চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

করোনা ভ্যাকসিন কূটনীতি: বাংলাদেশ কোনটা পাবে, অক্সফোর্ড নাকি চীন-ভারতের?

ঠিক আজ পর্যন্ত (১৩ জুলাই) বিশ্বের মোট জনসংখ্যা ৭৭৯ কোটি ৭৬ লাখ ৮১ হাজার ৭১১ জন। জনসংখ্যা ও নানা বিষয়ে পরিসংখ্যান নিয়ে কাজ করা ওয়ার্ল্ডোমিটার এ সংখ্যা প্রতি মূহুর্তে আপডেট করে চলেছে এই সংখ্যা। জনসংখ্যার দিক থেকে সবার উপরে রয়েছে চীন (প্রায় ১৪৪ কোটি), আর তারপরে রয়েছে ভারত (১৩৮ কোটি)। আর জনসংখ্যার দিক থেকে বিশ্বের জনবহুল ২০ দেশের তালিকায় ৮ নম্বরে অবস্থান করছে বাংলাদেশ। আজকে পর্যন্ত বাংলাদেশের জনসংখ্যা ১৬ কোটি ৪৭ লাখের কিছু বেশি। বাংলাদেশের আগে ক্রমানুসারে রয়েছে নাইজেরিয়া (প্রায় ২১ কোটি), ব্রাজিল (২১ কোটি), পাকিস্তান (২২ কোটি), ইন্দোনেশিয়া (২৭ কোটি) ও যুক্তরাষ্ট্র (৩৩ কোটি)। বাংলাদেশের পরে ক্রমানুসারে থাকা রাশিয়া (প্রায় ১৫ কোটি), মেক্সিকো, জাপান, ইথিয়পিয়া, ফিলিপিন্স, মিশর, ভিয়েতনামসহ অন্যান্য দেশ রয়েছে জনসংখ্যায় সেরা ২০ দেশের তালিকায়।

করোনার ভ্যাকসিন বিষয়ে কথা বলা বা চিন্তা করার আগে উপরের সংখ্যাগুলো মাথায় রাখা খুবই জরুরি।

বিজ্ঞাপন

জনসংখ্যার ওই বিষয়টি কেন বললাম? কারণ ওই পরিমাণ করোনার ভ্যাকসিনের চাহিদা ইতিমধ্যে তৈরি হয়ে আছে বিশ্বজুড়ে। আর জনবহুল দেশগুলোর অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক ক্ষমতার উপরেই নির্ভর করছে কোন দেশ কতো আগে কোথা থেকে ভ্যাকসিন সংগ্রহ করবে তাদের দেশের জনগণের জন্য। এছাড়া ভ্যাকসিন গবেষণা করা প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন দেশ বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার খরচ করছে তাদের ওইসব গবেষণা কর্মে। নিশ্চয় সেই খরচ তুলে নেয়ার পরিকল্পনা তাদের রয়েছে। কোন দেশের সাথে কোন দেশের কী সর্ম্পক, তাও হয়তো বিবেচনা করবে ভ্যাকসিন আবিষ্কারক দেশ। সবচেয়ে বড় কথা তারা তাদের দেশের বৃহৎ জনসংখ্যার ভ্যাকসিন চাহিদা মিটিয়ে তারপরে অন্যদেশের কথা চিন্তা করতে পারে।

বিজ্ঞাপন

করোনায় আক্রান্ত ও মৃত্যুর কিছু সংখ্যা উল্লেখ করেই করোনা ভ্যাকসিন বিষয়ে মূল বিষয়ে আলোকপাত করবো।

