চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

করোনার শিকার এশিয়ার ক্ষুদ্র পোশাক শিল্প ব্র্যান্ডগুলো

করোনাভাইরাসের কারণে বিশ্ব অর্থনীতিতে পড়েছে মারাত্মক প্রভাব। দীর্ঘ লকডাউন ও মানুষের জীবনযাত্রা থামিয়ে দেওয়ায় এই ক্ষতি দিনকে দিন বাড়ছে। এই ক্ষতি থেকে দূরে নেই এশিয়ার ক্ষুদ্র পোশাক শিল্প ব্র্যান্ডগুলোও। মারাত্মকভাবে ক্ষতির মুখোমুখি হচ্ছে এসব ফ্যাশন ব্র্যান্ডগুলো।

বিবিসি প্রতিবেদনে এমনই তথ্য উঠে এসেছে।

বিজ্ঞাপন

বিবিসি প্রতিবেদনে মালয়েশিয়া ভিত্তিক পোশাক ব্র্যান্ড মিম্পি কিটার কথা বলা যায়। এই প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা নুরুল জুলকিফ্লির জন্য এই সময়টা হওয়ার কথা বছরের সবচেয়ে ব্যস্ততম এবং লাভজনক সময়। মুসলিম বিশ্বের বড় উৎসব ঈদকে কেন্দ্র করে তার ইসলামিক পোশাক সাধারণত বড় ধরনের ব্যবসা করে থাকে, যার বিক্রির পরিমাণ ৯০ শতাংশই ঈদ কেন্দ্রিক হয়ে থাকে।কিন্তু লকডাউন তার এই প্রক্রিয়া স্তব্ধ করে দিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

তিনি বিবিসিকে বলছিলেন, এটি ক্রিসমাসের মতোই, যেখানে  বছরে সবচেয়ে বেশি শপিং করে থাকেন লোকজন, বিক্রিও হয় সেভাবে। কিন্তু করোনাভাইরাসের কারণে এই বিক্রি অর্ধেকে নেমে গেছে।

প্রথমে চীনে তার সাপ্লাই চেন ব্যাহত করে। তারপরে মালয়েশিয়া এবং যুক্তরাজ্যেও একই পরিস্থিতি দাঁড়ায় বলে জানান তিনি।

মালয়েশিয়াজুড়ে তার ব্র্যান্ডের দোকানগুলো বন্ধ করতে বাধ্য হয়, একইভাবে লন্ডনের ট্রেন্ডিং নটিং হিলের স্টকেও।

সত্যি বলতে শুধু এখানেই নয়, করোনা মহামারীর কারণে বিশ্বব্যাপী বৃহৎ এবং ক্ষুদ্র পোশাক ও ফ্যাশন ব্র্যান্ডগুলোতে প্রভাব ফেলেছে।

বিজ্ঞাপন

সম্প্রতি কনসালেটন্সি ফার্ম ম্যাককিনজি অ্যান্ড কোম্পানি  এক প্রতিবেদনে পূর্বাভাস দিয়েছে যে, বিশ্বব্যাপী ফ্যাশন/পোশাক শিল্পে আয় এ বছর ৩০ শতাংশ হ্রাস পাবে, বিলাসবহুল পণ্যের সাপ্লাই কম করতে পারা জন্য এই সংখ্যা ৪০ শতাংশে নেমে আসবে।

এতে আরও ভবিষ্যদ্বাণী করা হয় যে, যদি লকডাউন আরও তিন মাস অব্যাহত থাকে তবে ইউরোপ এবং উত্তর আমেরিকাজুড়ে ৮০ শতাংশের বেশি ব্র্যান্ড সংকটে পড়বে।

এসবের মধ্যই সবচেয়ে ক্ষতির মুখোমুখি মূলত এশিয়ার ক্ষুদ্র ফ্যাশনগুলোই। কারণ তাদের সংকট মোকাবিলায় নগদ অর্থ বা বিনিয়োগকারী নেই।

এমনই আরেকটি ক্ষুদ্র ফ্যাশন ব্র্যান্ড হলো সিঙ্গাপুর ভিত্তিক লেবেল এসেস, যা মিম্পি কিটা এর সমান চ্যালেঞ্জের সমান মুখোমুখি।

টেকসই ও পরিবেশ সচেতন ফ্যাশন হিসেবে এসেস ফেব্রুয়ারিতে নিউজিল্যান্ডে পপ আপ এবং ইভেন্টে সাপ্লাইয়ের মাধ্যমে শুরু করেছিলো। শুরুতে বেশ ভালো করছিলো প্রতিষ্ঠানটি। তকে এখন নিউজিল্যান্ডে লকডাউন এবং অপ্রয়োজনীয় আইটেমের সরবরাহ নিষিদ্ধ হওয়ার সাথে সাথে সিঙ্গাপুরের মতো নিউজিল্যান্ডেও বন্ধ হয়ে যায়।

এসেসে এর প্রতিষ্ঠাতা অ্যালিসিয়া তিসি বলছিলেন, কেনকাটা ও ফ্যাশনের চেয়ে মানুষের মনে অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে। লকডাউনের কারণে এসব বিষয় অবশ্যই মানুষকে প্রভাবিত করেছে। তারা ভাবছে এই কঠিন সময়ে কোন খাতে বেশি অর্থ ব্যয় করবেন আর করবেন না। এই অবস্থায় আমাদের ক্ষুদ্র শিল্পগুলো সত্যি ক্ষতির মুখোমুখি।

মিম্পি কিটা মূল ধারায় ক্ষতির মুখোমুখি হয়ে সম্প্রতি পিপিই উৎপাদনের দিকে নিয়ে গেছে তাদের পলিসি।

নুরুল ‍জুলকিফ্লিক বলছিলেন, বিক্রয় যদি এভাবেই  থেমে যায় আসলে আমাদের কী হবে তা আমি নিশ্চিত নই। তবে আমরা ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য সাধ্য মতো চেষ্টা করে যাবো।‘