চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

করোনাভাইরাস: সন্দ্বীপের মানুষ কতটা সচেতন?

করোনাভাইরাস নিয়ে অনেকের মাঝে আতংক ছড়িয়ে পড়েছে। সন্দ্বীপে করোনাভাইরাস প্রতিরোধে মানুষকে সচেতন করার জন্য সরকার যে প্রচার প্রচারণা চালাচ্ছে, তা সন্দ্বীপে অনেক মানুষের কাছে এখনও পৌঁছায়নি।

সন্দ্বীপের বিভিন্ন গ্রাম থেকে বিভিন্ন পেশার অনেক মানুষের সাথে কথা বলে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।

বিজ্ঞাপন

তারা বলেছেন, সন্দ্বীপের অনেক মানুষ সঠিক তথ্য না জানায় তাদের মধ্যে সচেতনতার অভাব রয়েছে। তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে বা লোকমুখে নানান ধরনের খবর জেনে অনেক মানুষের মাঝে আতংক ছড়িয়ে পড়ার খবরও পাওয়া যাচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

অন্যদিকে স্থানীয় প্রশাসন বলছে, আতংকিত না হয়ে মানুষ যেনো সতর্ক থাকে- সেই লক্ষ্যেই সরকার শহরে ও কার্যকরভাবে সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালাচ্ছে।

কিন্তু সরকারের সচেতনতামূলক কর্মসূচি শহরের বাইরে সন্দ্বীপের মানুষের কাছে পৌঁছোনো কতটা সম্ভব হয়েছে- তা নিয়ে অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন এই দ্বীপের বাসিন্দারা।

সন্দ্বীপের বাউরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জামাল উদ্দিন। তিনি বলছিলেন, তাদের এলাকার বিভিন্ন গ্রামে মানুষের মাঝে করোনাভাইরাসের ব্যাপারে সচেতনতার বড় ঘাটতি তিনি দেখছেন। এই অবস্থাটা এখনও সন্দ্বীপে আছে যে, ঢাকা বা বিদেশে কি হয় হোক, আমাদের এখানে সেভাবে আসবে না। এই ধারণাটা আছে। মানে সন্দ্বীপে দেখা যাচ্ছে, তারা আগের মতই দিন যাপন করছে।

বিজ্ঞাপন

জামাল উদ্দিন আরও বলেছেন, তাদের মধ্যে শুধু মুখে মুখেই কথাগুলো হচ্ছে যে, করোনা ভাইরাস আসছে, যেমন আগে মহামারি আকারে কলেরা বা বসন্ত হতো। সেটা মনে করছে যে, এটাও হয়তো আমাদের ভাগ্যের একটা বিড়ম্বনা, যে করোনাভাইরাস আসবে, কিছু মরে যাবে। যে ঠেকাতে পারবে ঠেকাবে। আর না হলে এটাই আমাদের ভাগ্যের কথা। সন্দ্বীপের গ্রামগুলোতে কথা বলে দেখলাম যে এরকমই ভাবনা।

সন্দ্বীপে করোনাভাইরাস ঠেকাতে পরিচ্ছন্নতার ওপর জোর দেয়া হচ্ছে কিনা? এই প্রশ্নে একজন সমাজকর্মি জান্নাতুল ফারজানা বলছিলেন, সরকারের সচেতনতামূলক কর্মসূচি সম্পর্কে তাদের এলাকায় এখনও সেভাবে কিছু জানা যায় না।

তিনি উল্লেখ করেছেন, বাংলাদেশে তিনজন আক্রান্ত হওয়ার কথা যখন ঘোষণা করা হয়, মিডিয়া এবং সামাজিক মাধ্যমে বা লোকমুখে সেই খবর জানার পর থেকে সন্দ্বীপ উপজেলা মানুষের একটা অংশের মাঝে আতংক ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু অনেক মানুষ সচেতনতার অভাবে বিষয়টাকে পাত্তাই দিচ্ছে না জান্নাতুল ফারজানা মনে করেন।

তিনি আরও বলছিলেন, আসলে এখনও অতটা সচেতনতা তৈরিই হয় নাই। যতটা না আতংকিত হচ্ছে।এত আতংকিত হচ্ছে যে,১০টাকার মাস্ক ৫০ টাকায় ১০০টাকায় বিক্রি হচ্ছে এই গ্রামে। এত আতংক যে কী করবে- সেটা মানুষ বুঝতে পারছে না। মানুষ আসলে বিভ্রান্ত হয়ে গেছে। আমি সন্দ্বীপ থাকি। আমি সন্দ্বীপের মানুষকে যদি জিজ্ঞেস করি, ঐ মাস্ক কিনতে হবে, এটাই যেনো তাদের কাছে বড় হয়ে গেছে। কিন্তু আরও যে কিছু বিষয় আছে, ঐ পরিমাণ সচেতন এখনও হয় নাই।

সন্দ্বীপের বিভিন্ন এলাকা থেকে যে চিত্র পাওয়া যাচ্ছে, তা মানতে রাজি নন সরকারি কর্মকর্তারা।

স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাক্তার ফজলুল করিম বলছিলেন, সচেতনতা সৃষ্টির সরকারের কর্মসূচি সন্দ্বীপের প্রত্যন্ত অঞ্চলেও কার্যকর প্রভাব ফেলছে। আমাদের কার্যক্রমের প্রধান অংশই হলো সচেতনতা সৃষ্টি করা এবং গুজব বা আতংক দূর করা। স্বাস্থ্যখাতের মাঠ পর্যায়ে একইভাবে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।