করোনায় আক্রান্ত ও মৃত

ডিসেম্বর ৮, ২০১৯ চীনের উহানে করোনাভাইরাসের লক্ষণের প্রথম রোগী দেখা যায়। এরপর থেকে আসলে পুরো বিশ্ব এক অন্যরকম সময় পার করছে। গত ৮ মার্চ বাংলাদেশে প্রথম করোনা রোগী শনাক্তের পর ১৮ মার্চ প্রথম একজনের মৃত্যু হয়। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির এই যুগে কোভিড-১৯ (করোনাভাইরাস) নামধারী এক ভাইরাস ভয়াবহ তাণ্ডব চালাচ্ছে, আর অসহায়ের মতো তা দেখছে পুরো বিশ্ব। ওয়ার্ল্ডোমিটারের সূত্রমতে আজ (১৩ জুলাই) পর্যন্ত করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ১ কোটি ৩০ লাখ ৪০ হাজারের কিছু বেশি। আক্রান্তের তালিকায় সবার উপরে রয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, সেখানে মোট আক্রান্ত ৩৪ লাখ ১৫ হাজারের কিছুটা বেশি। এরপরে অবস্থান করছে ব্রাজিল (১৯ লাখের কাছাকাছি), ভারত (৯ লাখের কাছাকাছি) ও রাশিয়া (৭ লাখের কিছুটা বেশি)। বাংলাদেশেও আক্রান্তের মিছিলে অনেকটাই সামনের দিকে (তালিকায় ১৭ নম্বরে)। বাংলাদেশে মোট আক্রান্ত প্রায় ১ লাখ ৮৪ হাজার। লাখের বেশি আক্রান্ত দেশ রয়েছে ২২টি। যেদেশে করোনার উৎপত্তি, সেই চীনে মোটা আক্রান্ত ৮৪ হাজারের কিছুটা কম।

করোনায় মৃত্যুর সংখ্যা আর প্রতিদিনের পরিসংখ্যান শুনতে শুনতে বিশ্ববাসী এক সীমাহীন মানসিক যন্ত্রণার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। বহুদেশ বহুপরিবার তাদের অমূল্যবান নাগরিক ও সদস্য হারাচ্ছে প্রতিনিয়ত। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে এমন মানবিক বিপর্যয় আর দেখেনি বিশ্ব। এখন পর্যন্ত (১৩ জুলাই) বিশ্বজুড়ে মোট মৃত্যু ৫ লাখ ৭২ হাজারের কাছাকাছি। আমি নিশ্চিত এই লেখা কিছুদিন পরে পড়লে ওই সংখ্যা আরো বৃদ্ধি পাবে। মৃত্যুর মিছিলে সবার আগে যুক্তরাষ্ট্র, সেখানে মোট মৃত্যু প্রায় ১ লাখ ৩৮ হাজার। এরপরেই রয়েছে ব্রাজিল, যুক্তরাজ্য, মেক্সিকো, ইটালি ও ফ্রান্স। ওইসব দেশে ৭০ হাজার থেকে ৩০ হাজার মানুষ মারা গেছে। আর তালিকায় ১০ হাজারের বেশি মানুষ মারা গেছে মোট ১১টি দেশে। মৃত্যুর সংখ্যা বাংলাদেশ এখনও তুলনামূলক কম বলা যায় অন্য দেশগুলোর তুলনায়। এখন পর্যন্ত ২ হাজার ৩ শ’ ৫২ জনের মৃত্যুর ফলে তালিকার ২৭ নম্বরে অবস্থান করছে বাংলাদেশ।

ভ্যাকসিনের সর্বশেষ চিত্র

এই যখন অবস্থা, তখন পুরো বিশ্বের চিকিৎসা বিজ্ঞানী ও গবেষকরা রাতদিন কাজ করে যাচ্ছেন করোনার ভ্যাকসিন আবিষ্কার করা নিয়ে। বিভিন্ন তথ্যসূত্র মতে অল্প কথায় যদি পুরো ভ্যাকসিন চিত্র তুলে ধরতে হয়, তাহলে বিষয়টি এরকম..
১. প্রিক্লিনিক্যাল ধাপ- বিশ্বের ১২৫টি গবেষণাগারে করোনার ভ্যাকসিন পরীক্ষা চলছে, যেগুলো এখনও মানবদেহে পরীক্ষা করা হয়নি।
২. ফেইজ ওয়ান- ইঁদুর-বানরসহ নানা প্রাণিদেহে পরীক্ষা করা হয়েছে ১৫টি ভ্যাকসিন।
৩. ফেইজ টু- আরও বড় পরিসরে নানা প্রাণিসহ মানব দেহে স্বল্পমাত্রায় পরীক্ষা হয়েছে ১০টি ভ্যাকসিন।
৪. ফেইজ থ্রি- মোটামুটি নিরাপদ বলে মত প্রকাশ করেছেন গবেষকরা এবং মানব দেহে পরীক্ষা করা হয়েছে ৪টি ভ্যাকসিন।
৫. ব্যবহারের অনুমতি- এখন পর্যন্ত বড় আকারে ব্যবহারের অনুমতি মেলার পথে ১টি ভ্যাকসিন।

