চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

করোনা: কক্সবাজার জেলা পুলিশের মানবিক উদ্যোগ

ফোন পেলেই খাদ্য নিয়ে বাড়িতে হাজির পুলিশ

দেশে চলমান করোনাভাইরাস মোকাবেলা ও হতদরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়াতে ইমার্জেন্সি কল সার্ভিস চালুর মাধ্যমে এক মানবিক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে কক্সবাজার জেলা পুলিশ। কর্মহীন হতদরিদ্ররা ফোন করলেই রান্না করা খাবার আর খাদ্যদ্রব্য নিয়ে তাদের বাড়িতে হাজির হচ্ছে পুলিশ সদস্যরা। পুলিশের এই মানবিক উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে সবাই।

বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া করোনা ভাইরাসের কারণে কর্মহীন হয়ে গৃহবন্দী হয়ে পড়েছে নিম্ন আয়ের মানুষ ও হতদরিদ্ররা। এসব মানুষদের জেলা প্রশাসন, করোনা সহায়তা তহবিলসহ বিভিন্ন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে নিয়মিত দেওয়া হচ্ছে খাদ্য সামগ্রী।

বিজ্ঞাপন

কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেন বলেন, এসব সহযোগিতা থেকে যেসব কর্মহীন হতদরিদ্ররা বাদ পড়েছেন তাদের ঘরে রান্না করা খাবার ও খাদ্য সামগ্রী পৌঁছে দিতে একটি হটলাইন চালু করেছে কক্সবাজার জেলা পুলিশ। যার নাম্বার (০১৭১৩৩৭৩৬৬২)। এ নাম্বারে ফোন দিলেই হতদরিদ্র পরিবারের মাঝে বিনামূল্যে রান্না করা খাবার ও খাদ্য সামগ্রী পৌঁছে দেবে পুলিশ সদস্যরা। প্রতি রতে ৩ শ পরিবারের মাঝে রান্না করা খাবার পৌঁছে দিচ্ছে পুলিশ।

বিজ্ঞাপন

৩১ মার্চ রাত থেকে এ সার্ভিস চালু করা হয়েছে। শুধু কক্সবাজার সদর নয় রামু, কুতুবদিয়া, উখিয়া, চকরিয়া, পেকুয়া, মহেশখালী ও টেকনাফ উপজেলায় এ সার্ভিস চলমান রাখবে পুলিশ। যাতে করোনাভাইরাসের এ সংকটে কোনো হতদরিদ্র মানুষ খাবার না খেয়ে থাকে সেজন্যই এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মো. ইকবাল হোসেন বলেন, চলমান করোনাভাইরাসের কারণে কক্সবাজারের অনেক হতদরিদ্র পরিবারে নেমে এসেছে চরম সংকট। এসব মানুষের পাশে দাঁড়াতে এ ইমার্জেন্সি কল সার্ভিস চালু করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ইতোমধ্যে রাতের খাবার রান্না করে বিতরণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি কল দিয়ে যারা সাহায্য চেয়েছেন তাদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে খাদ্য সামগ্রী পৌঁছে দেয়া হচ্ছে।

কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেন বিপিএম বার বলেন: শুধুমাত্র মানবিকতার জায়গা থেকে জেলা পুলিশের সদস্যদের নিজেদের বেতনের টাকা থেকে এই উদ্যোগটি গ্রহণ করা হয়েছে।

তিনি বলেন: নিতান্তই যাদের খাদ্যের প্রয়োজন, যারা অন্য কোথাও থাকে কোন প্রকার খাবার বা খাদ্য সামগ্রী পায়নি তারা যেন ফোন করেন।

ফোন পাওয়ার পর যাচাই-বাছাই করার পর খাবার ও খাদ্য সামগ্রী পাঠানো হচ্ছে বলেও জানান পুলিশ সুপার।