চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

করোনার দ্বিতীয় ধাক্কায় বিধ্বস্ত নেপাল

পরশুরাম মৌর্য। তার করোনা আক্রান্ত বাবাকে বাঁচাতে এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে ছুটে বেড়িয়েও ব্যর্থ হয়েছেন!

দম বন্ধ করা কণ্ঠে বলছিলেন সেই দুঃসহ সময়ের কথা! পঞ্চাশোর্ধ্ব বাবার জন্য তিনটি হাসপাতালে ঘুরে বেড়ান তিনি। কিন্তু সব হাসপাতাল অক্সিজেনের সংকটে ভর্তি করাতে অস্বীকৃতি জানায়। শেষে যখন একটি হাসপাতালে বেড যোগাড় করতে সক্ষম হন, ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গেছে!

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

বিবিসিকে পরশুরাম বলছিলেন, বাবার মৃত্যুতে আমরা বিধ্বস্ত হয়ে পড়েছি। তিনিই ছিলেন পরিবারের একমাত্র ভরসা। এখন আমাকে পরিবার এবং ছোট তিন ভাইয়ের দেখাশোনা করতে হবে। আমার মা অবিরাম কেঁদে যাচ্ছেন।

এভাবে হাজার হাজার মানুষ নেপালে তাদের প্রিয়জন হারিয়েছেন। করোনার প্রথম ধাক্কায় কোনো রকম পার পেয়ে গেলেও দ্বিতীয় ধাক্কায় বিধ্বস্ত হয়ে পড়েছে হিমালয়ের এই দেশটি।

৩০ লাখ জনসংখ্যার নেপাল মূলত চীন ও ভারতের সীমানায় অবস্থিত।চিকিৎসা সরঞ্জাম ও অক্সিজেনের জন্য ভারতের ওপর নির্ভরশীল দেশটি। কিন্তু ভারত অক্সিজেনের রপ্তানি বন্ধ করায় কাঠমন্ডু বিকল্প সরবরাহের সন্ধ্যানে লড়াই শুরু করে।

ভারত থেকে ভ্যাকসিন বন্ধ করাটাও বড় ধাক্কা হয়ে এসেছে নেপালের জন্য। টিকা কর্মসূচি শুরু করে অনেকটা এগিয়েছিলো। ৪ লাখ মানুষ উভয় ডোজ টিকাও পেয়েছেন। কিন্তু  ভারত হঠাৎ করে ভ্যাকসিন রপ্তানি স্থগিত করলে অন্যান্য দেশের মতো নেপালও সংকটে পড়ে যায়। এমন পরিস্থিতিতে মারাত্মকভাবে বেড়ে গেছে করোনা সংক্রমণ।

বিজ্ঞাপন

স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলছেন, দেশে বর্তমানে দৈনিক পজিটিভ শনাক্তের হার প্রায় ৫০ শতাংশ, যার অর্থ প্রতি দুই জনের একজন করোনা পজিটিভ হচ্ছেন। আনুমানিক ৮০ হাজার মানুষ হোম আইসোলেশনে রয়েছেন।

মূলত ভারতের সীমান্ত এলাকায় সংক্রমণের হার ভয়াবহ। উদ্বেগজনক হারে সংক্রমণ বৃদ্ধি এবং হাসপাতালে শয্যা ও অক্সিজেনের ঘাটতি দেখা দিয়েছে।

নেপালে দ্বিতীয় ধাক্কায় এপ্রিলের শুরুতে দৈনিক সংক্রমণ ১৫০ জনের মতো থাকলেও এক মাসের ব্যবধানে এখন দৈনিক ৯ হাজার করে শনাক্ত হচ্ছে।  গত ২৪ ঘণ্টায় ২২৫ জন মৃত্যু নিয়ে মোট মৃত্যু দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৮৪ জনে। দেশটিতে মোট আক্রান্ত হয়েছে ৪ লাখ ১৩ হাজার ১১১ জন।

নেপালের ভয়াবহ পরিস্থিতি নিয়ে সতর্ক করেছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

সরকারি স্বাস্থ্য জরুরি অপারেশন কেন্দ্রের প্রধান ডা. সমীর কুমার বলছিলেন, আমরা যদি এখনই তা নিয়ন্ত্রণ করতে না পারি, তাহলে পরিস্থিতি বিপর্যয়কর হয়ে উঠবে।