চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

করোনা পরীক্ষার গাফিলতিতে দক্ষিণ এশিয়ায় সংক্রমণ কম?

বিশ্বে জনসংখ্যার এক  চতুর্থাংশ সত্ত্বেও দক্ষিণ এশিয়ায় এ পর্যন্ত করোনাভাইরাস সংক্রমণের হার তুলনামূলকভাবে অনেকটাই কম। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এর অন্যতম কারণ হলো দেশগুলোতে করোনা নমুনা পরীক্ষার জালিয়াতি এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মানদণ্ড না মেনে কম নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা।

বিবিসির প্রতিবেদনে বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, ভুটান, আফগানিস্তান ও মালদ্বীপের করোনা সংক্রমণ সংক্রান্ত বিশদ পরিসংখ্যান তুলে ধরা হয়েছে ।

বিজ্ঞাপন

প্রতিবেদনে বিশেষজ্ঞরা জানান, পশ্চিমা দেশগুলোর তুলনায় দক্ষিণ এশিয়ায় সংক্রমণের গতি কম মনে হওয়ার অন্যতম কারণ হলো, এখানে পরীক্ষা কম হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

তবে গত ৩০ দিনের ব্যবধানে ভারতে হঠাৎ যে হারে করোনা রোগী বেড়েছে সার্কভুক্ত গোটা অঞ্চলে এখনো এ ভাইরাস ততটা দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে দেখা যায়নি।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতে করোনা ভাইরাস সংক্রমণ বেড়ে ১১ লাখ ছাড়িয়েছে। বিশ্বে আক্রান্তের দিক থেকে দেশটি ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, ব্রাজিলের পর তৃতীয় অবস্থান দখল করেছে।

ভারতের বিশাল জনগোষ্ঠির জন্য এই সংখ্যাটি হয়ত অবাক হওয়ার মতো নয়, তবে এর প্রভাব পড়ছে ভারতের আশেপাশের প্রতিবেশী দেশগুলোতে।

লক্ষ্য করলে দেখা যাবে ভারতের পরে পাকিস্তান, বাংলাদেশ, নেপাল, শ্রীলঙ্কা এবং আফগানিস্তানেও করোনা শনাক্ত রোগী প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এমনকি শুধু মাত্র ২০ দিনের ব্যবধানে বিশ্বে করোনা ভাইরাসের হটস্পটে পরিণত হয়েছে দক্ষিণ এশিয়ার এই দেশটি।

যেখানে গত জুনের ২০ তারিখ আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ১৫ হাজার ৯১৫ সেখানে ২০ জুলাই অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানে আক্রান্ত সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪০ হাজার ৪২৩ জন। ৩০ দিনের মধ্যে করোনায় ১ দশমিক ১৫ শতাংশ মানুষ আক্রান্ত হয়েছে।

তবে বিশ্বের বেশিরভাগ দেশে মে ও জুনের পর থেকে করোনা সংক্রামণ নিম্নমুখী হলেও ভারতের চিত্র কিছুটা ভিন্ন।

দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর করোনা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায়, ভারতের পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আক্রান্ত এবং মৃত্যু বেশি পাকিস্তানে। দেশটিতে জুনের মাঝামাঝিতে প্রতিদিন ৬ হাজার মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয়। তবে জুলাইতে এসে তা কমে ২ হাজার হয়েছে।

একইভাবে,বাংলাদেশে ২০ জুলাইয়ের হিসেবে ২ লাখ ৪ হাজার ৫২৫ জন ব্যক্তি করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। যা জুন এবং জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ।

বিজ্ঞাপন

দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে করোনার পরিস্থিতি কিছুটা ভয়াবহতার দিকে যাচ্ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা, সম্প্রতি ২৮ দিনে সংক্রমণ দ্বিগুন বৃদ্ধি পাওয়া তারই আশঙ্কা।

জনসংখ্যর দিক দিয়ে প্রায় এক চতুর্থাংশ স্থান দখল করে রেখেছে সাউথ এশিয়ার দেশগুলো। তবে বিশ্বে করোনায় আক্রান্ত দেশগুলোর মধ্যে ১১ শতাংশ সংক্রমণ হয়েছে এই অঞ্চলে।

ভাইরাসবিদ ডাঃ শহীদ জামিল বলেছেন, করোনায় সাউথ এশিয়ার দেশের মধ্যে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে সবচেয়ে বেশি সংক্রমণ হয়ছে ভারতে, কিন্তু অন্যান্য দেশে আক্রান্তের সংখ্যাটি কম।

তিনি আরও বলছেন, যেসব দেশে নমুনা পরীক্ষা যত বেশি হচ্ছে সেই দেশে আক্রান্তের সংখ্যা তত বেশি। তবে জনসংখ্যার এবং আকারের সাথে তুলনা করলে ভারতের অবস্থা এখন ও ততটা প্রতিকূলে নেই।

এমনকি প্রতিনিয়ত ভারতে নমুনা পরীক্ষার পরিমাণ বাড়ছে, এ পর্যন্ত ১ কোটি ৩ লাখ করোনা পরীক্ষা হয়েছে, যেখানে পাকিস্তানে ১০ লাখের মতো নমুনা সংগ্রহ হয়েছে।

তবে বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় সাউথ এশিয়ার দেশগুলোতে করোনার নমুনা পরীক্ষার হার অনেক কম।

পাকিস্তানে প্রতিদিন ৩১ হাজার করোনার নমুনা সংগ্রহ করা হয় কিন্তু গত জুনের শেষের দিকে এই সংখ্যা অনেক কমে গেছে। এবং দেশটিতে করোনার উপসর্গ ছাড়া কোন ব্যক্তির নমুনা গ্রহণ করা হচ্ছে না।

বাংলাদেশে করোনার সংক্রমণের প্রবণতা নিম্নমুখী এবং জাল করোনা রিপোর্ট কেলেঙ্কারির কারণে বাংলাদেশে করোনার পরীক্ষা নির্ভরযোগ্যতাও এখন প্রশ্নবিদ্ধ।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা করোনা পরীক্ষার একটি মানদণ্ড নির্ধারণ করে দিয়েছিল, যেখানে প্রতি ১০ থেকে ৩০ জনের মধ্যে আলাদা আলাদা নমুনা সংগ্রহ করে পর্যাপ্ত পরীক্ষা করে সঠিক রিপোর্ট দিতে হবে।

বিবিসির প্রতিবেদনে বাংলাদেশে করোনা চিত্রে বলা হয়েছে, এখানে ২৬ থেকে ৩০ জনের মধ্যে একজন করোনা রোগী শনাক্ত হচ্ছে, প্রতি পাঁচজনের একজন করোনা পজিটিভ রোগী চিহ্নিত হওয়ার রেকর্ড রয়েছে। যা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মানদণ্ডের নিচে রয়েছে।

নেপাল, আফগানিস্তান এবং শ্রীলঙ্কায় করোনার সংক্রমণ কম দেখা যাচ্ছে। কিন্তু যেখানে নেপালে ৩ লাখ করোনার নমুনা সংগ্রহ হয়েছে, যেখানে দিনে মাত্র ৪ হাজার করোনা পরীক্ষা হচ্ছে।

অন্যদিকে আফগানিস্তানের করোনা পরিসস্থিতি নিয়ে কোন তথ্যই পাওয়া যাচ্ছে না, বিষয়টি নিয়ে রেড ক্রিসেন্ট সম্প্রতি উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে দেশটিতে করোনার যে তথ্য দেওয়া হয়েছিল তার চেয়েও অনেক বেশি করোনা সংক্রমণ হতে পারে।