চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

করোনাভাইরাস: লকডাউন না মেনে পালালে নিজেরই ক্ষতি

করোনাভাইরাস প্রতিরোধে দেশে একের পর এক এলাকা লকডাউন ঘোষণা করা হচ্ছে। রাজধানীর মোহাম্মদপুরের কয়েকটি এলাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থান লকডাউন করা হয়েছে। এমন ঘোষণা এসেছে সেসব এলাকায় করোনা আক্রান্ত রোগী পাওয়ার পর। নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন এলাকাকে সম্পূর্ণ লকডাউন করা হয়েছে।

এরমধ্যে টাঙ্গাইলের একটি খবর আমরা লক্ষ্য করেছি। চ্যানেল আইয়ের প্রতিবেদনে জানা যায়: ‘‘করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি রোধে মঙ্গলবার বিকেল ৪টা থেকে টাঙ্গাইলে প্রবেশের সব পথে চেকপোস্ট বসিয়ে বন্ধ ঘোষণা করলেও জেলা প্রশাসনের ওই নির্দেশনা আমলে নিচ্ছে না জনগণ।

বিজ্ঞাপন

টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর, ঘাটাইল, কালিহাতী ও টাঙ্গাইল সদরের বিভিন্ন প্রবেশ পথে ঘুরে দেখা গেছে একই চিত্র। কোথাও প্রবেশপথ বন্ধে স্থায়ী চেকপোস্ট। নানা পরিবহনে করে অবাধেই যাতায়াত করছেন সাধারণ মানুষ। মহাসড়কেও দেখা গেছে পণ্যবাহী ট্রাকে ঢাকা ফেরত মানুষের চাপ।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

অনেকের সাথে কথা বললে তারা জানান, নারায়ণগঞ্জ লকডাউন ঘোষণার পর বিভিন্নভাবে পালিয়ে গ্রামের বাড়িতে যাচ্ছেন তারা।’’

নারায়ণগঞ্জ লকডাউন ঘোষণার পর শুধু টাঙ্গাইলে নয়, সেখান থেকে লোকজন পালিয়ে একাধিক জেলায় গিয়েছে এবং যাচ্ছে বলে গণমাধ্যমে প্রকাশ হয়েছে। এ বিষয়টি খুব শঙ্কার বলে আমরা মনে করি। এতে দেশব্যাপী করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কা রয়েছে। এজন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে এখনই কঠোর হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।

করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণে রাখতে লকডাউন বিশ্বব্যাপী সফল একটি প্রক্রিয়া। সেই ধারাবাহিকতায় দেশেও মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী করোনাক্রান্ত এলাকা লকডাউন করছে। এরপরও সেখান থেকে কীভাবে লোকজন পালিয়ে যেতে পারে তা আমাদের বোধগম্য নয়। এতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ব্যর্থতা স্পষ্ট। আর যারা পালিয়ে যাচ্ছেন তাদের সচেতনতার অভাব প্রকট। এই পালিয়ে যাওয়া লোকজন নিজেদের পাশাপাশি পরিবার ও সমাজকে হুমকির মধ্যে ফেলে দিচ্ছেন।

করোনা সংকটের শুরু থেকেই দেশে সরকারের সংশ্লিষ্ট সব দপ্তর ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা লক্ষণীয়। তারা এ সংকট মোকাবেলায় আন্তরিক। তবে কিছু ক্সেত্রে সমন্বয়হীনতা দেখা গেলেও এখন সেসব কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে। এই মুহূর্তে লকডাউন ঘোষণা করা এলাকায় জাতীয় স্বার্থে আরও কঠোরতা জরুরি বলে আমরা মনে করি। এজন্য যার যার জায়গা থেকে এগিয়ে আসতে আমরা সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।