চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

করোনা মহামারিতে আরও মানবিক হতে অভিবাসীদের প্রতি আহ্বান

কোভিড-১৯ মহামারির প্রাক্কালে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ অভিবাসীদের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় “বৈশ্বিক সংহতি ও সহযোগিতা এবং সুদৃঢ় রাজনৈতিক সদিচ্ছা” প্রদর্শনের আহ্বান জানানো হয়েছে।

জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলােদেশর স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত রাবাব ফাতিমা এ আহবান জানান।

বিজ্ঞাপন

‘কোভিড-১৯ এর প্রাক্কালে অভিবাসন: অভিবাসীদের স্বাস্থ্য ও রেমিট্যান্স’ শীর্ষক এক উচ্চ পর্যায়ের ভার্চুয়াল আলাচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ আহ্বান জানান।

বিজ্ঞাপন

অভিবাসন সংক্রান্ত সমমনা দেশসমূহ এর আয়োজন করে।

জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে শনিবার  এ খবর জানানো হয়।

ব্যাপকভাবে কোভিড-১৯ এর প্রভাবজনিত ভয়াবহতার শিকার হওয়ার পাশাপাশি অভিবাসীগণ বিশ্বের অনেক জায়গাতেই অধিকার, জরুরি স্বাস্থ্য পরিসেবা এমনকি চাকরির সুযোগ পাচ্ছে না।

বাংলাদেশর স্থায়ী প্রতিনিধি বলেন, “অভিবাসীরা গ্রহণকারী দেশগুলোর উন্নয়নে অবদান রাখা প্রথম সারির কর্মী, এমনকি এই করোনাকালেও একথা সত্য। ফলে সব দেশ কোভিড-১৯ মোকাবেলায় ও উত্তরণে নেয়া পরিকল্পনা ও প্যাকেজসমূহে অবশ্যই অভিবাসীদেরকেও অন্তর্ভুক্ত রাখতে হবে।

বিজ্ঞাপন

অনেক দেশ থেকে অভিবাসীদের জোরপূর্বক নিজ দেশে ফিরে যেতে বাধ্য করায় উদ্বেগ প্রকাশ করে রাষ্ট্রদূত ফাতিমা বলেন, প্রত্যাবর্তনকারীদের ব্যবস্থাপনা করা অনেক উন্নয়নশীল দেশের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ বিষয়ে উন্নয়নশীল দেশগুলোর প্রচেষ্টাসমূহে অবশ্যই জাতিসংঘসহ অন্যান্য উন্নয়ন অংশীদার ও অংশীজনদের সহেযািগতার হাত বাড়াতে হবে।

বাংলাদেশ, আয়ারল্যান্ড, মেক্সিকো যৌথভাবে ‘অভিবাসন সংক্রান্ত সমমনা দেশসমূহের গ্রুপের সহ-আহ্বায়ক। আয়ারল্যান্ডের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন ও প্রবাসী মন্ত্রী সিয়ারান ক্যানন টিডিসহ অভিবাসী প্রেরণকারী ও গ্রহণকারী দেশসমূহের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক রাষ্ট্রদূত উচ্চ পর্যায়ের এ আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন।

এছাড়া এসডিজি অর্থায়ন বিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ দূত ড. মাহমুদ মোহাইয়েলদিন, আইএফএডি ডব্লিউএইচও এবং অন্যান্য জাতিসংঘ সংস্থাগুেলার উচ্চ পর্যােয়র প্রতিনিধগণ এতে অংশ নেন।

এ সভায় বক্তারা উন্নয়ন, দারিদ্র্য বিমোচন এবং নারীর ক্ষমতায়নে অভিবাসন ও রেমিট্যান্সের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা স্বীকার করেন। তারা বলেন, অভিবাসীদের নিয়ে বর্তমান পরিস্থিতি ও কোভিড-১৯ এর প্রভাব উন্নয়নশীল দেশগুলোকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।

নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশগুলোত রেমিট্যান্স প্রবাহ ২০% এরও অধিক হ্রাস পাওয়া বিষয়ক বিশ্বব্যাংকের কথা তুলে ধরে স্থায়ী প্রতিনিধগণ সতর্কতা উচ্চারণ করে বলেন, এর পরিনতি খুবই ভয়াবহ হতে পারে, যা উন্নয়নশীল বিশ্বের রেমিট্যান্স নির্ভরশীল পরিবারসমূহকে দারিদ্র্যের দিকে ঠেলে দিতে পারে।

রাষ্ট্রদূত ফাতিমা জাতিসংঘ মহাসিচেবর “পিপল অন দ্যা মুভ” শীর্ষক বিবৃতিকে স্বাগত জানান।

করোনা সৃষ্ট মন্দায়ও রেমিট্যান্স প্রবাহ সচল রাখার গুরুত্বকে স্বীকৃিত দিয়ে সুইজারল্যান্ড ও যুক্তরাজ্যের ‘কল টু অ্যাকশন- অন রেমিট্যান্সেস ইন ক্রাইসিস’ শীর্ষক যৌথ বিবৃতিকে স্বাগত জানান স্থায়ী প্রতিনিধি।

তিনি বলেন, অর্থনীতি ও সমাজে অভিবাসীদের অবদানের ধারাবািহকতা রক্ষায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে অবশ্যই পুনরায় অভিবাসীদের উপযোগী পরিস্থিতি বজায় রাখতে কাজ করতে হবে, না হয় শুধু অবৈধ অভিবাসন ও মানব পাচার বৃদ্ধি পাবে।