চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

করোনাভাইরাস সর্ম্পকে আমরা কী কী জানি না

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে মাত্র কয়েক মাসেই সারাবিশ্বে প্রায় ৩০ হাজার ৮৯২ মানুষ মারা গেছেন।এই ভাইরাস কীভাবে মানুষের মধ্যে এলো, এর বৈশিষ্ট্য কী, এর প্রতিষেধক কীভাবে আবিষ্কার করা যায়- তা নিয়ে সারা পৃথিবীতে গবেষণা চালাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা।

তবে মাত্র কয়েকমাস আগে মানুষের মধ্যে সংক্রমিত হওয়া এই ভাইরাস সম্পর্কে এখনও অনেক তথ্যই জানেন না তারা।

বিজ্ঞাপন

বিবিসির প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে ‘করোনাভাইরাস সম্বন্ধে আমরা কী জানি এবং কী কী জানি না৷’ সে সম্পর্কে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ হয়েছে। আসুন, তা হলে জেনে নেওয়া যাক৷-

বিজ্ঞাপন

কত মানুষ এই ভাইরাসে আক্রান্ত

পৃথিবীতে কত শতাংশ মানুষ করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত এই তথ্য সবার কাছেই এখনও ধোঁয়াশা।ওয়াল্ডমিটারের তথ্য মতে,আক্রান্তের সংখ্যা ৬ লাখ ৬৪ হাজার ৬৭২ জন।কিন্তু এটা শুধুমাত্র একটা সংখ্যা। কোভিড-১৯ আক্রান্ত হয়ে এমন অনেক মানুষ আছে যারা ভাইরাসটি বহন করছে,কিন্তু তাদের শারীরিক অসুস্থতা এখনও প্রকাশ পায়নি।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভাইরাস মোকাবেলায় অ্যান্টিবডি যদি পরীক্ষা করা হয় তবেই বোঝা যাবে করোনভাইরাসটি কতদূর বা কত সহজে ছড়াচ্ছে।

বাস্তবেই এটা কতোটা মরণঘাতি

যতক্ষণ না আমরা জানতে পারি পুরো বিশ্বে কত শতাংশ করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত, সেক্ষেত্রে মৃত্যুর হার সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া অসম্ভব। এই মুহূর্তে অনুমান করা হয় যে ভাইরাসে আক্রান্ত প্রায় ১ শতাংশ লোক মারা যায়।তবে এমন অনেক রোগী আছে তারা নিজেরাও জানেন না তারা কোভিড-১৯ আক্রান্ত। সে হিসেব কষলে প্রকাশিত মৃত্যু হারের চেয়ে কম হতে পারে।

লক্ষণগুলো নিয়েও ধোঁয়াশা

জ্বর দিয়ে ভাইরাসের সংক্রমণ শুরু হয়, এরপরে শুকনো কাশি দেখা দিতে পারে। প্রায় এক সপ্তাহ পরে শ্বাসকষ্ট শুরু হয়ে যায়।তারপর কিছুক্ষেত্রে গলা ব্যথা, মাথা ব্যথা এবং ডায়রিয়ার খবর পাওয়া গেছে।এমন উপসর্গ দেখে রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দিতে হয়।

তবে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হ’ল হালকা, ঠান্ডা জাতীয় লক্ষণ যেমন সর্বাধিক সর্দি, নাক দিয়ে পানি পড়া, হাঁচি দেওয়া কিছু রোগীদের মধ্যে এমন উপসর্গ দেখা যায়। গবেষণাগুলি পরামর্শ দিয়েছে,যদি এমন রোগী থাকে তাহলে একটা সম্ভবনা থাকে এদের মধ্যে হয়ত কেউ এই ভাইরাসটি বহন করছে,কিন্তু হয়ত অ্যান্টিবডি হওয়ায় ওই ব্যক্তি নিজে আক্রান্ত না হলেও অন্য কেউ তার নিকট থেকে সংক্রামণ হতে পারে।

শিশুরা কতটা নিরাপদ? শিশুরা কি আক্রান্ত হয়?

শিশুরা অবশ্যই করোনভাইরাসে আক্রান্ত হতে পারে। তবে শিশুদের বেশিরভাগ ক্ষেত্রে হালকা লক্ষণ দেখা দেয় এবং অন্যান্য বয়সের তুলনায় শিশুদের মধ্যে তুলনামূলকভাবে কম মৃত্যু ঘটে।

তবে কোন শিশু যদি স্কুল অথবা খেলার মাঠে খেলতে যায় এমনকি সংক্রামণ আছে এমন ব্যক্তির কাছাকাছি থাকে তাহলে শিশুটি আক্রান্ত হতে পারে।

কোথা থেকে এলো করোনাভাইরাস?