সবচেয়ে এগিয়ে অক্সফোর্ডের ভ্যাকসিন

ভ্যাকসিন নিয়ে সবচেয়ে বেশি আশা দেখাচ্ছে অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি ও অ্যাস্ট্রাজেনেকা। ইতিমধ্যে ৮ হাজার মানুষের দেহে এই ভ্যাকসিন প্রয়োগ করার অপেক্ষায় আছে, এই ভ্যাকসিনটি শেষ পর্যায়ের ট্রায়াল চলছে। অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির প্রফেসর সারাহ গিলবার্টের নেতৃত্বে এই কাজ চলছে বেশ জোরেশোরে। তিনি ইতিমধ্যে অনেকটাই আত্মবিশ্বাসের সাথেই বলেছেন, এই ভ্যাকসিন করোনায় আক্রান্ত রোগ প্রতিরোধক্ষমতা দুর্বল এমন মানুষের জন্যও একদম নিরাপদ। করোনাভাইরাস

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও অনেকটাই আশা নিয়ে তাকিয়ে আছে এই ভ্যাকসিনটির দিকে। এক কথায় বলা যা, এখন পর্যন্ত যতোগুলো ভ্যাকসিন তৈরির পথে রয়েছে, কার্যকারিতা বিচারে এগিয়ে রয়েছে অক্সফোর্ড। ভ্যাকসিনটি তৈরি করেছে অ্যাস্ট্রাজেনেকা। চলতি জুলাই মাসে এই ভ্যাকসিন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ৩০ হাজার, ইংল্যান্ডের ১০ হাজার এবং ব্রাজিলের অন্তত দুই হাজার স্বেচ্ছাসেবকের ওপর চূড়ান্ত পর্বের ট্রায়াল শুরু হচ্ছে। চূড়ান্ত সতর্ক থেকে দ্রুততার সাথে তারা কাজ করে যাচ্ছে বলে তাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। অক্সফোর্ডের তৈরি ভ্যাকসিনটির গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো করোনা আক্রান্তের দেহে এই ভ্যাকসিন একবার প্রয়োগ করলে পরবর্তী এক বছর এর কার্যকারিতা থাকবে শরীরে। মানবদেহে করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে অ্যান্টিবডি তৈরিতেও সাহায্য করবে এই ভ্যাকসিন।

অক্সফোর্ডের পরেই চীনের ভ্যাকসিন

বিজ্ঞাপন

অক্সফোর্ডের পরেই করোনা ভ্যাকসিন তৈরিতে সবচেয়ে সফল হিসেবে ধরা হচ্ছে চীনের সিনোভ্যাক বায়োটেককে। সিনোভ্যাক বায়োটেকের দাবি, তাদের তৈরি ভ্যাকসিন নিরাপদ এবং বিভিন্ন পরীক্ষায় ৯০ শতাংশ ইতিবাচক ফল পাওয়া গেছে। চীনে তারা প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপের পরীক্ষার পরে এই ঘোষণা দিয়েছে। ৭৪৩ জন স্বাস্থ্যবান স্বেচ্ছাসেবীর উপরে এটি পরীক্ষা করা হয়েছে, যাদের ৯০ শতাংশের কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দেয়নি বলে তাদের দাবি। তাদের ভ্যাকসিন ব্রাজিলে ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের অনুমতিও পেয়েছে। ব্রাজিলের সাও পাওলোতে অবস্থিত ইনস্টিটিউট বুটান্টানে ভ্যাকসিনটির পরীক্ষার পরে ব্রাজিলে প্রায় ৯ হাজার মানুষের ওপর পরীক্ষামূলক প্রয়োগ করা হবে। সিনোভ্যাক দাবি করেছে, ট্রায়ালে কার্যকারিতা প্রমাণিত হওয়ায় ১০ কোটির বেশি ডোজ উৎপাদনে যেতে এখন শুধু কর্তৃপক্ষের ছাড়পত্রের অপেক্ষায় রয়েছে তারা। সিনোভ্যাকের করোনা ভ্যাকসিনটির তৃতীয় ও চূড়ান্ত ধাপের ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল চীনের পরীক্ষাগারের পাশাপাশি ব্রাজিলেও করা হবে।

অন্যান্য ভ্যাকসিনের কী অবস্থা?

