চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

করোনা শেখালো, অনেক অল্পের মধ্যেই ভালো থাকা যায়: সজল

করোনার মধ্যে ঘরবন্দী থাকতে থাকতে অনেক তারকা যেখানে হাঁপিয়ে উঠছেন, ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেতা আবদুন নূর সজল সেখানে বলছেন, ‘এটা আমার কাছে তেমন কোনো বিষয় না। যখন যে সময় আসে, সেই সময়ের মতো করেই চলা উচিত। আলহামদুলিল্লাহ্‌ ভালোই তো আছি।’

মুঠোফোনে চ্যানেল আই অনলাইনের সঙ্গে আলাপে সজল জানান, তিনি গত চার বছর একটানা কাজ করেছেন। সেভাবে বিশ্রাম নেননি। এই করোনা সজলকে অঘোষিত ছুটি দিয়েছে। তার ভাষায়, প্রায় সাড়ে তিনমাস একেবারেই ঘরে আছি। টানা চারবছর পর এমন লম্বা ব্রেক পেলাম। তাই আমার জন্য এই ঘরবন্দী থাকা অসহ্যের কিছু না। ২০১৫-১৬ সালের দিকে একবার কাজ ছেড়ে দূরে ছিলাম প্রায় একবছর। তখন মনে হয়েছিল, একটু গ্যাপ দেয়া উচিত। দিয়েছিলামও। পুরো সময়টা নিজের মতো করে কাটিয়েছি। ঘরে না থাকলেও পারিবারিক ব্যবসা দেখাশুনা করতাম।

বিজ্ঞাপন

ধীরে ধীরে নাটকের মানুষজন সীমিত পরিসরে শুটিং করছেন। আপনি কবে ফিরবেন? সজল বলেন, একটা সময় তো কাজে ফিরতেই হবে। হয়তো কেউ আগে বা কেউ পরে। তবে বাসার বয়োজ্যেষ্ঠদের কথা চিন্তা করে এখনো কাজ শুরু করিনি। কারণ তাদের সুরক্ষিত রাখার দায়িত্ব ছোটদের। তাছাড়া এ অবস্থায় আমার বাসা থেকে কাজের অনুমতিও দিতে চাইছে না। তবে আমিও হয়তো কাজে ফিরবো। ঈদের আগে হয়তো দু-একটা কাজ করবো। কাজে ফেরা নিয়ে আমার কোনো তাড়া নেই। আল্লাহই যার যার কাজে ফেরার সময় নির্ধারণ করে দেবেন।

এবার করোনায় ঘরে থাকলেও সময়গুলো সঠিকভাবে কাজে লাগানোর চেষ্টা করেছেন সজল। তিনি অনেককিছু শেখার চেষ্টাও করেছেন। কী কী শিখলেন? সজলের উত্তর ছিল এমন, সেলফ ডেভলপমেন্ট। প্রতিদিন কাজগুলোর জন্য একঘণ্টা করে রুটিন করে রাখি। বইপড়ার অভ্যাসটা আবার নিজের মধ্যে এনেছি। অনেকদিন ধরে ফিল করছিলাম বাংলা ও ইংরেজিতে নিজের দক্ষতাটা আরও একটু বাড়ানো উচিত। এজন্য অনেক প্র্যাকটিস করেছি। অনলাইনে ডান্স ক্লাসে অংশ নিয়েছি। সবচেয়ে ভালো লেগেছে ঘরে থেকে ইসলামের ইতিহাসের অনেককিছু পড়েছি এবং জেনেছি। যেহেতু এসব জানার কোনো শেষ নেই তবুও অনেকিছুই জানার চেষ্টা করেছি। কেন জানি প্রায়সময় নবী রাসুলদের জীবনী জানার খুব ইচ্ছে করতো। ইতোমধ্যেই বেশ কয়েকজন নবীর জীবনী পড়ে শেষ করেছি।

অদৃশ্য ভাইরাস করোনা সবাইকে নতুন করে ভাবাচ্ছে, শিক্ষা দিচ্ছে। সজলের মধ্যেও করোনাকালে এসব থেকে নতুন উপলব্ধি এসেছে বলেও জানান। বললেন, বেঁচে থাকার জন্য অনেককিছু লাগেনা। সবাই একরকম জীবনযাপনে অভ্যস্ত ছিলাম, চাওয়াপাওয়া ছিল একরকম। করোনা শেখালো, আমাদের প্রত্যাশাগুলো ছোট করা যায়। অনেক অল্পের মধ্যেও ভালো থাকা যায়। মানুষকে শারীরিকভাবে সাহায্য করা না গেলেও দূরে থেকে মানসিকভাবে সাপোর্ট দেয়া যায়। মানুষের ভালো কাজের সাপোর্ট দেয়া, প্রশংসা করা উচিত। এতে করে ওই ব্যক্তি তার কাজটা ঠিকভাবে করার জন্য উৎসাহ পাবে।

তিনি বলেন, আমাদের সবার মধ্যেই কমবেশি ভুলত্রুটি রয়েছে। অন্যকে নিয়ে কথা বলার আগে নিজের ভুলের সংশোধন করা উচিত। উপকার না হোক কোনো মন্তব্যে বা কোনো কাজে যেন ক্ষতি না হয় এটা মাথায় রাখা উচিত। সম্মানে আঘাত লাগে এমন কিছুই করা উচিত না। সবসময় পজিটিভ মানসিকতার হওয়ার উচিত। না বুঝে বা অল্পতে বুঝেই কোনো কিছুতে মন্তব্য করা উচিত নয়। যা করা উচিত বুঝেশুনে করা উচিত।