চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

করোনাভাইরাস: শুভবুদ্ধির উদয় কবে হবে?

করোনাভাইরাস শনাক্তের ১০২তম দিনে দেশে রোগীর সংখ্যা আনুষ্ঠানিকভাবে লাখের দ্বারপ্রান্তে। একদিন পরই হয়তো এই সংখ্যা লাখ ছাড়িয়ে যাবে। এমনটা যদিও প্রত্যাশিত নয়, তবুও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত অনলাইন বুলেটিনে প্রতিদিনের শনাক্তের সংখ্যা পর্যালোচনায় এমনটা বলা যায়।

এক লাখ মানুষ স্বাভাবিক বিবেচনায় হয়তো একটা সংখ্যা, কিন্তু আমাদের কাছে এই হিসাবটা শুধু সংখ্যা নয়। বরং এটা হাজার হাজার পরিবারের জানা অজানা ভোগান্তির উপাখ্যান। এদের মধ্যে মৃত্যুর সংখ্যাও ইতোমধ্যে হাজার ছাড়িয়ে গেছে। এই সংখ্যার হিসাবগুলো হাজারও পরিবারের এবং লাখো মানুষের স্বপ্ন তছনছ করে দিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের ১০২তম দিনের পরিসংখ্যানেও দেখা যায়, গত ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৪ হাজার ৮ জনের দেহে করোনাভাইরাস এর উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে ৪৩ জন মারা গেছেন। এসময়ে সুস্থ হয়েছেন ১ হাজার ৯২৫ জন। এছাড়া এর আগে একদিনে মৃত্যুর সংখ্যা ৫০ ছাড়িয়েছিল।

বিজ্ঞাপন

এরমধ্যেই আওয়ামী লীগের নেতা ও সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম, ধর্ম প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট শেখ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ, সিলেটের সাবেক মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরানসহ আওয়ামী লীগের অনেক নেতা মারা গেছেন। এছাড়া করোনা যুদ্ধে সামনের সারিতে থাকা ডাক্তার, পুলিশ, সাংবাদিকসহ নানা পেশার মানুষজনও মারা গেছেন। সর্বশেষ বাণিজ্যমন্ত্রীসহ আরও অনেকের করোনায় আক্রান্ত হওয়ার অপ্রত্যাশিত খবর আসছে।

করোনাভাইরাস শনাক্তের শুরুর দিকে কঠোর লকডাউন দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেয়ার সুযোগ ছিল। তবে পরিস্থিতি সামাল দিতে যে একেবারে চেষ্টা করা হয়নি তাও নয়। দেশের ইতিহাসে দীর্ঘ সাধারণ ছুটি ছিল গত ২৬ মার্চ থেকে ৩১ মে পর্যন্ত। এছাড়াও সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা ছিল করোনাভাইরাস মোকাবেলায়। কিন্তু এ প্রচেষ্টা আরও কঠোরভাবে সফল করা যেত।

করোনাভাইরাস মোকাবেলায় সরকারের নানা দপ্তরের সমন্বয়হীন প্রচেষ্টার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সচেতনতারও অনেক ঘাটতি আছে। কুসংস্কার থেকে শুরু করে নিয়ম না মানার প্রবণতা আমরা লক্ষ্য করেছি। এর ফলে আমরা অনেক মানুষকে যেমন হারিয়েছি, তেমনই লাখো মানুষ আক্রান্ত হচ্ছেন। এমনকি এখন করোনাভাইরাস ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে পড়ছে।

এমন অবস্থার পরও আমরা সঠিকভাবে করোনাভাইরাস পরিস্থিতি মোকাবেলার তেমন কোনো পরিকল্পনা লক্ষ্য করছি না। জোনভিত্তিক লকডাউন নিয়েও দায়িত্বশীল বিভিন্ন দপ্তর ভিন্ন ধরনের কথাবার্তা বলছেন। এর ফলে সমন্বয়হীনতার সংকট প্রকট আকার ধারণ করছে। বেশিরভাগ জনসাধারণের মধ্যেও তেমন কোনো সচেতনতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। এতে করোনা পরিস্থিতি আরও মারাত্মক আকার ধারণ করবে বলে আমাদের শঙ্কা। এজন্য করোনাভাইরাস পরিস্থিতি মোকাবেলায় সব পক্ষকে আরও দায়িত্বশীল আচরণ করতে আমরা আহ্বান জানাচ্ছি।