চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

৫ থেকে ৬ কোটি ভ্যাকসিনই আপাতত যথেষ্ট: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) পরিস্থিতিতে দেশে এর প্রাদুর্ভাব রুখতে ৫ থেকে ৬ কোটি ভ্যাকসিনই আপাতত যথেষ্ঠ বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক। 

তিনি জানিয়েছেন: ক্লিনিকাল ট্রায়ালে অংশ না নেওয়ার ১৮ বছরের নিচে ৪০ শতাংশ জনগোষ্ঠী এবং গর্ভবতী নারীদের করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) ভ্যাকসিন না দেওয়ার সম্ভব্যতা রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

সেক্ষেত্রে, করোনার বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবেলায় একজন ব্যক্তির জন্য দু’ডোজ (অ্যাস্ট্রাজেনেকা) করোনা ভ্যাকসিনের চাহিদার সমীকরণে ৩ কোটি মানুষকে ভ্যাকসিন প্রদানের টার্গেট স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের।

বুধবার ঢাকার মহাখালীস্থ বিসিপিএস অডিটরিয়াম হলে একটি আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

বিজ্ঞাপন

এসময় তিনি বলেন: আগামী জুন মাসের মধ্যে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকে ৫-৬ কোটি ডোজ ভ্যাকসিন দেশে চলে আসবে। ভ্যাকসিন ট্রায়ালে অংশ না নেয়ায় ১৮ বছরের নিচে দেশের প্রায় ৪০ শতাংশ মানুষকে ও গর্ভবতী প্রায় ৩৫ লাখ মায়েদেরকে ভ্যাকসিন দেয়া না লাগলে ৫-৬ কোটি ভ্যাকসিন প্রয়োগেই দেশ অনেকটা নিরাপদ হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

ভ্যাকসিন প্রাপ্তি প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন: ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউটের সাথে যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড ভ্যাকসিন আনতে গত ৫ নভেম্বর সরকার চুক্তি করছিল। আজ যুক্তরাজ্য সরকার সেই অক্সফোর্ড ভ্যাকসিন রাষ্ট্রীয়ভাবে অনুমোদন দিয়েছে। এটি অবশ্যই আমাদের জন্য সুখবর। এরপর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অনুমোদন হওয়া মাত্রই সেটি ভারতের পাশাপাশি আমরাও পেয়ে যাবো।

ব্লুমবার্গের স্বীকৃতিকে ছোট করে দেখার কোন সুযোগ নেই উল্লেখ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও জানান: ব্লুমবার্গ কেবল দেশের অর্থনৈতিক সফলতা দেখেই রিপোর্টটি করেনি। প্রতিষ্ঠানটি করোনা মোকাবেলায় প্রয়োজনীয় জনবল, অবকাঠামো, টিকাদান সক্ষমতা, চলাফেরা নিয়ন্ত্রণের মতো গুরুত্বপূর্ণ অন্তত ১০টি মেট্রিক্স বিবেচনা করে এই ফলাফল ঘোষণা করেছে। কাজেই এই ফলাফল আমাদের জন্য এক বিরাট অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী এই ফলাফলে আত্মতুষ্টিতে না ভুগে আরও গতিশীলভাবে কাজে নেমে পড়তে হবে বলে উপস্থিত চিকিৎসকদের জানান।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাশার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম-এর সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে আরো বক্তব্য রাখেন: স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব মো. আবদুল মান্নান, স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিব মো. আলী নূর, বিএমএ সভাপতি ডাঃ মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, স্বাচিপ-এর মহাসচিব অধ্যাপক ডা. এম এ আজিজ, স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এ এইচ এম এনায়েত হোসেন, বাংলাদেশ প্রাইভেট মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মুবিন খানসহ অন্যান্য ঊর্দ্ধতন কর্মকর্তারা।