চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

করোনা নিয়ে যুক্তরাজ্যকে ইটালির ঔপন্যাসিকের চিঠি

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে রোমে লকডাউনের কবলে পড়ার অভিজ্ঞতা নিয়ে ইটালির ঔপন্যাসিক ফ্রান্সেসকা মেলানড্রি চিঠি লিখেছেন ব্রিটেনকে।

তিনি চিঠিতে লিখেন: আমি আপনাকে ইটালি থেকে লিখছি, যার অর্থ আমি আপনার ভবিষ্যত থেকে লিখছি। আমরা এখন যেখানে আছি আপনারাও কয়েকদিনের মধ্যে সেখানে  থাকবেন। মহামারির চার্ট আমাদের সবাইকে একটি সমান্তরাল অবস্থানে নিয়ে এসেছে।

বিজ্ঞাপন

‘সময়ের দিক থেকে উহান যেমন আমাদের থেকে কয়েক সপ্তাহ এগিয়ে ছিল। আমরাও আপনাদের থেকে কয়েক ধাপ এগিয়ে। আমরা যেমন আচরণ করেছিলাম আপনারাও ঠিক তেমন আচরণ করছেন। কিছুদিন আগে করোনা নিয়ে আমরা যে যুক্তিগুলো দেখিয়েছি একই যুক্তিগুলো আপনারা দেখাচ্ছেন। এখনও অনেকে করোনাকে শুধু ফ্লু হিসেবে দেখছেন।

বিজ্ঞাপন

আমরা ইটালিতে থেকে আপনাদের ভবিষ্যত দেখছি। আপনারা অনেককেই নিজের বাড়িতে বন্দী করে দেওয়ার কথা বলছেন। সেক্ষেত্রে কেউ কেউ অরওয়েলের উদ্ধৃতি, এমনকি হবসেরও উদ্ধৃতি দিয়েছেন। তবে আপনারাও শীঘ্রই ঘর থেকে বের হওয়ার জন্য খুব ব্যস্ত হয়ে উঠবেন।

কীভাবে আপনার ফ্রি সময়কে কার্যকর উপায়ে ব্যয় করতে হয় তার জন্য টিউটোরিয়ালসহ কয়েক ডজন সামাজিক নেটওয়ার্কিং গ্রুপ খুঁজে পাবেন। তারপরেও কিছুদিন পর এগুলো ভালো লাগবে না। বাসায় বসে যে সাহিত্যের বই পড়বেন তাতেও তেমন আগ্রহ পাবেন না।’

তিনি আরও লিখেন: ‘আপনাকে খেতে হবে, আপনি ভালো করে ঘুমাতেও পারবেন না।আপনি নিজেকে জিজ্ঞেস করবেন গণতন্ত্রে হচ্ছে কী?

আপনি আপনার প্রাপ্তবয়স্ক বাচ্চাদের মিস করবেন যেটি আগে কখনও হয়নি। অনেক নারী বাসায় এর মধ্যে অত্যাচারের শিকার হবে।

বাড়িতে থাকতে পারেন না তাদের দেখে আপনি অবাক হয়ে যাবেন। আবার নির্জন রাস্তায় শপিং করতে বেরোনোর সময় আপনি দুর্বল বোধ করবেন, বিশেষত আপনি যদি একজন মহিলা হন। আপনারা নিজেকে জিজ্ঞাসা করবেন যে এভাবেই সমাজ ভেঙে পড়ে কিনা। আসলেই কি এত দ্রুত ঘটে? আপনি এই চিন্তাগুলো অবরুদ্ধ করবেন এবং ঘরে ফিরে আপনি আবার খাবেন।

বিজ্ঞাপন

সামাজিক দূরত্বের কারণে আপনি আপনার বন্ধু এবং প্রেমিকদের সাথে সুপারমার্কেটে দেখা করতেও পারবেন না।’

এই ঔপন্যাসিক লিখেছেন: ‘আপনি যখন বারান্দায় দাঁড়িয়ে গান শুনবেন। তখন দেখবেন আমরাও বারান্দায় দাঁড়িয়ে ওপেরা শুনছি। তখন আপনি ভাববেন ওহ ইটালিয়ান। তবে আমরা জানি আপনি একে অপরের কাছেও উত্সাহী গানগুলো গাইবেন। যখন আপনি আপনার বারান্দায় বেঁচে থাকবেন তখন আমরা আপনাকে দেখব এবং ঠিক যেমন উহানের লোকদের ফেব্রুয়ারিতে তাদের বারান্দায় থেকে গান গেয়েছেন। তারাও এখন আমাদের দেখছে।

আপনারা অনেকে এই শপথ করে ঘুমিয়ে যাবেন যে লকডাউন শেষ হওয়ার সাথে সাথে ডিভোর্সের কাজটি প্রথম করবেন। অনেক শিশু গর্ভধারণ করবে।

আপনার বাচ্চাদের অনলাইন স্কুলে পাঠানো হবে। তারা ভয়াবহ উপদ্রব হবে, তারা আপনাকে আনন্দও দেবে।’

তিনি লিখেছেন: ‘করোনা থেকে মুক্তি পেতে বয়স্কদের বাসায় রাখতে বেগ পেতে হবে। তাদের বাসায় ধরে রাখতে রীতিমত যুদ্ধ করতে হবে। আপনি আইসিইউর ভিতরে একাকী মৃত্যু সম্পর্কে চিন্তা না করার চেষ্টা করবেন।

আপনি গোলাপের পাপড়ি দিয়ে সকল স্বাস্থ্যকর্মীদের অভ্যর্থনা দিতে চাইবেন।

আপনাকে বলা হবে যে সমাজ ঐক্যবদ্ধ হয়েছে, আমরা সকলেই একই নৌকায় বসে। এই অভিজ্ঞতাটি পরবর্তীতে কাজে দেবে।

আমরা ইটালিতে রয়েছি এবং আমরা আপনার ভবিষ্যতে এ বিষয়গুলো ঘটবে এটি জানি। তবে এটি কেবলমাত্র ছোট আকারের ভবিষদ্বাণী বলা চলে।

যদি আমরা আরও দূরের ভবিষ্যতের দিকে আমাদের নজর রাখি, ভবিষ্যৎ আপনার এবং আমাদের উভয়েরই অজানা, আমরা কেবল এটি আপনাকে বলতে পারি, যখন এই সব কিছু শেষ হয়ে যাবে তখন বিশ্ব একইরকম থাকবে না।’