চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

করোনায় নির্বিকার ঢাকা দক্ষিণ সিটি, উত্তরে শুধুই হাত ধোয়া

করোনা ভাইরাস সংক্রমণের উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা রাজধানী ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন ভাইরাসটি প্রতিরোধে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। এই অবস্থায় স্বভাবতই নগরবাসীর প্রশ্ন – কী করছে কোটি মানুষের অভিভাবকের দায়িত্বে থাকা কর্তাব্যক্তিরা?

এই প্রশ্নের জবাব খুঁজতে গিয়ে চ্যানেল আই অনলাইন  দেখেছে, এখন পর্যন্ত করোনা ভাইরাসের প্রকোপ থেকে নগরবাসীকে রক্ষায় নিজেদের কোনো দায় দেখছে না ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। আর এতদিন পর আগামীকাল মঙ্গলবার প্রথমবারের মতো শুধু ‘হাত ধোয়া’ কর্মসূচি শুরু করতে যাচ্ছে উত্তর সিটি করপোরেশন।

করোনা ভাইরাস সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করে তুলতে কোনো কর্মসূচি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন হাতে নিয়েছে কিনা – জানতে চাইলে এই সিটির জনসংযোগ কর্মকর্তা উত্তম কুমার রায় জানান, আমরা ডেঙ্গু-চিকনগুনিয়া নিয়ে সাধারণত কাজ করে থাকি। কিন্তু করোনা ভাইরাস নিয়ে এখন পর্যন্ত কিছু করছি না।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা এ এস এম মামুন জানান: উত্তর সিটি থেকে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে এবং এ থেকে জনগণকে সচেতন করে তুলতে ‘সচেতনতা মূলক’ কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। যা আগামীকাল প্রথমবারের মতো গুলশান-২ ডিএনসিসি মার্কেটে অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন মেয়রের দায়িত্ব নেওয়ার অপেক্ষায় থাকা আতিকুল ইসলাম।

বিজ্ঞাপন

গত জানুয়ারিতে হওয়া ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে নির্বাচিত হন আওয়ামী লীগের প্রার্থী আতিকুল ইসলাম। তার আগে আনিসুল হকের অকাল মৃত্যুতে উপ-নির্বাচনে জয় পেয়ে তিনি ৯ মাস মেয়রের দায়িত্ব পালন করেন। পরে আইন অনুযায়ী মেয়র পদ থেকে পদত্যাগ করেন তিনি।

ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে জাতীয় রাজনীতিতে ক্ষমতাসীনদের মনোনয়ন নিয়ে বিপুল ভোটে জয় পেয়ে মেয়র নির্বাচিত হন ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপস। তিনিও মে মাসের মাঝামাঝি মেয়র পদে দায়িত্ব নেবেন।

এমন পরিস্থিতিতে উত্তর মেয়র শূন্য আর দক্ষিণে পুনরায় দলের মনোনয়ন পেতে ব্যর্থ হয়ে অনেকটাই নিষ্ক্রিয় বর্তমান মেয়র সাঈদ খোকন। যদিও আওয়ামী লীগের দলীয় কেন্দ্রীয় সকল কর্মসূচিতে তার সরব উপস্থিতি রয়েছে।

গত বছরের ডিসেম্বরে চীনের উহান শহর থেকে ছড়িয়ে পড়ে করোনা ভাইরাস। পরে সেটা ছড়িয়ে পড়ে পুরো বিশ্বে। সারা বিশ্বে এখন পর্যন্ত করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ১ লাখ ৭৪ হাজার ১৩৪ জন। আর প্রাণ হারিয়েছে ৬ হাজার ৬৮৪ জন। আক্রান্তদের মধ্যে সুস্থ হয়ে গেছেন ৭৭ হাজার ৮৬৫ জন। বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত করোনা ভাইরাস পজেটিভ পাওয়া গেছে ৮ ব্যক্তির শরীরে।

বিজ্ঞাপন