চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

করোনা মোকাবেলায় জাতীয় সংলাপ চায় ‘প্রজন্মের চেতনা’

করোনা ভাইরাসের কারণে দেশে উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবেলায় দলমত নির্বিশেষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের মাধ্যমে একটি জাতীয় সংলাপ চায় আত্মদায়বদ্ধ সংগঠন প্রজন্মের চেতনা। 

বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ জানায় সংগঠনটি।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়: ‘‘আমরা গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছি, সারা বিশ্ব করোনাভাইরাস নামের এক অদৃশ্য শক্তির বিরুদ্ধে যুদ্ধরত। বাংলাদেশও এই যুদ্ধে শামিল। গত ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়ে। এরপর থেকে প্রতিদিন এই সংক্রমণের হার বাড়ছে। ইতোমধ্যে এ ভাইরাসে ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর)।

বিজ্ঞাপন

গত ৩১ ডিসেম্বর চীনের উহান নগরিতে প্রথম নভেল করোনাভাইরাসের অস্তিত্ব ধরা পড়ে। এরপর এটি পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে। বিশ্বে রোগটি ছড়িয়ে পড়ার পর প্রায় তিন মাস অতিবাহিত হতে চলেছে। কিন্তু তারপরেও এটি প্রতিরোধে সরকরারের পক্ষ থেকে যথেষ্ট উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি। সবচেয়ে দূবলতা রোগ নির্ণয় ব্যবস্থায়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক ড. তেদ্রোস অধামন সম্প্রতি সকল সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রতি অনুরোধ জানিয়ে বলেছেন, করোনাবাইরাস মোকাবেলায় পরীক্ষার কোনবিকল্প নেই। বিষয়টিতে তিনি গুরুত্ব দিয়ে বলেছেন, ‘পরীক্ষা পরীক্ষা এবং পরীক্ষা’।

বিজ্ঞাপন

অথচ বাংলাদেশ বিষয়টি আমলে না নিয়ে উদাসীনতার পরিচয় দিয়েছে বলে আমাদের মনে হয়েছে। সারা বিশ্বে ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়ার পর গত ২১ জানুয়ারি থেকে বিমান বন্দরে আসা যাত্রীদের স্ক্রিনিং শুরু করে সরকার। তাদের হিসাবেই এ পযন্ত প্রায় পৌনে ৭ লাখ লোক দেশে প্রবেশ করেছে। কিন্তু তাদের মাধ্য ৯২০ জনকে পরীক্ষার আওতায় আনা হয়েছে। যার মধ্যে ৪৪ জনের পজেটিভ ধরা পড়েছে। ইতিমধ্যে ভাইরাসটি দেশে ‘কমিউনিটি ট্রন্সমিশন’ বা সামাজিকভাবে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করেছে। দিনদিন পরিস্থিতি জটিল থেকে জটিলতর হচ্ছে। দেশের মানুষ এখন করোনাভাইরাসের কবল থেকে নিজের জীবন বাঁচাতে উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।

এ ধরনের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ বা প্রাদুর্ভাব মোকাবেলা করা সরকারের একার পক্ষে সম্ভব নয়। আমরা ইতোমধ্যেই দেখেছি ইটালিসহ উন্নত দেশগুলোর করুণ অবস্থা দেখেছি। যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেনসহ বলতে গেলে সব রাষ্ট্রই করোনাভাইরাসের কছে ধরাশয়ী। তাই এ পর্যায়ে বাংলাদেশে ভাইরাসটির ভয়াবহতা মোকাবেলা করতে হলে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।

‘প্রজন্মের চেতনা’ মনে করে জাতির এই ক্রান্তিলগ্নে দলমত নির্বিশেষে সকল রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন, বুদ্ধিজীবী ও পেশাজীবীদেরকে নিয়ে এক টেবিলে বসে পরিস্থিতি মোকাবেলায় সম্মিলিত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা দরকার। এজন্য রাষ্ট্রের অভিভাবক হিসেবে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ কর্তৃক ভাইরাস প্রতিরোধে যথাযথ নিয়মে একটি জাতীয় সংলাপ আয়োজন করা সময়ের দাবি। প্রয়োজনে যেন সবাই ওই সংলাপে একত্রিত হয়ে উত্তরণের উপায় নির্ধারণ করতে পারে এবং সেখানে একটি জাতীয় উপদেষ্ঠা পরিষদ গঠন করে সরকারের কোথায় ঘাটতি রয়েছে, কোথায় কী ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে সেই দিক নির্দেশনাগুলো দেওয়া যায়।

তাই ‘প্রজন্মের চেতনা’ মনে করে এ ধরনের সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা ছাড়া দেশের এই বিরাজমান পরিস্থিতির সঠিক মোকাবেলা করা কোনোভাবেই সম্ভব হবে না।’’