চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

করোনামুক্তির পথে বাংলাদেশ?

শনাক্তের হার মাত্র ৫ শতাংশ

বাংলাদেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণের পর গত ৯ মাসের মধ্যে সবচেয়ে কম আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছে গত ২৪ ঘণ্টায়। অনেকে ধারণা করতে পারেন, কম পরীক্ষার কারণে শনাক্তের হার কমেছে। আসলে তা নয়। ১৪ হাজার ৭৯১ নমুনা সংগ্রহ করে তার মধ্যে ১৪ হাজার ৩৬৩টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। নমুনার সংখ্যা অনুপাতে শনাক্তের হার ৫ শতাংশ। গতকাল এই হার ছিল ৬ দশমিক ০২ শতাংশ।

শনাক্তের এই হার (৫ শতাংশ) আসলে কী বার্তা দেয়? একটা হতে পারে- নানা কারণে বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ আসলেই কমে গেছে। আরেকটা হতে পারে-করোনাভাইরাসের টেস্ট করানোর বিষয়ে এক রকমের অনীহা বা অনাগ্রহ তৈরি হয়েছে। যার প্রভাব পড়ছে সার্বিক শনাক্তের হারে। পাশাপাশি হার্ড ইমিউনিটির একটা বিষয়তো আছেই।

আমাদের আত্মীয়-পরিজন কিংবা পরিচিতদের সূত্রে অনেকেই জানি; এখন আর আগের মতো আতঙ্ক নিয়ে মানুষ করোনাভাইরাসের টেস্ট করাতে যান না। উপসর্গ দেখা দিলে তারা অনানুষ্ঠানিক আইসোলেশনে চলে যাচ্ছেন। তারপর এখন পর্যন্ত করোনাভাইরাসের জন্য যে প্রচলিত চিকিৎসা পদ্ধতি, তা অনুসরণ করে করোনামুক্তও হচ্ছেন। এই সংখ্যাটা কিন্তু কম নয়। এদের হিসাব সরকার বা আইইডিসিআর-এর কাছেও পৌঁছায় না।

বিজ্ঞাপন

মানে দাঁড়াচ্ছে করোনা আক্রান্তদের একটা বড় অংশই এখন হিসাবের বাইরে থেকে যাচ্ছে। এই সংখ্যাটা যোগ হলে হয়তো আক্রান্ত শনাক্তের আরও বাড়তো। তবে যেভাবেই হোক না কেন, শনাক্তের হার কমায় আমাদের জন্য আশার আলো।

অনেক আগে থেকে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে হার্ড ইমিউনিটির কথা বলে আসছিলেন। আমাদের ধারণা দেশের জনসংখ্যার বড় একটা অংশের মধ্যে হার্ড ইমিউনিটি তৈরি হয়ে গেছে। যদিও তার কোনো সঠিক পরিসংখ্যান নেই। আবার কোনো ব্যক্তি করোনামুক্ত হওয়ার পর তার শরীরে ঠিক কতদিন অ্যান্টিবডি স্থায়ী হয়- সেটা নিয়েও নির্দিষ্ট বৈজ্ঞানিক তথ্য নেই।

এমন পরিস্থিতির মধ্যেই সরকার করোনা ভ্যাকসিন দেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এরই মধ্যে ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটের কাছে থেকে ৩ কোটি ডোজ করোনা ভ্যাকসিন কেনার জন্য চুক্তিও করেছে। আগামী ২১ থেকে ২৫ জানুয়ারির মধ্যে সেই ভ্যাকসিনের একটা অংশ বাংলাদেশে এসে পৌঁছাবে বলে নিশ্চিত করেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

আমরা মনে করি, করোনা শনাক্তের হার কমে যাওয়া এবং ভ্যাকসিনের সঠিক প্রয়োগ; জাতিকে করোনাভাইরাস মুক্তির পথ দেখাবে। তবে সবকিছুর পরও সাবধানতার বিকল্প নেই। যতোই ভ্যাকসিন আসুক না কেন, স্বাস্থ্যবিধি না মানলে পুরোপুরি করোনামুক্তি সম্ভব নয়।

বিজ্ঞাপন