চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

করোনা রোধে চীনের সাথে বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছিন্ন করছে নর্থ কোরিয়া

করোনা মোকাবিলায় প্রতিরোধের পরিকল্পনাকে বাতিল করে দিয়ে এবার সীমান্ত কঠোর করাসহ চীনের সাথে সকল বাণিজ্য বিচ্ছিন্ন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নর্থ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট কিম জং উন।

এমনকি আমদানিকৃত পণ্যগুলি যথাযথভাবে পরিচালনা করতে ব্যর্থতার জন্য শুল্ক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কঠোর সিদ্ধান্ত কার্যকর করার অভিযোগ রয়েছে তার ‍বিরুদ্ধে।

বেইজিং অক্টোবরে পিয়ংইয়াংয়ে মাত্র দুই লাখ ৫৩ হাজার ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে। যা সেপ্টেম্বরের রপ্তানি থেকে প্রায় ৯৯% হ্রাস পেয়েছে বলে জানিয়েছে চীনের শুল্ক প্রশাসন। ডলারের মূল্যের তুলনায় চীন এ সময়ে লিচটেনস্টাইন এবং মোনাকোতে বেশি  রপ্তানি করেছে।

কিম জং উনের সময়কালে চীন নর্থ কোরিয়ার বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার এবং দেশটি মূলত চীন ব্যতিত অন্য কোথাও থেকে উল্লেখযোগ্যভাবে আমদানি করে না। ২০১৬ এবং ২০১৭ সালে নর্থ কোরিয়ার পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচির শাস্তি হিসাবে জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার আগে পিয়ংইয়াংয়ের বিদেশী বাণিজ্যের ৯০% এরও বেশি ছিল বেইজিংয়ের।

নতুন শুল্কের পরিসংখ্যানগুলি যদি সঠিক হয় তবে দেখা যায় যে, কিম নর্থ কোরিয়ায় করোনা ভাইরাস প্রবেশ করতে বাধা দেওয়ার জন্য চীনের সাথে বাণিজ্য থেকে সরে আসা বা বিচ্ছিন্ন করতে আগ্রহী বলে মনে হচ্ছে, এমনকি যদি এটি দেশের খাদ্য ও জ্বালানী সরবরাহকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুললেও।

নর্থ কোরিয়া বাণিজ্যিক এ সম্পর্ক হ্রাস বা ছিন্ন করার প্রকৃত কারণের কথা প্রকাশ্যে স্বীকার করেনি তবে করোনা মহামারীকে সম্ভবত সবচেয়ে বেশি জড়ালো ব্যাখ্যা। চীন থেকে পণ্য আমদানি করার সময় ভাইরাস প্রতিরোধের নিয়ম না মানায় দেশটির দুই কাস্টমস কর্মকর্তাকে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার অভিযোগ রয়েছে। সাউথ কোরিয়ার গোয়েন্দা সংস্থার ব্রিফ শোনার পর একজন আইনজীবী এ তথ্যর কথা জানান।

তবে সংবাদ মাধ্যম সিএনএন মৃত্যুদণ্ডের খবর স্বাধীনভাবে নিতে সমর্থ হয়নি এমনকি সরকারের পক্ষ থেকেও প্রকাশ করা হয়নি। তবে এ হত্যা প্রমাণ করে কিম করোনাকে কতটা সিরিয়াসলি নিয়েছেন।

উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমটি রোববার জানিয়েছে, কর্তৃপক্ষ সীমানায় পাহারার সংখ্যা বাড়ানো এবং উপকূলীয় অঞ্চলে সমুদ্রের প্রবেশের নিয়ম কঠোর করাসহ সারা দেশে নতুন করে কঠোর মহামারি বিরোধী ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।