চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

করোনাভাইরাস: লেবাননে ইথিওপিয়ার গৃহকর্মীদের বিনা বেতনে ছাঁটাই

কোভিড-১৯ এর প্রভাবে লেবাননের রাজধানী বৈরুতে হুট করেই বিনা বেতনে ইথিওপিয় গৃহকর্মীদের ছাঁটাই করা হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে গৃহকর্মীদের মাঝে ব্যাপক ক্ষোভ বিরাজ করছে। দেশটির সরকার জানিয়েছে অভিবাসীদের নিরাপত্তা ও আশ্রয় নিয়ে তারা কাজ করছেন।

রোববার বিবিসি’র এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞাপন

বিবিসি বলছে, শতাধিক ইথিওপিয়ান অভিবাসী শ্রমিকরা দেশটির রাজধানীর দূতাবাসের সামনে বিক্ষোভ করছে, কিন্তু সেখানেও কোন প্রকার ইতিবাচক সাড়া তারা পায়নি। বরং তাদের এক প্রকার ছুঁড়ে ফেলা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

জানা যায়, কোভিড-১৯ এর প্রভাবে গত ছয় মাস ধরে লেবাননের অর্থনৈতিক মন্দা প্রকট আকার ধারণ করেছে। দেশটির মধ্যবিত্তদের অনেকে দাবি করেছেন যে তারা আর তাদের গৃহকর্মী কাজের মেয়েদের বেতন দেওয়ার সামর্থ্য রাখছেন না।

বিজ্ঞাপন

লোমি নামের এক গৃহকর্মী বলেন, আমরা এখানে চাকরি করার জন্য এসেছি, ছাঁটাইয়ের জন্য নয়। আমরা কোনো ময়লা আবর্জনা নই যে মালিকরা আমাদের ছুঁড়ে ফেলে দিবেন।

টাইগিস্ট মেষ্টফেন নামের এক স্বেচ্ছাসেবক জানিয়েছেন, এই লকডাউনের মধ্যে বাড়ির মালিকদের কখনোই গৃহকর্মীদের ছাঁটাই করা উচিত হয়নি। কারণ এই অভিবাসী শ্রমিকেরা কর্মসংস্থানের জন্যই এখানে এসেছিল। এখন তো বিমানবন্দরও বন্ধ, তাহলে তারা যাবে কোথায়। অভিবাসীরা নিজেদের নিরাপত্তা ও আশ্রয়ের কথা চিন্তা করে দূতাবাসের সামনে আসে, কিন্তু দূতাবাস থেকেও কোনো সাহায্য তাদের করা হয়নি। উল্টো এক প্রকার তাদের ছুঁড়ে ফেলে দেয়া হয়েছে। এটা এক প্রকারের অন্যায়।

লেবাননের অ্যান্টি রেসিজম মুভমেন্টের পরিচালক ফারাহ শালকা জানান, আমরা এখানকার বেশকিছু অভিবাসী শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা জানিয়েছেন, মালিকরা তাদের কোনো প্রকার সাপ্তাহিক ছুটি, প্রণোদনা, ঠিক মতো বেতন ভাতা দিতেন না। এমনকি চাকরিচ্যুত করার সময় কোনো নোটিশ না দিয়ে বিনা বেতনে ছাঁটাই করেছেন। যা কিনা লেবাননের শ্রমিক আইনের বিপক্ষে।

লেবাননের শ্রম মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মারলিন আতাল্লাহ জানান, আমাদের মন্ত্রী বিষয়টির ব্যাপারে ওয়াকিবহাল আছেন। আমরা অবশ্যই অভিবাসীদের জন্য ভালো কিছু করব। ইতিমধ্যে আমরা ইথিওপিয়ার কনস্যুলেটে আলোচনা করেছি। আপাতত আগামী দুই দিন আমরা অভিবাসী শ্রমিকদের একটা হোটেলে রাখব। তারপর তাদের আশ্রয় দিব।