চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

করোনা মোকাবিলার সামর্থ্য আমাদের আছেঃ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে নিয়োজিত প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. এনামুর রহমান এমপি জনকল্যাণে নিবেদিতপ্রাণ একজন রাজনীতিবিদ। তিনি সুদীর্ঘকাল রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও অন্যান্য ক্ষেত্রে দেশের উন্নয়নে অনবদ্য ভূমিকা পালন করে আসছেন। ডা. এনাম ১৯৫৭ সালে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ থেকে ১৯৮৩ সালে এমবিবিএস ডিগ্রী অর্জন করেন। তিনি ১৯৮৩ সালে বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডারে সরকারী চাকুরীতে প্রবেশ করে ১৯৯২ সাল পর্যন্ত কর্মরত ছিলেন। বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ থেকে মনোনয়নপ্রাপ্ত হয়ে দশম ও একাদশ জাতীয় সংসদের নির্বাচনে ঢাকা ১৯ আসন হতে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ডা. এনাম দেশের বৃহত্তম বেসরকারী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল- এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এর প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান। তিনি স্পেকট্রাম গার্মেন্টস ধস, তাজরিন ফ্যাশনে ভয়াবহ অগ্নিকান্ড ও রানা প্লাজা ধসে হাজার হাজার আহতদের বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা প্রদান করে চিকিৎসা সেবায় উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। দু:স্থ, বেওয়ারিশ ও হত দরিদ্র রোগীদের জন্য বিশেষ চিকিৎসা সেল চালু করে নিয়োজিত আছেন। এ লক্ষ্যে এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল চ্যারিটেবল ট্রাস্ট গঠন করেন। নেপালে ভয়াবহ ভূমিকম্পে আহতদের সেবায় বিশেষ মেডিকেল টিম প্রেরণ করে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে ভূমিকা রাখেন। তার নেতৃত্ব ও তত্ত্বাবধানে এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের একটি চিকিৎসক দল কক্সবাজারে আশ্রিত বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার নাগরিকদের স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করে। ১৯৮৮ সালের ভয়াবহ বন্যায় ১৫৬ টি স্যাটেলাইট চিকিৎসা কেন্দ্র পরিচালনায় অনবদ্য ভূমিকা পালন করেন। এছাড়াও ১৯৯৮, ২০০৪, ২০০৭ এর বন্যায় স্বেচ্ছা চিকিৎসা সহায়তা প্রদান করেন। ১৯৮৯ সালে মানিকগঞ্জ জেলার সাটুরিয়াতে সংঘটিত হওয়া প্রাণঘাতি টর্নেডোতে আক্রান্তদের উদ্ধার ও চিকিৎসা সেবা প্রদান কার্যক্রমে অংশ নেন।
ডা. এনাম কমনওয়েলথ পার্লামেন্টারি এসোসিয়েশন সিপিএ বাংলাদেশ চ্যাপ্টার এবং শিশু অধিকার ও প্রতিবন্ধিতা বিষয়ে পার্লামেন্টারি ককাস এর সদস্য হিসেবে নিয়োজিত। এছাড়া বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব পার্লামেন্টারিয়ান অন পপুলেশন এন্ড ডেভলপমেন্ট এর একজন সদস্য। ফেডারেশন অব চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজ এফবিসিসিআই এবং ঢাকা ট্রান্সপোর্ট কো অর্ডিনেশন অথরিটির সদস্য। বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশন বিএমএ ও বাংলাদেশ স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ স্বাচিপ এর আজীবন সদস্য। প্রাইভেট হসপিটাল ওনার্স এসোসিয়েশন অব সাভার, ফোয়াস এর প্রেসিডেন্ট এবং বাংলাদেশ প্রাইভেট মেডিকেল কলেজ এসোসিয়েশন এর মহাসচিব হিসেবে নিয়োজিত আছেন। ডা. এনাম দেশ ও কৃষ্টি বইয়ের প্রকাশনা নিষিদ্ধকরণের ঘোষণা এবং বইটি অষ্টম শ্রেণির পাঠ্যক্রম থেকে বাদ দেওয়ার প্রতিবাদে তৎকালীন গভর্নর নুরুল আমিনের বিরুদ্ধে ছাত্রলীগের আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণ করে সাংগঠনিক ভূমিকা পালন করেন। তিনি ১৯৬৯ এ ছাত্রলীগের কর্মী হিসেবে ১১ দফার ভিত্তিতে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খানের বিরুদ্ধে গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেন। ৭০ এর নির্বাচনে আওয়ামীলীগের প্রার্থীর পক্ষে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে নির্বাচনের পরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশে সব রাজনৈতিক কাজে সক্রিয় অংশ নেন। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে পাকহানাদার, রাজাকার, আলবদর ও সহযোগী বাহিনীদের উর্দূতে লেখা চিঠি বাংলায় অনুবাদ করে মুক্তিযোদ্ধাদের শত্রুদের পরের পরিকল্পনা সম্পর্কে অবহিত করে মহান মুক্তিযুদ্ধে অনবদ্য অবদান রাখেন। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের সাথে সাথে তিনি মন্ত্রণালয় ও এর অধীনস্থ দপ্তরসমূহকে দুর্নীতিমুক্ত করার দৃঢ় প্রতিজ্ঞা ব্যক্ত করেন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জীবনের সকল ক্ষেত্রে শুদ্ধাচার অনুশীলন করার জন্য অনুরোধ করেন। দেশের উন্নয়ন ও জনকল্যাণে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে তিনি তার সকল সহকর্মী এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সাথে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সংশ্লিষ্ট সকল জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতা, সাংবাদিক, অন্যান্য অংশীজনকে সহযোগিতা কামনা করেন।

