চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

করোনা ছড়িয়েছে তৈরি পোশাক কারখানায়, আক্রান্ত ১৯১ শ্রমিক

মহামারি করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ছে তৈরি পোশাক কারখানাগুলোর শ্রমিকদের মধ্যে। এ পর্যন্ত এই ভাইরাসে ৯০টি কারখানার ১৯১ জন পোশাক শ্রমিক আক্রান্ত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

শুক্রবার শিল্প পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফরহাদ হোসেন চ্যানেল আই অনলাইনকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

বিজ্ঞাপন

ফরহাদ হোসেন বলেন, মোট ৭৬০২টি কারখানার মধ্যে ৯০টি কারখানায় করোনায় আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছেন। ২৮ মে’র তথ্যানুযায়ী, মোট আক্রান্তের সংখ্যা ১৯১ জন। তবে শুক্রবারে কতজন আক্রান্ত হয়েছেন এ তথ্য এখনো জানা যায়নি।

বিজ্ঞাপন

শিল্প পুলিশের তথ্যমতে, যে ৯০টি কারখানার ১৯১ শ্রমিক আক্রান্ত হয়েছেন, সেগুলোর মধ্যে বিজিএমইএ সদস্যভুক্ত কারখানা ৪৬টি। এসব কারখানার আক্রান্ত শ্রমিকের সংখ্যা ১০৫ জন। আর বিকেএমইএ’র সদস্য ২১টি কারখানায় আক্রান্ত হয়েছেন ৫৭ জন শ্রমিক। এর বাইরে ইপিজেডগুলোতে অবস্থিত ১০টি কারখানার ১৪ জন ও অন্যান্য ১২টি পোশাক কারখানার ১৩ জন শ্রমিক করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এছাড়া বিটিএমএ সদস্য একটি টেক্সটাইল মিলসে দু’জন শ্রমিক আক্রান্ত হয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

শিল্প পুলিশ জানিয়েছে, পোশাক কারখানাগুলোর মধ্যে ঢাকার আশুলিয়ায় সবচেয়ে বেশি শ্রমিক আক্রান্ত হয়েছেন। এই এলাকার ২৬টি কারখানায় ৬১ জন শ্রমিক আক্রান্ত হয়েছেন। নারায়ণগঞ্জে ২৩টি কারখানার ৬০ জন শ্রমিক আক্রান্ত হয়েছেন।

এছাড়া চট্টগ্রামে ১৪টি পোশাক কারখানার ১৭ জন শ্রমিক, ময়মনসিংহে ৩টি কারখানার ৪ জন শ্রমিক এবং খুলনায় একটি কারখানার একজন শ্রমিক করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন।

জানা গেছে, তৈরি পোশাক কারখানা মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর উদ্যোগে পোশাক শ্রমিকদের করোনা আক্রন্তের তথ্য সংগ্রহ ও চিকিৎসা দিতে সংগঠনটির কয়েকটি টিম কাজ করছে। তাদের সংগ্রহ করা তথ্যমতে, গত ২৮ এপ্রিল পোশাক কারখানায় প্রথম একজনের করোনা উপসর্গ পাওয়া যায়।

বিজিএমইএর সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, সংগঠনটির সদস্যভুক্ত পোশাক কারখানায় এখন পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়েছে ১০৩ জন শ্রমিক। এর মধ্যে ১৯ জন সুস্থ হয়েছেন। বাকি ৮৪ জন এখনও করোনার সাথে লড়ছেন।

বিজিএমইএ সূত্রে জানা গেছে, পোশাক শ্রমিকরা করোনায় আক্রান্ত হলে তাদের দ্রুত চিকিৎসা দিতে বিশেষ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। আক্রান্ত শ্রমিকের তথ্য পেতে চালু করা হয়েছে হটলাইন। পাশাপাশি চারটি জোন ভাগ করে মনিটরিং করা হচ্ছে। কোনো শ্রমিক করোনায় আক্রান্ত হলে তাকে এবং তার সংস্পর্শে আসা অন্যদেরও ছুটিতে কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হচ্ছে। বেশি অসুস্থ হলে তাদের হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে।