চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

করোনা ভ্যাকসিনের প্রথম পরীক্ষামূলক প্রয়োগ

বিশ্ববাসী তাকিয়ে আছে করোনার ভ্যাকসিনের দিকে। কবে আসবে ভ্যাকসিন। আশার কথা হলো যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা মানবদেহে প্রথম করোনাভাইরাস ভ্যাকসিনের পরীক্ষামূলক প্রয়োগ করেছে।

বিবিসি বলছে, বৃহস্পতিবার অক্সফোর্ডের দুজন স্বেচ্ছাসেবী বিজ্ঞানীর শরীরে প্রথম করোনা ভ্যাকসিন প্রয়োগ করা হয়।

বিজ্ঞাপন

এই ভ্যাকসিন নিয়ে কাজ করার জন্য অক্সফোর্ডের জেনার ইনস্টিটিউটের ৮০০ কর্মী নিয়োগ করা হয়। এর অর্ধেক কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন গ্রহণ করবে এবং বাকি অর্ধেক নিয়ন্ত্রণ ভ্যাকসিন। কিন্তু তারা কেউ জানবেন না যে তারা কোন ভ্যাকসিন গ্রহণ করছেন।

ভ্যাকসিন গ্রহণকারীদের অন্যতম একজন এলিসা গ্রানাটো বিবিসিকে বলেছেন, আমি একজন বিজ্ঞানী। তাই আমি যেখানেই পারি বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়াটি সমর্থন করতে চেয়েছিলাম।

বিজ্ঞাপন

অক্সফোর্ডের বিশ্ববিদ্যালয় ব্রিটিশ সরকার ও ব্রিটেনের কয়েকটি দাতব্য সংস্থার অর্থায়নে ২০০৫ সালে গড়ে তোলা হয় জেনার ইনস্টিটিউট। সংক্রমণজনিত রোগ নিয়ে গবেষণা আর টিকা তৈরি এই প্রতিষ্ঠানের উদ্দেশ্য। এই প্রতিষ্ঠানের প্রধান বিজ্ঞানী ড. সারাহ গিলবার্ট। তার নেতৃত্বেই তিন মাসের কম সময়ে করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন তৈরি করা হয় এবং পরীক্ষামূলক প্রয়োগ করা হলো গতকাল।

তিনি বলেছেন, ব্যক্তিগতভাবে আমার এই ভ্যাকসিনের প্রতি উচ্চতর আত্মবিশ্বাস রয়েছে।  অবশ্যই আমাদের এটি পরীক্ষা করতে হবে এবং মানুষের কাছ থেকে তথ্য নিতে হবে। বিস্তৃত জনগোষ্ঠীর ভ্যাকসিন ব্যবহারের আগে আমাদেরকে প্রমাণ করতে হবে যে, এই ভ্যাকসিন করোনাভাইরাস আক্রান্ত বন্ধ করছে।

অক্সফোর্ডের এই গবেষক দল আশা করছে যে, সবকিছু ঠিক থাকলে চলতি বছরের সেপ্টেম্বর নাগাদ ভ্যাকসিন তৈরি হয়ে যাবে। আর কোনো ভুল হলে অপেক্ষা করতে হবে এখন থেকে অন্তত ১ বছর থেকে ১৮ মাস।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, ভ্যাকসিন তৈরি হওয়া অবধি করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে বিশ্ববাসীকে যুদ্ধ করতে হবে। ইতোমধ্যে ভ্যাকসিন তৈরিতে সারাবিশ্বে প্রায় ৭০টির মতো গবেষক দল কাজ করছে।