চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

করোনা মহামারিতেও অর্থনৈতিক উন্নয়ন থামেনি, সংসদে অর্থমন্ত্রী

রিজার্ভ ছাড়াল ৪৩ বিলিয়ন ডলার

বর্তমানে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের পরিমাণ ৪৩ বিলিয়ন ডলার ছাড়াল জানিয়ে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, করোনা মহামারির মধ্যেও দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন থামেনি। প্রবৃদ্ধি, মাথাপিছু আয় সবদিক থেকেই এগিয়েছে বাংলাদেশ। সঠিক পথেই রয়েছে অর্থনীতি।

তিনি বলেন, আমাদের অভীষ্ট লক্ষ্য ২০৪১ সালে উন্নত অর্থনীতির দেশে উন্নীত হব। তবে খুব শিগগিরই অনুন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হব।

বিজ্ঞাপন

বুধবার জাতীয় সংসদে “বাজেট ২০২০-২১: প্রথম প্রান্তিক (জুলাই-সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত বাস্তবায়ন অগ্রগতি ও আয়-ব্যয়ের গতিধারা এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক বিশ্লেষণ সংক্রান্ত প্রতিবেদনে” তিনি এ তথ্য জানান।

অর্থমন্ত্রী বলেন, দুই শতাংশ নগদ প্রণোদনা দেয়াসহ নানা উদ্যোগ নেয়ায় বাড়ছে প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স। এর উপর ভর করেই একের পর এক রেকর্ড গড়েছে রিজার্ভের পরিমাণ। এতে সচল রয়েছে অর্থনীতির চাকাও।

সংসদে উত্থাপিত প্রতিবেদনে অর্থমন্ত্রী জানান, বিগত ২০১৯-২০ অর্থবছরে প্রবাসী আয়ের প্রবাহ তার আগের অর্থবছরের তুলনায় ১০ দশমিক ৮৭ শতাংশ বেশি ছিল। এই আয় বাড়াতে সরকার গত ২০১৯-২০ অর্থবছরের মত চলতি অর্থবছরেও ২ শতাংশ হারে নগদ প্রণোদনা দিচ্ছে। পাশাপাশি রেমিট্যান্স পাঠানোর প্রক্রিয়া সহজ করা, হুন্ডিসহ অনানুষ্ঠানিক চ্যানেলে অর্থ পাঠানোর বিষয়ে নিরুৎসাহিত করা, মোবাইল ব্যাংকিং ও এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে রেমিট্যান্স গ্রহণ অনুমোদন করা ইত্যাদি কার্যক্রম হাতে নেয়ার ফলে বৈধ চ্যানেলে প্রবাসী আয় নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে।

চলতি অর্থবছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে পূর্ববর্তী অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় প্রবাসী আয় বেড়েছে ৪৮ দশমিক ৫৪ শতাংশ।

প্রবাসী আয় আমদানি ব্যয় পরিশোধ, লেনদেন ভারসাম্যকে শক্তিশালী করা, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধি করা এবং বৈদেশিক ঋণের দায় পরিশোধে সহায়তা করে। এই আয় একদিকে লেনদেন ভারসাম্যে ইতিবাচক প্রভাব বিস্তারের মাধ্যমে বহিঃখাতকে শক্তিশালী অবস্থানে রাখে, অন্যদিকে অভ্যন্তরীণ চাহিদা বৃদ্ধির মাধ্যমে অর্থনৈতিক কর্মকান্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

বিজ্ঞাপন

অর্থমন্ত্রী বলেন, করোনার কারণে বিদেশে শ্রমিকেরা যেতে পারেনি। শ্রমশক্তির দক্ষতা উন্নয়নের জন্য জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠন এবং এসইআইপি প্রকল্পসহ অন্যান্য দক্ষতাবর্ধক কর্মসূচি গ্রহণের ফলে দক্ষ জনবল তৈরি হচ্ছে। নতুন নতুন শ্রমবাজার খোঁজা হচ্ছে।

কাজেই, করোনা পরবর্তী সময়ে বিদেশে শ্রমবাজার পুরোপুরি চালু হলে দক্ষ জনশক্তি পাঠানো সম্ভব হবে। প্রবাসী আয় আরও বাড়বে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন অর্থমন্ত্রী।

বৈদেশিক মুদ্রা ও রিজার্ভ

অর্থমন্ত্রী বলেন, প্রবাসী আয়ের উপর ভর করে রেকর্ড গড়েছে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ। চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) একদিকে আমদানি ব্যয় কম হওয়া ও অন্যদিকে প্রবাসী আয়ে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধির ফলে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়েই চলেছে। গত বছরের সেপ্টেম্বর মাস শেষে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছিল ৩৯ দশমিক ৩১ বিলিয়ন ডলার। একই বছরের ডিসেম্বর মাস শেষে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৪৩ বিলিয়ন ডলার। যা দিয়ে প্রায় ১০ মাসের আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব।

করোনায়ও অর্থনীতি থেমে নাই দাবি করে সংসদে মুস্তফা কামাল বলেন, করোনাভাইরাস পরিস্তিতি মোকাবিলায় সরকার ২৩টি প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। এর মোট পরিমাণ ১ লাখ ২৪ হাজার ৫৩ কোটি টাকা।

জিডিপির হার ক্রমাগত বেড়েছে। কোভিড-১৯ এর কারণে কিছুটা স্লথ হয়েছে। তবুও এশিয়ার অনেক দেশের চেয়ে আমাদের জিডিপি অনেক ভালো। বর্তমানে জিডিপি ৫ দশমিক ২৪ শতাংশ।

বেড়েছে মাথাপিছু আয়ও, বর্তমানে মাথা পিছু আয় দাঁড়িয়েছে ২০৬৬ ডলার। রপ্তানি আয়ও বেড়েছে।

তিনি বলেন, আমাদের অভীষ্ট লক্ষ্য ২০৪১ সালে উপনীত হওয়া। ওই সময়ে উন্নত অর্থনীতির দেশে উন্নীত হব। খুব শিগগিরই অনুন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হবো আমরা।