চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

করোনার প্রকৃত চিত্র জানতে কমিউনিটি জরিপের পরামর্শ

দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণের ২৫তম সপ্তাহ শেষ হয়েছে গত শনিবার। আশার কথা এই সপ্তাহে নতুন রোগী ও পরীক্ষার তুলনায় শনাক্তের হার কমেছে।

এই সময়ে নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে ১৬ হাজার ৩০০ জন। অথচ তার আগের সপ্তাহেও এই সংখ্যা ছিল ১৮ হাজার ১০০ জন।

বিজ্ঞাপন

আবার সংক্রমণের ২৫তম সপ্তাহে পরীক্ষার বিপরীতে সংক্রমণ শনাক্তের হার ছিল ১৭ দশমিক ৩৪ শতাংশ। এই প্রথম টানা ১২ সপ্তাহ পর এক সপ্তাহে শনাক্তের হার ২০ শতাংশের নিচে নামলো।

বিজ্ঞাপন

তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু পরীক্ষায় শনাক্তের হার দেখে কমিউনিটি সংক্রমণ কমেছে- তা বলা যাবে না। আর প্রকৃত চিত্র জানতে কমিউনিটিতে পরীক্ষার পাশাপাশি জরিপ চালানোর পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, কমপক্ষে তিন সপ্তাহ সংক্রমণ পরিস্থিতির উঠা-নামা পর্যবেক্ষণ করলে দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণ পরিস্থিতি বোঝা যাবে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক ডিজি ও সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. এম এ ফায়েজ বলেন, শনাক্তের হার একসময় ২০ ভাগের বেশি ছিলো। এখন ২০ ভাগের কম। এইতো। কিন্তু এখানে দ্বিতীয়বার কোনো পরীক্ষা কি করছি?

বিজ্ঞাপন

‘‘দেশের বাইরে যাচ্ছে যারা তাদের পরীক্ষা করছে কিনা, এগুলো সবগুলো একসাথে যৌথভাবে আছে, আপনি যদি কেবল উপসর্গ যাদের আছে তাদের পরীক্ষা করেন, এরপর যদি এরকম নিচের দিকে যায় তবে বলা যেতো আমাদের সংক্রমণ কমে আসছে।’’

তিনি আরও বলেন, ‘ইনডিরেক্টলি বলা যায় হয়তো রোগীর সংখ্যা কমেছে। কিন্তু কমিউনিটি সংক্রমণ কমেছে কিনা- বুঝতে হলে আমাদের কমিউনিটিতেই পরীক্ষা করা দরকার।’

‘‘ওখান থেকে একটা জনসাধারণের ওপর পরীক্ষা করার পর ওদের মধ্যে পজিটিভ হার কেমন, এরপর কিছু দিন পর দ্বিতীয়বার আবার পরীক্ষা করার পর দেখে আমরা বুঝতে পারবো আসলে সংক্রমণ কমেছে কিনা৷’’

ঈদুল আজহার সময় সংক্রমণ বাড়বে বলে বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা সত্য করে ঈদের পরের সপ্তাহগুলোতে সংক্রমণ হার বেড়েছিল। এক পর্যায়ে মৃত্যু বাড়বে বলে তাদের সতর্কতার প্রমাণ দেখা গেল গত সপ্তাহে। শনিবার পর্যন্ত এক সপ্তাহে মৃত্যু হয়েছে ২৯৯ জনের।

বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা যে পরিমাণ পরীক্ষার কথা বলে তার তুলনায় বাংলাদেশে অনেক কম পরীক্ষা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী প্রতিদিন কমপক্ষে ২০ হাজার মানুষের পরীক্ষা করে শনাক্তের হার ৫ শতাংশের নিচে নেমে এলে বলা যাবে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এসেছে।