিকার দিকে এগিয়ে যাচ্ছি। আমাদের যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা আছে ২০৩১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশ, ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশ হওয়ার জন্য অনেকগুলো কর্মসূচি হাতে নিয়েছি। এসব কর্মসূচিরই একটা হচ্ছে ইসিফোরজে’।

তিনি আরও বলেন, ‘দেশের রপ্তানি আয়ের ৮৪ ভাগই আসে তৈরি পোশাক খাত থেকে। অন্য কোনো পণ্যই বিলিয়ন ডলার রপ্তানি করতে পারি না। তবে পোশাকের পাশাপাশি অন্যান্য পণ্য রপ্তানি করতে হবে। পণ্য বৈচিত্র্যকরণে জোর দিতে হবে। ইসিফোরজে প্রকল্প চামড়া, প্লাস্টিকসহ ৪টি পণ্যের উন্নয়নে কাজ করবে। এর মাধ্যমে পণ্যে বৈচিত্র্যকরণ আসবে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে রপ্তানি পণ্যের বৈচিত্র্যকরণ ও উৎপাদনমুখী কাজে অধিকতর কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে এক্সপোর্ট কম্পিটিটিভনেস ফর জবস প্রকল্প চালু করা হয়েছে। প্রকল্পের অধীনে তিনটি অত্যাধুনিক প্রযুক্তি কেন্দ্র (টিসি) এবং একটি প্রযুক্তিগত নকশা ও প্রযুক্তি কেন্দ্র (ডিটিসি) প্রতিষ্ঠা করতে যাচ্ছে সরকার।

প্রকল্প পরিচালক ওবায়দুল আজম বলেন, ইসিফোরজে প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হলো- রপ্তানি সম্ভাবনাময় খাত চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, ফুটওয়্যার, প্লাস্টিক ও হালকা প্রকৌশল খাতকে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগী করে গড়ে তোলা। আশা করছি এ প্রকল্পের মাধ্যমে আগামীতে এসব পণ্যের উন্নয়ন হবে।

বেজা একটি প্রযুক্তি কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার জন্য ১০ একর ও বাংলাদেশ হাই টেক পার্ক কর্তৃপক্ষ আরেকটি প্রযুক্তি কেন্দ্র স্থাপনের জন্য ৪ একর জমি বরাদ্দ দিয়েছে।

বাণিজ্য সচিব ড. মো. জাফর উদ্দিনের সভাপতিত্বে ভার্চুয়াল এ অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন, প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি খাত উন্নয়ন বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, বেজার নির্বাহী চেয়্যারম্যান পবন চৌধুরী, বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (সচিব) হোসনে আরা বেগম এনডিসি, ইসিফোরজে প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ওবায়দুল আজম প্রমুখ।