অক্সফোর্ড ও সিনোভ্যাকের পরে বেশ ভাল অবস্থানে আছে যুক্তরাষ্ট্রের মডার্না ও চীনা জাতীয় ফার্মাসিউটিক্যাল গ্রুপের (সিনোফার্মা) ভ্যাকসিন। তারাও বিভিন্ন ফেইজের পরীক্ষা শেষে বেশ আশাবাদী। দ্বিতীয় ধাপের পরীক্ষায় সফল ফলাফল পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে মডার্না। জুলাইয়ে তৃতীয় ধাপের পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়েছে তারা। সফল হলে ২০২১ সালে বাজারে ভ্যাকসিন ছাড়বে মডার্না।

চীনের মোট ১৯টি টিকার মধ্যে ৮টিই এখন মানুষের ওপর ট্রায়াল চালাচ্ছে। একটি টিকার পরীক্ষামূলক প্রয়োগের জন্য সরকারি প্রতিষ্ঠান ও সামরিক বাহিনীকে অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিকেল রিসার্চ (আইসিএমআর) তথ্যমতে, মোট ৬টি ভারতীয় সংস্থা ভ্যাকসিন তৈরি করছে। এরমধ্যে কো-ভ্যাকসিন আর জাইকোভ-ডি অনেকটাই এগিয়ে আছে বলে তারা জানিয়েছে। কো-ভ্যাকসিনকে মানবদেহে পরীক্ষার অনুমতি দিয়েছিল ড্রাগ কন্ট্রোল অব ইন্ডিয়া। তবে ভারত বায়োটেক সম্প্রতি জানায়, তাদের এ বছর বাজারে আসার কোনো সম্ভাবনা নেই।

এছাড়া জার্মানির বায়োএনটেকের সঙ্গে রয়েছে নিউইয়র্কের ফিজার ও চীনের ফোশুন ফার্মা। তারা ভ্যাকসিনের প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপের পরীক্ষা সফল করেছে। চূড়ান্ত সফল হলে এ বছরই অক্টোবরে ভ্যাকসিনটি বাজারে আনবে তারা। পিছিয়ে নেই যুক্তরাজ্যের ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডনের ভ্যাকসিন, তারাও প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপের পরীক্ষা চালিয়েছে। গত ১৫ জুন তারা ভ্যাকসিনটি উৎপাদন ও বাজারজাতকরণের জন্য মর্নিংসাইড ভেঞ্চারের সঙ্গে চুক্তি করেছে।

প্রযুক্তির দেশ জাপানের এনজেস, ওসাকা ইউনিভার্সিটি ও তাকারা বায়োর সঙ্গে মিলে তৈরি করছে আরেকটি ভ্যাকসিন। তারাও প্রথম ও দ্বিতীয় পর্যায়ে পরীক্ষায় সফলতার দাবি করেছে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের ইনোভিউ, জার্মানি ও যুক্তরাষ্ট্রের কিউরভ্যাক, কোরিয়ার জেনেক্সিন, মাল্টিন্যাশনাল সানোফি, চীনের ক্যানসিনো বায়োলজিকস, রাশিয়ার গামালায়া রিসার্চ ইনস্টিটিউট, যুক্তরাষ্ট্রের জনসন এন্ড জনসন, সুইডেনের নোভার্টিস ও ম্যানচেস্টার আই অ্যান্ড ইয়ার, যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রিয়ার গবেষণা প্রতিষ্ঠান মার্ক, মেরিল্যান্ডের নোভাভ্যাক্স, ক্লোভার বায়োফার্মাটিক্যালস, যুক্তরাজ্যের জিএসকে ও যুক্তরাষ্ট্রের ডায়নাভ্যাক্সও আশা জোগাচ্ছে করোনাভাইরাসকে রুখে দেবার লড়াইয়ে।