সম্প্রতি জাহিদ নেওয়াজ খানের পরিকল্পনা ও রাজু আলীমের প্রযোজনায় ও সোমা ইসলামের উপস্থাপনায় চ্যানেল আই’র ‘টু দ্য পয়েন্ট’ অনুষ্ঠানে অতিথি হয়ে চলমান করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের নানা পদক্ষেপের কথা জানান তিনি।

বিজ্ঞাপন

প্রশ্ন : করোনা মোকাবিলায় সরকার নানা প্রস্তুতি নিয়েছে- সাধারণ ছুটি চলছে। কিন্তু একশ্রেনীর মানুষ কিন্তু ঘরে থাকছে না। নিম্ন আয়ের মানুষ যারা দিন আনে দিন খায়। তাদের ঘরে রাখতে হলে খাবার দিতে হবে- আপনারা কি ব্যবস্থা নিয়েছেন?

বিজ্ঞাপন

ডা. মো. এনামুর রহমান এমপি : ২৬ তারিখ থেকে লকডাউন শুরু। এই লকডাউনের সিদ্ধান্ত আসে ২২ তারিখে। সেদিনই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাকে ডেকেছিলেন গণভবনে। সেখানে আমাদের কেবিনেট সচিব, মুখ্য সচিব এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সচিব ছিলেন। সেদিন তিনি আমাকে নির্দেশ দেন যে, লকডাউনের ফলে দৈনিক আয়ের উপরে নির্ভর যে সম্প্রদায় তারা কর্মহীন হয়ে যাবে। তাই তাদের খাদ্য এবং অন্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের নিশ্চয়তা দিতে হবে। একজন মানুষও না খেয়ে যেনো থাকে না- তার ব্যবস্থা আমাদের করতে হবে। আর এই কাজটি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়- জেলা প্রশাসকদের মাধ্যমে করবে স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের সাথে সমন্বয় করে। এই নির্দেশনা ২২ তারিখ দুপুরে পাওয়ার পরে ২৩ তারিখে মিটিং করে সমস্ত জেলা প্রশাসকদের কাছে আমরা মেইল করি- কার কতো টাকা? কি পরিমাণ চাল মজুদ আছে? আর এই সংকট মোকাবিলার জন্যে তাদের চাহিদা কি? সেই অনুযায়ী ২৩ তারিখেই আমরা সবার কাছ থেকে মেইলের উত্তর পাই আর ২৪ তারিখে আমরা বাংলাদেশের সকল জেলায় বরাদ্দ পাঠাই। ২৪ হাজার ৭ শো মেট্টিকটন চাল এবং সাড়ে সাত কোটি টাকা আমরা পাঠাই। যেখানে জেলার সাথে মহানগর আছে সেখানে বরাদ্দের পরিমাণ বেশি।

প্রশ্ন : পুরো ৬৪ জেলার জন্যে ২৪ হাজার ৭ শো মেট্টিকটন চাল এবং সাড়ে সাত কোটি টাকা?
ডা. মোঃ এনামুর রহমান এমপি : এটি তো আমরা পাঠিয়ে দিয়েছি এবং গতকাল আমরা ফলোআপ দিয়ে দেখলাম যে, বিতরণ কাজ শুরু হয়েছে এবং অনেক জায়গায়ই মজুদ কমে আসছে। এরপরে গতকালকে আমরা সাড়ে ৬ হাজার মেট্টিকটন চাল এবং আরও ১ কোটি ৭১ লক্ষ টাকা আমরা বরাদ্দ দিয়েছি।

 

প্রশ্ন : মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ দেওয়ার পরে আপনার শুরু করলেন। সবকিছু্ কেন প্রধানমন্ত্রীকে নির্দেশ দিতে হবে। তাহলে মন্ত্রণালয় কি নির্দেশের অপেক্ষায় বসে থাকে?

