চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

করোনায় কর্মহীন ১৭৯৪ দুঃস্থ শ্রমিক পাচ্ছেন নগদ সহায়তা

করোনাভাইরাস মহামারিতে কর্মহীন হয়ে পড়া রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক, চামড়াজাত পণ্য ও পাদুকা শিল্পের ১ হাজার ৭৯৪ দুঃস্থ শ্রমিক নগদ অর্থ সহায়তা পাচ্ছেন। সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রমের আওতায় তারা এই সহায়তা পাচ্ছেন।

মঙ্গলবার রাজধানীর শ্রম ভবনে শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মন্নুজান সুফিয়ান এই নগদ সহায়তা প্রদান কার্যক্রম উদ্বোধন করেন।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

গত সেপ্টেম্বর মাসের জন্য প্রথম পর্যায়ে ১ হাজার ৭৯৪ জন দুঃস্থ শ্রমিক ৩ হাজার টাকা করে পাবেন।

প্রতিমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে ইলেকট্রনিক সিস্টেমে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে উপকারভোগীর নিজস্ব ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সহায়তার টাকা চলে যাবে।

তিনি বলেন, কোভিড-১৯ বৈশ্বিক মহামারির কারণে গত মার্চের পর দেশের গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানি খাত তৈরি পোশাক এবং  চামড়া ও পাদুকাশিল্পের অনেক রপ্তানিমুখী কারখানা লে-অফ এবং উৎপাদন সাময়িকভাবে স্থগিতকরণ বা সীমিতকরণে বাধ্য হয়েছে। ফলে উদ্যোক্তা এবং শ্রমিক উভয়ই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

মহামারির প্রকোপে বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ সংকুচিত হয়ে আসায় অনেক শ্রমিককে কর্মহীন অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে। এ প্রেক্ষাপটে এই দুটি গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানিমুখী খাতের দুস্থ শ্রমিকদের জরুরি মানবিক সহায়তা দিতে প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগে সরকার এই সামাজিক নিরাপত্তা কার্যক্রম চালুর উদ্যোগ নিয়েছে।

এই উদ্যোগে উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইউ) ও ফেডারেল জার্মান সরকার অর্থায়ন করতে সম্মত হয়েছে।

মন্নুজান সুফিয়ান বলেন, এই যৌথ অর্থায়নে সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রমের আওতায় কর্মহীন হয়ে পড়া ও দুঃস্থ শ্রমিকদের জন্য ইলেকট্রনিক সিস্টেমে জন প্রতি ৩ হাজার টাকা নগদ সহায়তা দেয়া হচ্ছে।

শেখ হাসিনার বর্তমান সরকার দেশের শ্রমজীবী মানুষের কল্যাণে বিভিন্নমুখী কর্মসূচি বাস্তবায়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন উল্লেখ করে শ্রম প্রতিমন্ত্রী বলেন, এর ধারাবাহিকতায় করোনার প্রাদুর্ভাবে দেশে প্রথমবারের মতো সরকারের ডিজিটাল ব্যবস্থাপনায় শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সার্বিক তত্ত্বাবধানে শ্রমিকদের নগদ ৩ মাসের সাময়িক আর্থিক সহায়তা প্রদানের কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছি।

তিনি বলেন, চারটি শিল্প সেক্টরের কারখানায় যারা গত ফেব্রুয়ারি মাসে কাজ করেছেন কিন্তু এখন কর্মহীন এমন শ্রমিকদের নিজ নিজ কারখানায় গিয়ে ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে তথ্য আপলোড করার অনুরোধ করছি। এতে প্রকৃত উপকারভোগীর সংখ্যা অনেক বৃদ্ধি পাবে এবং সরকারের গৃহীত এই সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রমটি সফল হবে।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন- সংসদ সদস্য ও জাতীয় মহিলা শ্রমিক লীগের কার্যকরী সভাপতি বেগম সামসুন নাহার, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব কে এম আব্দুস সালাম জার্মানীর দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার কন্সটানজা জাইরিনজার, শ্রম অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এ কে এম মিজানুর রহমান, বিজিএমইএ, বিকেএমইএ, লেদারগুডস অ্যান্ড ফুটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এলএফএমইএবি) এবং বাংলাদেশ ফিনিশড লেদার, লেদারগুডস অ্যান্ড ফুটওয়্যার এক্সপোর্টার এসোসিয়েশনের (বিএফএলএলএফইএ) নেতারা।

বিজ্ঞাপন