চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

করোনায় কাজ নেই ‘শাহরুখের মতো দেখতে’ প্রশান্তর

করোনাভাইরাসের কারণে শুটিং বন্ধ থাকায় দৈনিক চুক্তিভিত্তিক আয়ের মানুষদের কঠিন সময় যাচ্ছে। তাদেরই একজন প্রশান্ত ওয়ালদে। তিনি দেখতে কিছুটা শাহরুখ খানের মতো বলে শাহরুখের বডি ডাবল হিসেবে কাজ করেন তিনি।

বলিউডে কাজের সুযোগ কমে যাওয়ায় এবছরের শুরুতে দুবাইতে কাজ করতে গিয়েছিলেন প্রশান্ত ওয়ালদে। কিন্তু করোনা ভাইরাসের কারণে সেখান থেকেও কাজ হারিয়েছেন তিনি। মুম্বাই ফিরে এসে তিনি এক সাক্ষাতকারে জানিয়েছেন তার অতীতের কথা।

বিজ্ঞাপন

প্রশান্ত বলেন, ‘শাহরুখ ভাইয়ের সিনেমা এবং কমার্শিয়ালগুলোতে আমাকে ডাকতেন নির্মাতারা। তার অবর্তমানে আমাকে লং শট এবং চিট শটের জন্য ব্যবহার করা হতো।’

ওম শান্তি ওম, ডন টু, চেন্নাই এক্সপ্রেস, ফ্যান সহ আরও বেশ কিছু বিজ্ঞাপনে কাজ করেছেন প্রশান্ত। বডি ডাবল হিসেবে প্রতিদিন ৩০ হাজার রুপি আয় করতেন প্রশান্ত। প্রশান্ত বলেন, ‘আমাদের মতো বডি ডাবলদের জীবনটাই এরকম। কয়েক বছর আগে কাজ পাচ্ছিলাম না। স্টেজ শো কমে গিয়েছিল। শাহরুখ ভাইয়ের সঙ্গে শেষ কাজ করা হয়েছে ২০১৯ এর ডিসেম্বরে।’

প্রশান্তের দুই সন্তান আছে। স্ত্রী গৃহিণী। একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি তিনি। আয় না থাকায় ঋণের বোঝা বাড়তে থাকে। তাই একটা স্থায়ী চাকরি দরকার ছিল তার। শাহরুখের বডি ডাবল হিসেবে কাজ করা ছাড়া আর কোনো কাজ জানা ছিল না তার। এই পরিস্থিতিতে দুবাইতে বলিউড থিম পার্কে কাজ করার একটা সুযোগ আসে প্রশান্তের কাছে। তিনি দুবাই চলে যান। শাহরুখের চরিত্রে তাকে ১২ ঘণ্টা কাজ করতে হতো প্রতিদিন। দিনে ১২ মিনিট করে ১৫টি স্টেজ শোতে অংশ নিতে হতো তাকে।

কাজটা পরিশ্রমের হলেও ভালোই সময় কাটছিল প্রশান্তের। কিন্তু করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ায় থিম পার্ক বন্ধ হয়ে যায়। মাত্র তিন মাস কাজ করেই ২১ মার্চ মুম্বাই ফিরে আসতে হয় প্রশান্তকে। ঋণ শোধ করতে গিয়েই তার আয়ের পুরো অর্থ শেষ হয়ে গেছে। কোনো সঞ্চয় নেই। তাই বেঁচে থাকা কঠিন হয়ে গেছে।

প্রশান্ত জানান, তার মতো আরও ১৬০ জন শিল্পী আছেন অল ইন্ডিয়া লুক অ্যালাইক অ্যাসোসিয়েশনে। তাদের সবার একই অবস্থা। সম্প্রতি তারা ফেডারেশন অব ওয়েস্টার্ন ইন্ডিয়া সিনে এমপ্লয়িজ এর সাথে যোগাযোগ করেছেন সাহায্যের জন্য। এখনও সেখান থেকে কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।

শাহরুখের কাছে সাহায্য যাইতে গিয়েছিলেন কিনা জিজ্ঞেস করায় প্রশান্ত বলেন, ‘আমি তার পরিচয়ে বাঁচি। তাই তার কাছে সাহায্য চাইতে যাওয়াটা বিব্রতকর। আমি নিশ্চিত যে আমার সমস্যার কোনো একটা সমাধান আমি পেয়ে যাব।।’