চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

করোনা পরবর্তী পর্যটন শিল্প-হসপিটালিটি খাত নিয়ে ইইউবিতে ভার্চুয়াল বৈঠক

ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ-এর ফ্যাকাল্টি ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড ইভ্যালুয়েশনের উদ্যোগে ‘করোনা পরবর্তী পর্যটন শিল্প-হসপিটালিটি খাতে আমাদের সম্ভাবনা এবং করণীয়’ বিষয়ে ভার্চুয়াল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় এ আলোচনা অনুষ্ঠান শুরু হয়।

বিজ্ঞাপন

অনুষ্ঠান আয়োজন করেছে ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ। আলোচনায় অংশ নেন বিজনেস অ্যাডমিন্সট্রেশন বিভাগের অ্যাসোসিয়েট ডিন ড. ফারজানা আলম, ঢাকা রিসোর্ট লিমিটেডের স্বত্বাধিকারী মো. সাজিবুল আল রাজীব,  আপডেট কলেজের অধ্যক্ষ সাইফুল ইসলাম,

ইইউবির ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্টের লেকচারার অ্যান্ড কোর্স কো-অর্ডিনেটর আসিফা আজাদ নিটোল এবং ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্টের লেকচারার বিপাশা সুকরানা।

বিজ্ঞাপন

আলোচনার অংশ নিয়ে সাইফুল ইসলাম বলেন: কোভিড পরবর্তী পর্যটন শিল্প বলতে গেলে স্থবির হয়ে পড়েছে। এর কারণ হচ্ছে মানুষকে যাতায়াত করতে দেয়া হচ্ছে না। পৃথিবীতে ৫৮শতাংশ ভ্রমণ হয় হচ্ছে আকাশপথে এবং ৩৭শতাংশ হয় সড়কপথে। আকাশপথের যাতায়াত চার পাঁচ মাস পুরোপুরি বন্ধ ছিল। বলা যায় কোভিডের আগে যে পর্যটন শিল্প যে অবস্থায় ছিলো সেখানে ফেরা সম্ভব হবে না কারণ এ শিল্পে অনেক নতুনত্ব যোগ হবে।

বিপাশা সুকরানা বলেন : ২০২০সালকে পর্যটন শিল্পের জন্য অনেক ইতিবাচক একটা বছর মনে করা হয়েছিল। কোভিডের ফলে পর্যটন শিল্পে আয় কমেছে ৯৬শতাংশ। বাংলাদেশ এক্ষেত্রে ৪৭০মিলিয়ন ইউএস ডলার ক্ষতির মুখে পড়ছে। বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পের সাথে প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে ৪০লাখ মানুষ যুক্ত রয়েছে। তবে লকডাউন পরবর্তী সময়ে আমাদের স্থানীয় পর্যটন শিল্পে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে।

মো.সাজিবুল আল রাজীব বলেন: থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, সিংগাপুর, চাইনা এবং ইউরোপের বিভিন্ন দেশ লকডাউনের সময় সবদেশের পর্যটন পুরোপুরি স্থবির ছিল। তবে পরিস্থিতি বদলাচ্ছে। বাংলাদেশে গত পাঁচ বছরে বাইরের পর্যটক অনেক বেশি এসেছিল। বাংলাদেশের বিভিন্ন গ্রাম, কক্সবাজার, সিলেট এবং যেসব ঐতিহাসিক স্থান রয়েছে সেগুলো দেখার জন্যও বাইরের অনেক পর্যটক আসতো। করোনার প্রভাবে সে পরিস্থিতি বদলে গেছে। এ শিল্পে ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫,৭০০কোটি টাকা।
আসিফা আজাদ নিটোল: বাংলাদেশে পর্যটন শিল্পের অর্থনৈতিক অবদান প্রায় ৪দশমিক ৪শতাংশ। এ খাতের উন্নয়নে বাংলাদেশ পর্যটন বোর্ড রিকভারি পরিকল্পনা প্রণয়ন করেছে, এ পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে পর্যটন শিল্প ঘুরে দাঁড়াবে এ আশাবাদ ব্যক্ত করছি।

ড. ফারজানা আলম বলেন: সমস্ত সমস্যা যা নিয়ে যায় তার চেয়ে অনেক বেশি দিয়ে যায়। আমি এ পরিস্থিতিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখতে চাই। একটা ভ্যাকসিন আসলেই পরিস্থিতি পরিবর্তন হয়ে যাবে। করোনা আমাদের অনেক অভ্যাস পরিববর্তন করে দিয়েছে। একটা বিষয়ে আমার আশঙ্কা জাগে যে, আমরা কি ইকো ট্যুরিজমের ব্যাপারে মনোযোগী? খুব বেশি ব্যবসায়িক আচরণ করে ফেললে, যে ক্ষতি হবে ঐ ক্ষতির প্রভাব আমরা গ্রহণ করতে পারবো না। আমরা যে কারণে প্রকৃতির কাছে যেতে চাই, সেখানে যদি প্রকৃতিই ক্ষতির মুখে পড়ে তাহলে আমরা বাজার হারাবো।

অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেছেন ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের পাবলিক রিলেশন অফিসার  রাশিদা স্বরলিপি। টেকনিক্যাল সাপোর্ট দিয়েছেন ইমরান নাজির।