চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

করোনা ভাইরাস: একবার সুস্থ হলে পুনরায় আক্রান্ত হবেন না

মানুষের মধ্যে ভয় আছে যে, করোনা ভাইরাস রোগীরা একবার সুস্থ হলে পুনরায় আক্রান্ত হবে কি না ? দক্ষিণ কোরিয়ার স্বাস্থ্যবিভাগ সমাপ্তি টেনেছে , করোনা ভাইরাস থেকে সুস্থ হওয়ার পরও পুনরায় আক্রান্ত হওয়ার লক্ষণগুলো সত্যিকার অর্থে টেস্টের দুর্বলতার সমস্যার কারণে হয়।

বিজ্ঞানীরা মানুষের মধ্যে ভয় ঢুকিয়ে দিয়েছেন যে, চীন,জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার যেসব করোনা রোগী সুস্থ হয়েছেন,তাদের দীর্ঘমেয়াদী রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরী হবেনা। এ কারণে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র নেয়ার কয়েক সপ্তাহ পরে যারা দ্বিতীয়বার টেস্ট করেছে তাদের পজিটিভ রিপোর্ট এসেছে । কিন্তু দক্ষিণ এশিয়ার বিশেষজ্ঞ প্যানেলের মতে, যারা পুনরায় টেস্ট পজিটিভ, তাদের শরীরে হয়ত ভাইরাসের কিছু অংশবিশেষ অবশিষ্ট ছিল তাই তাদের টেস্ট পজিটিভ এসেছে।

বিজ্ঞাপন

তারা বলেছেন ভাইরাসের অবশিষ্ট কিছু অংশ পুনরায় শরীরকে আক্রান্ত করতে পারে এমন সম্ভাবনা একদমই নেই বা খুবই কম। পুনরায় টেস্ট করা রোগীদের স্ট্যান্ডার্ড ধরনের টেস্ট ব্যবহার করা হয়েছিল যা বিশ্বজুড়ে ব্যবহার করা হয়। এই সংবাদ অন্যান্য দেশকে আশ্বস্ত করতে পারবে এই ভয় থেকে যে, সুস্থ হওয়া ব্যক্তির পুনরায় আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা নেই।

বিজ্ঞাপন

অধ্যাপক কেরল সিকোরা, ডীন মেডিসিন বিভাগ, ইউনিভার্সিটি অফ বাকিংহাম এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ক্যান্সার প্রোগামের পূর্ববর্তী পরিচালক বলেছেন যে, দীর্ঘমেয়াদী রোগ প্রতিরোধের জন্য এটি একটি বড় প্রতিষেধক ডোজ। অনেক বিজ্ঞানীরা এই রিপোর্টগুলো নিয়ে চিন্তিত ছিলেন।করোনা টেস্টে মানব নমুনায় সাধারণত ভাইরাসের যে জেনেটিক উপাদান নির্ণয় করা হয় সেটি হলো আর এন এ, কিন্তু টেস্ট এটা বলতে পারেনা যে, এটা জীবিত অথবা নগণ্য ক্ষতিকর অংশ যেটা কিনা শরীরে রয়ে গেছে যদিও শরীর সুস্থ হয়ে গেছে। কমিটি একটি বক্তব্যে বলেছে,ভাইরাসের আর এন এ অংশ একটি কোষের ভিতরে থাকতে পারে যদিও ভাইরাসটি তখন অকার্যকর।

বিজ্ঞাপন

এটা হয়ে থাকতে পারে যে, যখন সুস্থ ব্যক্তিকে পুনরায় পরীক্ষা করানো হয়েছে,তখন টেস্টে ভাইরাসের আর এন এ কে নির্ণয় করা হয়েছে,যেটা ইতিমধ্যে অকার্যকর হয়ে পড়েছে। যেটার কিনা পুনরায় কোষকে আক্রান্ত করার সম্ভাবনা একদমই নেই বা খুবই কম।

রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা রোগের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে ফুসফুসের আক্রান্ত কোষকে আঘাত করে। কমিটি প্রধান ওহ মায়োর-ডন বলেন, করোনা ভাইরাস শরীর থেকে বের হয়ে যাওয়ার পরেও আর এন এ একটি কোষের ভিতরে এক বা দুই মাস চিহ্নিত করা যায় । যেটা অকার্যকর । যেটার কিনা পুনরায় কোষকে আক্রান্ত করার সম্ভাবনা একদমই নেই বা খুবই কম।

তিনি আরও বলেন, করোনা ভাইরাস এইচ আই ভি, হেপাটাইটিস বি ভাইরাসের মত দীর্ঘস্থায়ী কোন অসুখ তৈরী করে না। কারণ এইচ আই ভি ও হেপাটাইটিস-বি ভাইরাস চিকিৎসা ব্যাহত হলে মানুষের কোষকে পুনরায় আক্রান্ত করতে পারে।

(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। চ্যানেল আই অনলাইন এবং চ্যানেল আই-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)