চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

করোনা আক্রান্তদের ফুসফুসের কার্যকারিতা কমছে

বৈশ্বিক মহামারী করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের ফুসফুসে ২০ থেকে ৩০ শতাংশ কার্যকারিতা কমার প্রমাণ পেয়েছে গবেষকরা।

সম্প্রতি হংকংয়ে করোনায় সুস্থ হয়ে ওঠা ১২ রোগীর দুই-তিনজনের মধ্যে এবং ফেব্রুয়ারিতে উহানের ঝংনাম হাসপাতালের গবেষকরা এমন প্রমাণ পেয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট জানায়, এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য দিয়েছেন হংকংয়ের প্রিন্সেস মার্গারেট হাসপাতালের ইনফেকশাস ডিজিজেস সেন্টারের মেডিক্যাল ডিরেক্টর ডা. ওয়েন সাং তাক-ইয়িন।

বিজ্ঞাপন

হংকংয়ের গবেষকরা বলছেন, কম্পিউটার টোমোগ্রাফিতে সুস্থ হয়ে ওঠা ১২জন রোগীর কয়েকজনের ফুসফুসে তরল ও ময়লাভর্তি ঝিল্লি বা থলি পাওয়া যায়।

সংবাদ সম্মেলনে ডা. ওয়েন সাং তাক-ইয়িন বলেন, ‘রোগ সেরে গেলেও করোনার কারণে ফুসফুসের কার্যকারিতা ২০ থেকে ৩০ শতাংশ কমে যেতে পারে’।

তিনি জানান, এরআগে ফেব্রুয়ারি মাসের শুরুতে উহান বিশ্ববিদ্যালয়ের ঝংনাম হাসপাতালের বিজ্ঞানীরা ১৪০ জন রোগীর ফুসফুস পরীক্ষা করেছিলেন। প্রতিটি রোগীর দুটি ফুসফুসেই ‘গ্রাউন্ড গ্লাস অপাসিটি’র খোঁজ পেয়েছিলেন তারা।

ডা. ওয়েন সাং তাক-ইয়িন বলেন, করোনা থেকে সুস্থ রোগীদের ওপর দীর্ঘ মেয়াদী প্রভাব পড়বে, ফুসফুসীয় ফাইব্রোসিসে টিস্যুগুলো ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে যায়। এমন অবস্থার সৃষ্টি করে যাতে ফুসফুসের টিস্যু শক্ত হয়ে যায় এবং তা সঠিকভাবে কাজ করতে পারে না।

গ্রীষ্মের দিকে তাকিয়ে বিজ্ঞানীরা
উষ্ণ এবং রৌদ্রজ্জ্বোল আবহাওয়া করোনার বিস্তার কমিয়ে আনতে সহায়তা করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করছেন বিজ্ঞানীরা।

মেরিল্যান্ড ইন্সটিটিউট অব ভাইরোলজির সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ সাজাদি বলেন, আমরা এখন পর্যন্ত যেসব তথ্য পেয়েছি তার ওপর ভিত্তি করে বলা যায় যে, আবহাওয়া যখন উষ্ণ থাকে তখন মানুষ থেকে মানুষে ভাইরাসের ছড়িয়ে পড়া কঠিন হয়ে পড়ে।

বিজ্ঞাপন

অধ্যাপক সাজাদির গবেষণা থেকে জানা যায়, এ ধরনের ভাইরাস যে কোনো স্থানে বিস্তার লাভ করতে পারে। তবে আদ্রতা এবং তাপমাত্রা কম থাকলে ভাইরাস দ্রুত বিস্তার লাভ করতে পারে। বিশেষ করে তাপমাত্রা ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকলে ভাইরাস সহজেই ছড়িয়ে পড়তে পারে।

চীনের সিনহুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক বলছেন, চীনের শতাধিক শহরে আবহাওয়া উষ্ণ এবং সেখানকার আদ্রতা বাড়তে থাকায় কোভিড-১৯য়ের প্রকোপ কমেছে।

উচ্চ তাপমাত্রা এবং আদ্রতায় দেখা গেছে, তাৎপর্যপূর্ণভাবে কোভিড-১৯য়ের প্রকোপ কমছে। উষ্ণ তাপমাত্রা, তাপ এবং আদ্রতা কেবলমাত্র ভাইরাসের প্রকোপ কমাতে পারে। কিন্তু এটা ভাইরাসের বিস্তার বন্ধ করতে পারে না।

নভেল করোনা ভাইরাসে বিশ্বব্যাপী মৃতের সংখ্যা ২১ হাজার ২৯১ জন। এতে আক্রান্ত হয়েছে ৪ লাখ ৭১ হাজারেরও বেশি। যাদের মধ্যে ১ লাখ ১৪ হাজার ২১৮ জন চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে উঠেছেন।

গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি মানুষ মারা গেছেন ইতালিতে। দেশটিতে করোনা ভাইরাসে মারা গেছে অন্তত ৬৮৩ জন, নতুন শনাক্ত হয়েছে ৫ হাজার ২১০ জন। এ নিয়ে সেদেশে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৪ হাজার ৩৮৬ জন। আর মারা গেছেন ৭ হাজার ৫০৩ জন।

মৃত্যুপুরী হয়ে উঠেছে ইউরোপের আরেক দেশ স্পেনও। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশটিতে অন্তত ৬৫৬ জন মারা গেছে, আক্রান্ত হয়েছেন প্রায় সাড়ে সাত হাজার মানুষ। এ নিয়ে সেখানে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৯ হাজার ৫১৫ জন। মৃত্যু ৩ হাজার ৬৪৭ জনের।

করোনার সংক্রমণ দ্রুত বাড়ছে যুক্তরাষ্ট্রেও। এদিন দেশটিতে নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছেন ১০ হাজার ৪৮৬ জন, মারা গেছেন ১৪২ জন। সেখানে এখন মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৬৫ হাজার ৩৪২। মৃত্যু হয়েছে ৯২২ জনের।

এছাড়া, ইরানে গত ২৪ ঘণ্টায় মারা গেছেন ১৪৩ জন, নতুন রোগী ২ হাজার ২০৬ জন। ফলে দেশটিতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৭ হাজার ১৭ জন, মৃত্যু ২ হাজার ৭৭ জনের।

ভয়াবহ পরিস্থিতি ফ্রান্সেও। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশটিতে মারা গেছেন ২৩১ জন, আক্রান্ত ২ হাজার ৯২৯ জন। অর্থাৎ দেশটিতে মোট মৃত্যুর ঘটনা ১ হাজার ৩৩১টি, আক্রান্ত ২৫ হাজার ২৩৩ জন।