চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

করোনা ইউনিটে অগ্নিনির্বাপণের যথেষ্ট ব্যবস্থা ছিল না: ফায়ার সার্ভিস

রাজধানীর গুলশানে অভিজাত ইউনাইটেড হাসপাতালে করোনা রোগীর চিকিৎসার জন্য প্রস্তুতকৃত আলাদা ইউনিটে অগ্নিনির্বাপনের যথেষ্ট ব্যবস্থা ছিল না বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।

বুধবার রাত ৯টা ৫৫ মিনিটে হাসপাতালে তাবু দিয়ে নির্মিত অস্থায়ী করোনা ইউনিটে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এ সময় সেখানে চিকিৎসাধীন ৫ জন করোনা রোগী মারা গেছেন। এদের মধ্যে তিনজনের করোনা পজিটিভ বলে জানিয়েছে পুলিশ।

বিজ্ঞাপন

ফায়ার সার্ভিস সংশ্লিষ্টদের ধারণা, অস্থায়ীভাবে নির্মিত ওই ইউনিটের এসি বিস্ফোরণে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এরপরও তদন্ত সাপেক্ষে অগ্নিকাণ্ডের কারণ নিশ্চিত হওয়ার বিষয়টি জানা যাবে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

বিজ্ঞাপন

জানা যায়, ইউনাইটেড হাসপাতালের মূল ভবনে অগ্নি নিরাপত্তার ব্যবস্থা রয়েছে। তবে করোনা রোগীর জন্য প্রস্তুতকৃত ওই ইউনিটে যথেষ্ট অগ্নি নিরাপত্তার ব্যবস্থা ছিলোনা। এর ফলে স্বল্প সময়ের এ আগুনে চিকিৎসাধীন ৫ জন প্রাণ হারিয়েছেন।

ফায়ার সার্ভিস বলছে, আগুন লাগার পর সেখানে চিকিৎসাধীন পাঁচজন বের হতে পারেননি। আগুনের ধোয়ায় শ্বাস বন্ধ হয়ে তারা মারা যান বলে ধারণা করা হচ্ছে। যেহেতু তারা সবাই করোনা আক্রান্ত হয়ে আইসোলেশনে ছিলেন, তাদের স্বাভাবিকভাবেই শ্বাস কষ্ট থাকার কথা। এ কারণেই আগুনের ধোঁয়ায় তারা বেশিক্ষণ টিকে থাকতে পারেননি।

বিজ্ঞাপন

ফায়ার সার্ভিসের উপ সহকারি পরিচালক নিয়াজ আহমেদ বলেন: আগুনের সূত্রপাতের বিষয়ে সরাসরি বলা যাবে না। বিষয়টি অনুসন্ধান করে দেখতে হবে।

পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপন ব্যবস্থা ছিল কী না জানতে চাইলে তিনি বলেন: মূল ভবনে অগ্নি নিরাপত্তা ব্যবস্থা আছে। তবে যেখানে আগুন লেগেছে সেটি মূল ভবনের বাইরের অংশ এবং অস্থায়ী। সেখানে অগ্নিনির্বাপন ব্যবস্থা অপ্রতুল ছিল।

ঘটনাস্থল পরিদর্শনে এসে সাংবাদিকদের ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. সাজ্জাদ হোসাইন বলেন: ইউনিটটিতে অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা ওইভাবে ছিল না। কিন্তু ইউনিটের কাছেই ফায়ার হাইড্রেন্ট ছিল। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বোধয় ফায়ার হাইড্রেন্ট ব্যবহার করতে পারেনি।

মৃত্যুবরণকারীদের বিষয়ে তিনি বলেন: আমরা ৫ জনের মরদেহ উদ্ধার করেছি। যারা মারা গিয়েছে তারা করোনা রোগী হিসেবে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল। এ ঘটনায় আর কোনো হতাহত বা আহত নেই। অন্যান্য ইউনিটের যেসব রোগীরা রয়েছে তাদের কোনো সমস্যা হয়নি, তারা অক্ষত আছেন।

তিনি আরও বলেন: ৯টা ৫৫ মিনিটে আগুনের সংবাদ পেয়ে ১০টা ৪ মিনিটে ফায়ার সার্ভিসের প্রথম ইউনিট মূল ভবনের পেছন দিকের অংশে লাগা আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। তাদের ফায়ার হাইড্রেন্ট ছিল, তবে আমরা নিজেদের সরঞ্জাম দিয়েই আগুন নিয়ন্ত্রণ করেছি।