ভ্যাকসিন কূটনীতি ও বাংলাদেশ

বাংলাদেশেও করোনার ভ্যাকসিন তৈরির খবরে আলোচনায় এসেছে। গ্লোব ফার্মাসিউটিক্যালস গ্রুপ অব কোম্পানিজ লিমিটেডের সহযোগী প্রতিষ্ঠান গ্লোব বায়োটেক লিমিটেড ভ্যাকসিন তৈরিতে গবেষণা ও কাজ শুরুর বিষয়ে তথ্য দিয়েছে। গত ৮ মার্চ থেকেই তারা কাজ করছে বলে জানানোর পাশাপাশি আগামী ৬/৭ সপ্তাহের মধ্যে নানারকম পরীক্ষার পরে তারাও সুখবর দিতে পারবে বলে জানিয়েছে।

বাংলাদেশে করোনা ভ্যাকসিন তৈরি এখনই না হলেও চীনের সিনোভ্যাক ও অক্সফোর্ডের ভ্যাকসিনের ট্রায়াল দেশে চলবে বলে বিভিন্ন সূত্রে সংবাদ প্রকাশ হয়েছে। শিগগিরই ৪ হাজার মানুষের ওপর সিনোভ্যাকের ভ্যাকসিনের ট্রায়ালে সফলতা আসলে ওই ভ্যাকসিন পাওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাবে বাংলাদেশ। চীন সরকারের পক্ষ থেকে বিবৃতিতেও বাংলাদেশের অগ্রাধিকার বিষয়টি সামনে এসেছে।

আগেই একবার বলেছি, যেসব দেশ বেশি আক্রান্ত এবং যেসব দেশের অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক ক্ষমতা বেশি তারাই হয়তো আগেভাগে করোনা ভ্যাকসিন পেতে চাইবে তাদের জনগণের জন্য। যুক্তরাষ্ট্র, চীন, ভারত, রাশিয়া, ব্রাজিলের মতো পরাশক্তিগুলো যেকোনো মূল্যে তা করবে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতিমধ্যে হাইডক্সিক্লোরোকুইন আর রেমডিসিভির নিয়ে যে অস্থিরতা দেখিয়েছেন, তাতে নিশ্চয় বুঝতে বাকি নেই কী হতে যাচ্ছে সামনের দিকে। এছাড়া নোবেলজয়ী ও বিশ্বের নামকরা অনেকে বিষয়টি আঁচ করতে পেরে বিবৃতিও দিয়েছেন। তারা বলেছেন, করোনার ভ্যাকসিনের পাবার অধিকার বিশ্বের সবারই আছে।

এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের প্রস্তুতি আসলে কী? ৭৭৯ কোটি ৭৬ লাখ ৮১ হাজার ৭১১ জনের এই পৃথিবীতে ১৬ কোটি মানুষের এই বাংলাদেশ তার জনগণের জন্য কী পদক্ষেপ নিচ্ছে, এটা সরকারকে পরিষ্কার করতে হবে এবং সে অনুসারে কাজ করতে হবে। করোনাভাইরাস শুধুমাত্র যে স্বাস্থ্যগত সমস্যা যে না, তা ইতিমধ্যে সবাই বুঝে গেছে। করোনা ভ্যাকসিনের দাম কেমন হবে, কোন দেশ তৈরি করবে, দেশের ওষুধ কোম্পানিগুলো দ্রুত তৈরি করতে পারবে কিনা, করোনার টিকার কাঁচের বোতল-সিরিঞ্জের মজুদ, কোন দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের কী সর্ম্পক এসব বিবেচনা করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, অর্থ মন্ত্রণালয় ও ওষুধ প্রশাসনসহ সবাইকে আগে থেকে বিশ্লেষণ করে নানামুখী প্রস্তুতি নিয়ে রাখতে হবে। দেশে মার্চে দেখা দেয়া করোনার শুরুতে এন৯৫ মাস্ক আর পিপিই নিয়ে প্রস্তুতির অভাবে যেধরণের আত্মঘাতি সঙ্কট তৈরি হয়েছিল, ভ্যাকসিনের বিষয়ে যেনো তা না হয়। এটি আসলে সময়ের দাবি।

(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। চ্যানেল আই অনলাইন এবং চ্যানেল আই-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)