ডা. মোঃ এনামুর রহমান এমপি : লকডাউনের সিদ্ধান্তের সাথে সাথে তিনি আমাদের ডেকেছেন। শুধূ আমাদেরকে না? সেখানে কেবিনেট সচিব মুখ্য সচিব এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্ররি সচিব ছিলেন। যখন এমন সিদ্ধান্ত হয় তখনই তিনি কার্যালয়ের কর্মকর্তাসহ আমাদের ডাকেন এবং আমাদেরকে নির্দেশনা দেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী।

প্রশ্ন : প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের আগে কি আপনাদের প্রস্তুতি ছিলো নাকি তিনি নির্দেশ দেওয়ার পরে আপনারা প্রস্তুতি নিয়েছেন?

বিজ্ঞাপন

ডা. মোঃ এনামুর রহমান এমপি : লকডাউনের সিদ্ধান্তের পরপরই আমরা প্রস্তুত ছিলাম। আর প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আমাদের কাজ ত্বরান্বিত হয়েছে।

প্রশ্ন : আপনারা উদ্যোগ নিয়েছেন যে, দুস্থ মানুষদেরকে খাওয়াবেন। তাদের পাশে এসে সরকার দাঁড়িয়েছে। এটি কিভাবে করবেন? মানুষ তো জমায়েত হতে পারবে না? তাদের দোরগোড়ায় কিভাবে খাবার পৌছাবে?

ডা. মোঃ এনামুর রহমান এমপি : আমরা ২৪ তারিখে এটা নিয়ে আলোচনা করেছি। তারপরে আজকে দুপুরেও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন যে, প্রত্যেক জেলা প্রশাসককে চিঠি বা মেইল পাঠানোর জন্যে। সেখানে স্পেসিফিক বিষয়গুলো উল্লেখ করতে হবে। যারা দিন মজুর, রিক্সা ডা. মো. এনামুর রহমান এমপি : রিক্সা চালক, ভ্যান চালক, চা বিক্রেতা , ফেরিওয়ালা আর ঢাকা থেকে যারা এই লক ডাউনের কারণে নিজের এলাকায় ফিরে কর্মহীন আছেন- এদেরকে তালিকাভুক্ত করে তাদের জন্যে চাল এবং তার সাথে বিভিন্ন সামগ্রি আলু, তেল, লবণ ইত্যাদি পরিবার অনুযায়ী বিতরণ করার জন্যে। এর সাথে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেছেন যদি কোন বিত্তবান বা কোন এনজিও যদি এই সহায়তা কাজে এগিয়ে আসতে চায় তাহলে তারাও যেনো জেলা প্রশাসকের সাথে সমন্বয় করে কাজটি করে।

প্রশ্ন : এই করোনা মহামারী মোকাবিলা করা কি সরকারের একার পক্ষে সম্ভব নাকি সকল বিত্তবান এবং মানুষের অংশগ্রহণ দরকার?

ডা. মোঃ এনামুর রহমান এমপি : মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বলিষ্ঠ নেতৃত্বে দেশকে মধ্যম আয়ের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। আমাদের আর্থিক সামর্থ্য বেড়েছে। আমাদের সামর্থ্য আছে করোনাকে মোকাবিলা করার। তবে পৃথিবীর সব দেশেই বিত্তবান এবং সমাজসেবকরা এগিয়ে আসে। তারা এগিয়ে আসলে তাদের সাথে একটি সমন্বিত আমরা যদি কর্মসূচী নিতে পারি তাহলে এই অবস্থা মোকাবিলা করা অনেক বেশি সহজ হবে এবং অনেক বেশি সফল হবে।

প্রশ্ন : করোনা দুর্যোগে কেউ যাতে দুর্নীতি করতে না পারে তার জন্যে কী করবেন?

ডা. মোঃ এনামুর রহমান এমপি : গেলো পনের মাসে আমাদের দায়িত্বের সময়ে একটি বড় বন্যা, দুটি ঘুর্নিঝড়, দুটি শৈত্য প্রবাহ, শীতের প্রকোপ, অগ্নিকান্ডসহ নানা বিপর্যয় আমরা মোকাবিলা করেছি তাতে দেখেছি আর্থ সামাজিক অবস্থার সাথে আমাদের মানসিকতাও চেঞ্জ হয়েছে। ত্রাণের সামগ্রি মেরে লাভের মানসিকতা কোথাও দেখিনি। নিজে আমি ৩৪টি জেলায় ঘুরেছি নানা দুর্যোগ মোকাবিলার জন্যে। সব জায়গায় দেখেছি জনগণ প্রশাসন জনপ্রতিনিধি সবাই চেষ্টা করেছে যে, যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তারা যেনো সরকারি বেসরকারি সহায়তা পায়।