চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

করোনা জয় করলেন ক্রিকেট কোচ আশিক

ধ্যানের মাধ্যমে মনের শক্তি বাড়িয়ে করোনাকে জয় করলেন সাবেক ক্রিকেটার ও কোচ আশিকুর রহমান। হাসপাতালে আট দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর তার করোনা পরীক্ষার ফল নেগেটিভ এসেছে। গত ১২মে ভাইরাসে পজিটিভ হলে মুগদা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন।

সুখবরটি আশিক নিজেই দিয়েছেন চ্যানেল আই অনলাইনকে। তবে আরও একবার নমুনা নেয়া হয়েছে। তৃতীয় দফা পরীক্ষার ফল নেগেটিভ আসলেই হাসপাতাল ছেড়ে সবুজবাগে নিজ বাসায় যেতে পারবেন। পরে ১৪ দিন হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে তাকে।

বিজ্ঞাপন

গত ১২মে কাশি ও তীব্র শ্বাসকষ্ট নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন আশিক। অবস্থা জটিল হওয়ায় কৃত্রিমভাবে অক্সিজেন দেয়া হয়। তার স্ত্রী ও দুই সন্তানের করোনা পরীক্ষার জন্য নমুনা নেয়া হয় সঙ্গে সঙ্গেই। তাদের ফল নেগেটিভ আসে।

বিজ্ঞাপন

হাসপাতালের কেবিন নম্বর ‘১২১৫’তে দুই সপ্তাহ ধরে আছেন আশিক। নিয়মিত মেডিটেশন বা ধ্যান করছেন। জানালেন, ‘করোনা জয় করতে মনোবল অনেক গুরুত্বপূর্ণ। মনের শক্তি বাড়ানোর উপায় হল ধ্যান। যখন অক্সিজেন চলত তখনও ধ্যান করতাম। এটি খুব কাজে দিয়েছে। যার ভেতরে ভয়, আতঙ্ক বেশি কাজ করবে সে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’

বিজ্ঞাপন

‘হাসপাতালে কিছু আয়ুর্বেদিক চিকিৎসাও চলেছে। এলাচ, দারুচিনি, কালিজিরা, লবঙ্গ, আদা কেটলির পানিতে ছেড়ে গরম করে খেয়েছি। এটিও খুব কাজে দিয়েছে।’

পুরো হাসপাতালে ভর্তি প্রায় আড়াইশ কোভিড-১৯ রোগী। আশিকের কেবিনে ১২জন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে ওয়ার্ডের দরজার সামনে দাঁড়িয়ে সবাইকে শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম, ধ্যান ও ইয়োগা করিয়েছেন তরুণ এ ক্রিকেট কোচ। অন্যান্য ওয়ার্ড থেকে মৃত্যুর খবর এলেও আশিক থাকাকালীন তার ওয়ার্ডে এখন পর্যন্ত কেউ মারা যায়নি।

আশিক বললেন, ‘মানসিক শক্তি বাড়াতে ধ্যানের বিষয়টি আমি ছড়িয়ে দিতে চাই ছোটদের মাঝে। স্কুলে স্কুলে গিয়ে ক্যাম্পেইন করাতে চাই। এখন যারা বয়সভিত্তিক দলের ক্রিকেটার তাদের নিয়ে কাজ করতে চাই। অনেক প্রতিভাবান ক্রিকেটারও স্নায়ুচাপে ভুগে নিজেকে প্রত্যাশিত গন্তব্যে নিয়ে যেতে পারে না। ছোট থাকতেই ওদের নিয়ে কাজ করতে পারলে লাভবান হবে বাংলাদেশ ক্রিকেট। কারণ কয়েকবছর পর বয়সভিত্তিক দলের খেলোয়াড়রাই জাতীয় দলকে প্রতিনিধিত্ব করবে।’

লকডাউনের শুরু থেকেই সবুজবাগে নিজের বাসায় অবস্থান করছিলেন আশিক। কিছুদিন পর অসহায় মানুষকে সাহায্য করতে বেরিয়ে পড়েন। নিজের বাসার আশ-পাশের দুস্থদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ শুরু করেন। কিছুদিন পর বুকে ব্যথা অনুভব করেন। এরপর জ্বর ও কাশি আসায় পরিবার থেকে আলাদা হয়ে যান। শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে ভর্তি হন হাসপাতালে।

আশিক বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দলের হয়ে খেলেছেন। দীর্ঘকায় এ ডানহাতি পেসার ছিলেন দারুণ সম্ভাবনাময়। ইনজুরির কারণে খুব বেশিদূর এগোয়নি ক্যারিয়ার। বর্তমানে বিসিবির গেম ডেভেলপমেন্ট বিভাগে অস্থায়ী কোচ হিসেবে নিয়োজিত আছেন। জাতীয় নারী ক্রিকেট দলের সহকারী কোচের দায়িত্ব পালন করেছেন। ঘরোয়া যত লিগ আছে সবখানেই কোচ হিসেবে বিচরণ রয়েছে তার।