চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

করোনা: অর্থনীতির সব খাতেই নেতিবাচক প্রভাবের শঙ্কা

করোনা ভাইরাসের কারণে রপ্তানি বাণিজ্য, রেমিট্যান্স ও ব্যক্তি খাতের বিনিয়োগসহ সব খাতেই ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ (সিপিডি)।

তবে এর প্রভাবে দেশের ছোট ব্যবসা সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলেও জানায় সংস্থাটি।

বিজ্ঞাপন

শনিবার ভার্চুয়াল মিডিয়া ব্রিফিংয়ে এ কথা জানান সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন। এসময় উপস্থিত ছিলেন রিসার্চ ফেলো তৌফিক ইসলাম খান, বিশেষ ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান, গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম।

বিজ্ঞাপন

‘করোনা ভাইরাসের স্বাস্থ্য ও অর্থনৈতিক ঝুঁকি এবং করণীয়’ শীর্ষক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে বর্তমান পরিস্থিতিতে এসব ঝুঁকির পর্যালোচনা এবং সম্ভাব্য করণীয় তুলে ধরা হয়।

করোনা ভাইরাসকে ‘মানব ইতিহাসের ভয়াবহ সংকট’ আখ্যায়িত করে সিপিডি বলেছে: উৎপাদন, আমদানি-রপ্তানি, স্বাস্থ্য খাত, অর্থায়ন, পর্যটন, প্রবাসী আয়, রাজস্ব, অনানুষ্ঠানিক খাত, খাদ্য নিরাপত্তা এবং সব শেষে মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) করোনা ভাইরাসের নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

বিজ্ঞাপন

ড. ফাহমিদা জানান: স্বাস্থ্যঝুঁকির কথা চিন্তা করে মানুষ বাইরে যাতায়াত কমে যাবে। এতে সমস্যায় পড়বে নিম্ন আয়ের মানুষ, বিশেষ করে যারা ছোট ব্যবসা করছে, তাদের ব্যবসা কমে যাবে। এছাড়া রপ্তানি খাত ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হবে। কারণ যেসব দেশে রপ্তানি করি যেমন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জার্মানি, ইটালি, কানাডাসহ ইউরোপের অনেক দেশ এখন করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইতোমধ্যে চাহিদা কমে গেছে, চলতি অর্থবছরে আমাদের রপ্তানি নেতিবাচক রয়েছে।

‘এ মহামারির কারণে নেতিবাচক ধারা আরও বাড়ার শঙ্কা রয়েছে। ছোট ব্যবসায়ীদের ব্যবসা কমে যাবে। তখন তারা কর্মী ছাঁটাই করবে। এতে অনেকে কর্মহীন হয়ে পড়বে, কর্মসংস্থানে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।’

তিনি জানান: বৈশ্বিক ক্ষতির কারণে অনেক ব্যবসায়ী নতুন করে বিনিয়োগে আসবে না। এতে করে বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ কমে যাবে। অন্যদিকে ব্যয় ব্যবস্থাপনা সমন্বয় করতে গিয়ে সরকারি বিনিয়োগও কমে যাবে। কারণ করোনা মোকাবেলায় সরকারের এখন স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন খাতে ব্যয় বেশি করতে হবে। যা অপ্রত্যাশিত ছিল।

অতীতের যেকোনো ধরনের ভাইরাসের তুলনায় বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে গেছে করোনা। এই পরিস্থিতি মোকাবেলায় সিপিডি স্বল্পময়াদি কিছু পদক্ষেপ নেওয়ার সুপারিশ করেছে।

রিকশাচালক, দরিদ্র দিনমজুরসহ নিম্ন আয়ের লোকদের জন্য খোলাবাজারে খাদ্যপণ্য (চাল, ডাল ইত্যাদি) বা ওএমএস চালুর পক্ষে সিপিডি। ওষুধসহ জরুরি পণ্য আমদানিতে শুল্ক ছাড় দেয়া দরকার বলেও মনে করে সংস্থাটি।