চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

করোনায় অর্থনৈতিক সংকটের শঙ্কায় চ্যাঙ্গি বিমানবন্দর

বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব এখনই কমছে না, এমনকি সামনের দিনগুলোতে আরও সংকট পরিস্থিতিতে পড়ার শঙ্কা করছে বিশ্বের অন্যতম সেরা সিঙ্গাপুরের চ্যাঙ্গি এয়ারপোর্ট কর্তৃপক্ষ। 

গত মার্চে শেষ হওয়া অর্থবছরে এক দশকের মধ্যে প্রথম আয় কমল চাঙ্গির। অর্থবছরটির শেষ দুই মাসে আয়ে পতনের বিষয়টি পূর্ববর্তী মাসগুলোর সব অর্জনকে ম্লান করে দিয়েছে। প্রলম্বিত সংকটের কথা মাথায় রেখে পরিচালন ব্যয় কমায় দুটি টার্মিনালের কার্যক্রম বন্ধ রেখেছে চ্যাঙ্গি। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ এ বিমানবন্দরের কার্যক্রম ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে।

বিজ্ঞাপন

বার্ষিক প্রতিবেদনে চ্যাঙ্গি এয়ারপোর্ট গ্রুপ জানায়, কোভিড-১৯ মহামারীর সঙ্গে লড়াই মাত্র শুরু হলো। পরিস্থিতি উন্নত হওয়ার কোনো লক্ষণ না দেখা দেয়ায় ভবিষ্যৎ খুব দুঃসহ মনে হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

চলমান বৈশ্বিক এ মহামারীর কারণে উড়োজাহাজ সংস্থা এবং পর্যটন ও ভ্রমণ খাতের মতো সংশ্লিষ্ট খাতগুলোয় আড়াই কোটি মানুষ চাকরি হারাতে পারে। এমনটাই মনে করছে ইন্টারন্যাশনাল এয়ার ট্রান্সপোর্ট অ্যাসোসিয়েশন (আইএটিএ)।

এভিয়েশন উপাত্ত সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান সিরিয়াম বলছে, বিশ্বের ২৬ হাজার যাত্রীবাহী উড়োজাহাজের এক-তৃতীয়াংশই গ্রাউন্ডেড অবস্থায় রয়েছে।

এসব নেতিবাচক খবরের মধ্যেও গত মে মাসে বিশ্বের সবচেয়ে ভালো বিমানবন্দর হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে চ্যাঙ্গি । স্কাইট্র্যাক্সের র‍্যাংকিং এ নিয়ে টানা অষ্টমবারের মতো বিশ্বের সেরা বিমানবন্দর হলো এটি।

২০১৯ সালে জুয়েল নামে ১৫ লাখ বর্গফুটের বিশাল একটি শপিংমল ও বিনোদন কেন্দ্র চালু করেছিল চ্যাঙ্গি  বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। সেখানে একটি রেইনফরেস্ট গোলকধাঁধাসহ বিশ্বের বৃহত্তম ভূগর্ভস্থ ঝর্ণা নির্মাণ করা হয়েছিল।

বিজ্ঞাপন

কিন্তু বার্ষিক আয়ের হিসাবে সেরা এ বিমানবন্দরের বেহাল উঠে এসেছে। স্বাভাবিক সময়ে যে আয় করত, বর্তমানে তার ভগ্নাংশ মাত্র আয় করছে তারা। নগদ অর্থ সঞ্চয়ে নির্বাহী ও কর্মীদের বেতন ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কর্তন করেছে চ্যাঙ্গি ।

চলতি বছরে শেয়ারহোল্ডারদের কোনো লভ্যাংশ না দেয়ারও সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এছাড়া পঞ্চম টার্মিনালটির নির্মাণ অন্তত দুই বছরের জন্য পিছিয়ে দিয়েছে।

চ্যাঙ্গির বার্ষিক মুনাফা ৩৬ শতাংশ কমে ৪৩ কোটি ৫০ লাখ সিঙ্গাপুর ডলার বা ৩১ কোটি ৯০ লাখ ডলারে দাঁড়িয়েছে। গত অর্থবছরে চাঙ্গির আয় ২ দশমিক ৬ শতাংশ বাড়িয়ে ৩১০ কোটি সিঙ্গাপুর ডলারে নিতে সহায়তা করেছে জুয়েল।

উড়োজাহাজ সংস্থা ও বিমানবন্দরগুলো কখন চাঙ্গা হবে তা নির্ভর করছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ কখন তাদের সীমান্ত খুলছে এবং ভ্রমণে নীতিমালা শিথিল করছে তার ওপর। এছাড়া নভেল করোনাভাইরাসের টিকা কিংবা নিরাময়যোগ্য চিকিৎসাও এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

গ্লোবাল সাপ্লাই চেইন সচল রাখতে কার্গো ফ্লাইট সচল রেখেছে চাঙ্গি। এর মাধ্যমে খাদ্য ও চিকিৎসা সরবরাহের মতো গুরুত্বপূর্ণ পণ্য সরবরাহ হয়েছে।

সিঙ্গাপুরে কোভিড-১৯ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সহায়তায় নিজেদের বিভিন্ন স্থাপনাকে আইসোলেশন কেন্দ্রে পরিণত করেছে চাঙ্গি।

বিভিন্ন ডরমিটরিতে গাদাগাদি করে বসবাস করা বিদেশী শ্রমিকদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ সেখানে অবস্থান করছেন। চাঙ্গির ক্যাজুয়ালটি ক্লিয়ারেন্স স্টেশনটি এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য। প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও সুযোগ-সুবিধা দিয়ে এটাকে আইসোলেশন কেন্দ্রে পরিণত করা হয়েছে।