চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

করোনায় শীর্ষস্থান যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সম্মানের: ট্রাম্প

বৈশ্বিক মহামরী কোভিড-১৯ করোনাভাইরাসে জর্জরিত যুক্তরাষ্ট্র৷ সর্বোচ্চ ১৫ লাখের বেশি আক্রান্ত এবং ৯৩ হাজার মানুষের মৃত্যু নিয়ে শীর্ষস্থানে দেশটি।

কঠিন দুঃসময়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট এবার এই পরিসংখ্যান নিয়ে গর্ব করলেন এবং যুক্তি দিয়ে বললেন, বিশ্বে সর্বাধিক কোভিড-১৯ শনাক্ত নিরূপণ করার বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সম্মানের। এটি একটি ‘ব্যাজ অব অনার’।

বিজ্ঞাপন

সোমবার হোয়াইট হাউসে মন্ত্রিসভার বৈঠকে এমন যুক্তি দিয়ে তিনি বলেন: একটি নির্দিষ্ট অবস্থান থেকে এটিকে আমি ভালো বিষয় হিসাবে দেখছি। কারণ এর অর্থ আমাদের পরীক্ষা অন্যদের চেয়ে অনেক বেশি ভালো।

যুক্তরাষ্ট্রে করোনাভাইরাস মহামারী শুরু হওয়ার পর থেকে প্রথমবার মন্ত্রিসভার বৈঠক করেছেন সোমবার।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন: যখন বলা হয় যে আমরা সর্বোচ্চ করোনায় আক্রান্ত, তার মানে হলো আমরা অন্যদের চেয়ে বেশি পরীক্ষা করেছি এবং আমাদের পরীক্ষা পদ্ধতি ভালো।।

‘‘সুতরাং যখন আমাদের অনেকগুলো শনাক্ত হয়, আমি এটিকে খারাপ বিষয় হিসেবে দেখি না।।কিছুটা ভালো দিক হিসেবে দেখি।কারণ আমাদের পরীক্ষা অনেক বেশি ভালো। অতএব আমি বলবো, এটি দেশের জন্য ‘ব্যাজ অব অনার’, সত্যি এটি একটি ‘ব্যাজ অব অনার’’, বলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

তিনি জানান, করোনা পরীক্ষার জন্য পেশাদারেরা যেভাবে কাজ করেছেন, তার জন্য অনেক শ্রদ্ধা।

বিজ্ঞাপন

ফেডারেল এজেন্সি সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল এর তথ্য অনুসারে, মঙ্গলবার পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ১২.৬ মিলিয়ন করোনাভাইরাস পরীক্ষা করেছে।

ডেমোক্র্যাটিক ন্যাশনাল কমিটির একজন সদস্য রিপাবলিকান দলের প্রেসিডেন্টের সমালোচনা করে টুইট করে বলেছেন: যুক্তরাষ্ট্রে ১৫ লাখের অধিক কোভিড-১৯ আক্রান্ত শনাক্ত হওয়াটা সাফল্যের নয়, এটি বরং নেতৃত্বের সম্পূর্ণ ব্যর্থতার দৃষ্টান্ত।

তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সর্বাধিক করোনা টেস্ট নিয়ে যে গর্ব করছেন তা মাথাপিছু দিক থেকে সঠিক নয় বলেও মন্তব্য করছেন বিশ্লেষকরা।

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ভিত্তিক বৈজ্ঞানিক প্রকাশনা, আওয়ার ওয়ার্ল্ড ইন ডেটা অনুসারে: যুক্তরাষ্ট্র যখন অন্য দেশের তুলনায় ভলিউম দিয়ে বেশি পরীক্ষা চালিয়েছে, তখন মাথাপিছু ভিত্তিতে এটি বিশ্বে প্রথম নয়। এই তালিকায় দক্ষিণ কোরিয়ার চেয়ে এক হাজার জন বেশি হলেও ১৬তম স্থানে যুক্তরাষ্ট্র। তবে আইসল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড, রাশিয়া এবং কানাডার চেয়ে পিছনে রয়েছে।

স্বেচ্ছাসেবীর নেতৃত্বাধীন কোভিড ট্র্যাকিং প্রকল্প অনুসারে, গত সপ্তাহ থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিদিন ৩ লাখ থেকে ৪ লাখের মধ্যে পরীক্ষা চালিয়ে যাচ্ছে।

তবে হার্ভার্ড গ্লোবাল হেলথ ইনস্টিটিউটের পরিচালক আশীষ ঝা গত সপ্তাহে একটি কংগ্রেসনাল শুনানিতে বলেছেন: দেশ নিরাপদে পুনরায় খোলার জন্য প্রতিদিন ৯ লাখেরও বেশি পরীক্ষা করা প্রয়োজন। আমরা এর এক তৃতীয়াংশই করছি।

জন হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয় অনুসারে যুক্তরাষ্ট্রে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি করোনাভাইরাসে মৃত্যু হয়েছে। যদিও মাথাপিছু ভিত্তিতে এটি বেলজিয়াম, যুক্তরাজ্য এবং ফ্রান্সের পেছনে ষষ্ঠ স্থানে রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রে করোনা টেস্ট ইস্যু নিয়ে গত সপ্তাহে সিনেটের শুনানিতে রিপাবলিকান মিট রমনিও সমালোচনা করে বলেছেন: এটা উদযাপন করার কিছু নয়।