অনেক সময়ই কোন একটি প্রাণী থেকে এসে নতুন নতুন ভাইরাস মানব শরীরে বাসা বাধতে শুরু করে।বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ধারণা সাম্প্রতিক ভাইরাসটির উৎস কোনো প্রাণী।

যতটুকু জানা যায়, মানুষের আক্রান্ত হবার ঘটনাটি ঘটেছে চীনের উহান শহরে সামুদ্রিক মাছ পাইকারি বিক্রি হয় এমন একটি বাজারে।

বিজ্ঞাপন

করোনাভাইরাস ভাইরাস পরিবারে আছে তবে এ ধরণের ছয়টি ভাইরাস আগে পরিচিত থাকলেও এখন যেটিতে সংক্রমিত হচ্ছে মানুষ সেটি নতুন।

বেশিরভাগ করোনাভাইরাসই বিপজ্জনক নয়, কিন্তু আগে থেকে অপরিচিত এই নতুন ভাইরাসটি ভাইরাল নিউমোনিয়াকে মহামারির দিকে ঠেলে দিতে পারে বলে আশংকা করা হচ্ছে এবং অবশেষে এই রোগটির সংক্রমণ বিশ্বব্যাপি ছড়িয়ে পড়ায় এটিকে বিশ্ব মহামারি ঘোষণা করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

গরম পড়লেই কি কমে যাবে সংক্রমণ

এটা ঠিক যে অনেক সংক্রামক রোগ- বিশেষ করে ফ্লু, শীতের মাসগুলোতেই বেশি হয়। ডিসেম্বরে প্রথম যখন চীনের করোনাভাইরাস ছড়ায় তখন সেখানে বেশ ঠাণ্ডা ছিল। পরবর্তীতে যেসব দেশে এই ভাইরাস ধ্বংসযজ্ঞ শুরু করে, সেগুলোর অনেকগুলোই শীতপ্রধান। ফলে, একটি সাধারণ ধারণা তৈরি হয়েছে যে গরম পড়লেই এই ভাইরাস মরে যাবে। কিছু কিছু গবেষণাতেও দেখা, গরম আবহাওয়াতে নতুন এই করোনাভাইরাসের স্থায়িত্ব অপেক্ষাকৃত কম।

তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) বলছে, যেহেতু ভাইরাসটি নতুন, সুতরাং নিশ্চিতভাবে বলা এখনও সম্ভব নয় যে, গরম- স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়ায় এই ভাইরাস বাঁচেনা । বরঞ্চ এখন পর্যন্ত যেসব প্রমাণ বিজ্ঞানীদের হাতে রয়েছে, তাতে যে কোনো জায়গায়, যে কোনো আবহাওয়াতেই কোভিড-১৯ ভাইরাস বিস্তারের ক্ষমতা রাখে।

কিছু কিছু লোকের কাছে কেন এটা মারাত্মক হয়ে যায়

কোভিড -১৯ বেশিরভাগের জন্য একটি হালকা সংক্রমণ। তবে প্রায় ২০ শতাংশ মানুষের কাছে ভাইরাসটি মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে।যদি কোন ব্যক্তির রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকে এবং জিনগত কোন পরিবর্তনের ফলে ভাইরাসটি অনেকসময় মরণঘাতী হয়ে যায়।

করোনাভাইরাসকে কাবু করা তেমন কোনও প্রতিষেধক বা ওষুধ নেই বলে, এই ভাইরাসের হানা ঠেকাতে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার উপর অনেরকটা ভরসা করতে হবে।

আপনার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কতোক্ষণ এর সাথে লড়াই করতে পারে

কোন ব্যক্তির যদি কোন দীর্ঘমেয়াদী রোগ থাকে, তাহলে তার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকে।. করোনাভাইরাস প্রতিরোধের প্রথম ধাপ হলো ব্যক্তিগত সচেতনতা গড়ে তোলা এবং প্রত্যেকের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অর্থাৎ ইমিউন সিস্টেম বাড়িয়ে তোলা।এর ফলে করোনাভাইরাস সংক্রমণের যে মারাত্মক লক্ষ্মণ অর্থাৎ শ্বাসযন্ত্র এবং পরিপাকতন্ত্রের সংক্রমণ, সেগুলো সহজে প্রতিরোধ করা সম্ভব। সহজভাবে বললে, যেকোনো ভাইরাস হলো প্রোটিন যুক্ত অণুজীব, যার কারণে মানুষ জ্বর, কাশি, শ্বাসকষ্ট এমনকি মারাত্মক নিউমোনিয়ায় (নতুনভাবে) আক্রান্ত হতে পারে।

তা ছাড়া এই ভাইরাস ভয়ংকর প্রাণঘাতী রোগ তৈরি করতে পারে খুব সহজে। তাই শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য বেশি পরিমাণে অ্যান্টি–অক্সিডেন্টসমৃদ্ধ খাবার খেতে হবে প্রতিদিন।

সবারই উপসর্গ হয়?

বিজ্ঞানীর খুঁজে চলেছেন কত জনের মৃদু উপসর্গ হয় বা একেবারেই হয় না, অথচ তারা রোগ ছড়াতে পারেন৷ মোটামুটি একটা হিসাব থেকে জানা গিয়েছে, এদের মধ্যে ৫০ শতাংশ মানুষ সংক্রমণ ছড়াতে পারেন৷

কত দিন লাগে বুঝতে যে সংক্রমণ হয়েছে?

সংক্রমণ হওয়ার পর উপসর্গ দেখা দিতে মোটামুটি ২-১৪ দিন সময় লাগে, যাকে বলে ভাইরাসের ইনকিউবেশন পিরিয়ড৷ একটি সমীক্ষা জানাচ্ছে, গড়ে পাঁচ দিনের মধ্যেই উপসর্গ প্রকাশ পায়৷

এটা কি মানুষ তৈরি করেছে?

না, ভাইরাসের জেনেটিক সিকোয়েন্স স্টাডি করে জানা গেছে ভাইরাস এসেছে প্রাকৃতিক নিয়মে৷ কোনও গবেষণাগারে তৈরি হয়নি৷