চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

করোনায় শুধু অর্থনীতি নয় মানসিকভাবেও বিপর্যস্ত কানাডিয়ানরা

করোনা মহামারির প্রথম দিকে কানাডিয়ানদের সুস্থ স্বাভাবিক জীবনযাপনের সমস্যা না হলেও ধীরে ধীরে এর প্রতিফলন ঘটতে থাকে। বিশেষ করে ঘরবন্দি কানাডিয়ানরা ঘরে বসে কর্মহীন থাকায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে।

অব্যাহত করোনার থাবা পুরো বিশ্বকে এক অনিশ্চিত অবস্থার মধ্যে ফেলে দিয়েছে। প্রতিনিয়ত সংবাদমাধ্যমে খবর প্রচার হচ্ছে কীভাবে একে ঠেকানোর নানা চেষ্টা সত্ত্বেও নানা দেশে অবিশ্বাস্য দ্রুতগতিতে এই ভাইরাস ছড়াচ্ছে, হাজারো লোক আক্রান্ত হচ্ছে, অনেকে মারা যাচ্ছে, এক একটি দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থা রোগীর চাপে ভেঙে পড়ছে।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

এসব খবর দেখে, শুনে এবং পড়ে কোটি কোটি মানুষের মনে তৈরি হয়েছে তীব্র উদ্বেগ। কনাডাতেও এর বিরূপ প্রভাব পড়েছে। গবেষণায় প্রাপ্ত তথ্য মতে, করোনাকালীন সময়ে কানাডায় কমপক্ষে ৪০ শতাংশ নাগরিক মানসিক স্বাস্থ্য, আসক্তি বা অ্যালকোহলজনিত সমস্যার মুখোমুখি হয়েছেন। ইপসসের জরিপ অনুযায়ী, মহামারিকালীন সময়ে কর্মসংস্থান হারানো, সামাজিক বিচ্ছিন্নতা এবং ভ্রমণ সংক্রান্ত বিধিনিষেধের ফলশ্রুতিতে কানাডিয়ানদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

এক সমীক্ষায় বলা হয়েছে, মহামারি শুরুর আগের তুলনায় এখন কানাডিয়ানদের মানসিক স্বাস্থ্যের অবস্থা খারাপ। এতে অ্যালকোহলে ব্যয় বেড়েছে।

সমীক্ষায় প্রতি পাঁচ জনে দু’জন কানাডিয়ান জানান, করোনাকালীন তাদের মানসিক স্বাস্থ্য মহামারি শুরুর আগের চেয়ে খারাপ। মানসিক বিপর্যস্ত অবস্থা ঠেকাতে অ্যালকোহলের ব্যয় বেড়েছে।

বিজ্ঞাপন

তাছাড়া বাচ্চাদের লেখাপড়াই কেবল নয়, সুস্থ জীবন যাপনের জন্য ইন পার্সন ক্লাশের (হাই স্কুল এবং ইলিমেন্টারি স্কুল) বিকল্প কিছু নাই। বাচ্চাদের জন্য ইন পার্সন ক্লাশ এতোটাই গুরুত্বপূর্ণ যে যখন আর কোনো উপায় নেই কেবল তখনি ক্লাশ বন্ধের বিষয়টি বিবেচনায় নেয়া উচিৎ।

কানাডার অন্যতম প্রধান চিকিৎসা কেন্দ্র সিক কিডস হাসপাতালের বিশেষজ্ঞদের একটি প্যানেল পুরো প্রভিন্সের বিশেষজ্ঞদের সাথে আলাপ করে তৈরি করা প্রতিবেদনে এই মতামত দিয়েছে। বিশেষজ্ঞ প্যানেল বলেছে, ব্যাপক টেস্টিং সুবিধা নিশ্চিত করা সাপেক্ষে স্কুলগুলো খুলে দেয়ার পক্ষে তারা।

গত ফলে স্কুল খুলে দেয়ার পর বিভিন্ন স্কুলে শিক্ষক, শিক্ষার্থীদের সংক্রমিত হ্ওয়ার তথ্য থাকলেও সিক কিড হাসপাতালের বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, কমিউনিটিতে যে পরিমাণ সংক্রমণ ঘটেছে সেটি বিচেনায় নিলে স্কুলগুলোর অবস্থা খুবই ভালো ছিলো।

বিশেষজ্ঞরা স্কুল বন্ধ রাখার কারণে ছেলে মেয়েদের শরীর এবং মনে যে প্রতিক্রিয়া হচ্ছে সেটি নিয়ে বেশি উদ্বিগ্ন।

উল্লেখ্য, কানাডায় ইতিমধ্যেই ভ্যাকসিন প্রয়োগ শুরু হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন করোনার থাবা শুধু অর্থনীতিই নয়, মানুষের মনের অবস্থাকেও ব্যাপকভাবে পরিবর্তন করেছে, পূর্বে কখনো কানাডিয়ানরা এ ধরনের অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয়নি। ফলে এক ধরনের বিপাকে পড়েছে কানাডিয়ানরা। এ সাময়িক অবস্থায় ধৈর্য ধরার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।