চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

করোনাভাইরাস: যুবকদের জন্য পরিকল্পনা ও বরাদ্দ রাখার পরামর্শ

কোভিড-১৯ এর মহামারীতে যুবকদের জন্য পরিকল্পনা এবং প্রণোদনা দুটিরই অভাব প্রকট মন্তব্য করে পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা বা জাতীয় বাজেটে তাদের জন্য পৃথক পরিকল্পনা এবং বরাদ্দ রাখার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

বাংলাদেশের তরুণদের ওপর কোভিড-১৯ মহামারির প্রভাব নিয়ে একশনএইড বাংলাদেশ এবং সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিং (সানেম) এর যৌথ আয়োজনে একটি অনলাইন আলোচনা প্রোগ্রামে এই পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

বিজ্ঞাপন

এসময় কোভিড-১৯-র এই মহামারীর সময় আইসোলেশন শুধু স্বাস্থ্যগত প্রয়োজনেই নয়, ঘরের ভেতরে সহিংসতার শিকার হ্ওয়া নারীর জন্য নিরাপদ আশ্রয় বা আইসোলেশন প্রয়োজনের কথাও তুলে ধরেন একশনএইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ কবির। তিনি আইনগত নিরাপত্তার পাশাপাশি সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং এজন্য জোড়ালো ও যথোপযুক্ত অ্যাডভোকেসি এখন অনিবার্য বলেও মন্তব্য করেন।

বিজ্ঞাপন

তিনি আরো বলেন, যুবদের দশক হিসেবে ঘোষিত এই দশকে কোভিড ১৯-র মতো দুর্যোগে তাদের জন্য পরিকল্পনা এবং প্রণোদনা দুটো’র অভাবই প্রকট হয়েছে। তাই পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা বা জাতীয় বাজেটে যুবদের জন্য পৃথক পরিকল্পনা এবং বরাদ্দ রাখা অপরিহার্য। এই প্রসঙ্গে সুবিধা-বঞ্চিত যুবদের জন্য একশনএইড বাংলাদেশের বিভিন্ন কার্যক্রমের উল্লেখ করেন তিনি। কোভিড-১৯ সংকটকে সুযোগ হিসাবে নিয়ে পরিবর্ত পরিস্থিতিতে সুবিধা-বঞ্চিত ও পিছিয়ে পড়া নারী-শিশু ও যুবসহ সকল বঞ্চিত-শ্রেণীর জন্য একটি ন্যায্যতা ভিত্তিক সমাজব্যবস্থা গড়ে তোলা অপরিহার্য বলেও তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন ।

এই প্রোগ্রামে সানেম-র নির্বাহী পরিচালক ড. সেলিম রায়হান তাদের কিছু গবেষণা তথ্য তুলে ধরেন।

তার পরিবেশনায় তিনি বলেন, কোভিড-১৯-র প্রভাব পড়েছে দেশের ৩৭ মিলিয়ন শিক্ষার্থী-র উপর। অনানুষ্ঠানিক কর্মক্ষেত্রে থাকা ৮৯ ভাগ যুব শিকার হবেন বেকারত্বের, ফলে এক চতুর্থাংশ নতুন দরিদ্র তৈরি হবে এবং কোভিড-১৯ সংক্রান্ত প্রণোদনা প্যাকেজে যুবদের জন্য কোন বরাদ্দই নেই।

তার সুপারিশগুলোর মধ্যে রয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত যুবকদের জন্য স্বাস্থ্য প্যাকেজ, বিস্তৃত শিক্ষা এবং তাদের কারিগরী-প্রযুক্তিগত উতকর্ষে আরো বেশি উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা।

বিজ্ঞাপন

অনুষ্ঠানে প্যানেলিস্ট হিসেবে বক্তব্য রাখেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক এবং সানেম-র গবেষণা পরিচালক ড. সায়মা হক বিদিশা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের প্রভাষক এবং সানেম-র রিসার্চ ফেলো মাহতাব উদ্দিন, একশনএইড বাংলাদেশের ইয়াং পিপল প্রকল্পের ম্যানেজার নাজমুল আহসান এবং সানেম-র রিসার্চ ইকোনমিস্ট জুবায়ের হোসেন।

কোভিড-১৯ মহামারীকে মাথায় রেখে জাতীয় বাজেট এবং এই সংকট মোকাবিলায় বেশ কিছু পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেন তারা।

ড. সায়মা হক বিদিশা যুবদের মানসিক স্বাস্থ্যের পাশাপাশি মাতৃ, প্রজনন এবং শিশু স্বাস্থ্যের উপর প্রভাবের দিক তুলে ধরেন। এছাড়া কাজ হারিয়ে ফেলা প্রবাসী ও শহরফেরত যুবদেরকে কৃষিতে অন্তর্ভূক্তির মাধ্যমে চলমান অর্থনীতিতে সম্পৃক্তকরণ এবং সঠিক কর্মসংস্থানের উপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, সঠিক নীতি নির্ধারন এবং প্রশিক্ষণ কার্যক্রম বাড়ানো প্রয়োজন।

কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতে ৫ লাখ ফ্রিল্যান্সার বিপাকে পড়েছে বলে উল্লেখ করেন-জুবায়ের হোসেন। তিনি বলেন, বর্তমানের ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ কালচারে ফ্রিল্যান্সিংয়ের সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে তাদের নিজেদের দক্ষতা বাড়ানোর দিকে আরো বেশি মনোযোগি হওয়া প্রয়োজন।

নাজমুল হোসেন বলেন, বাংলাদেশের ছয় কোটি যুবক যারা একটি সুন্দর ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখা শুরু করেছিলো, তাদের স্বপ্নভঙ্গ ঘটেছে কোভিড-১৯ মহামারীর কারণে। যুবনারীরা অনেকে কাজে ফিরতে না পেরে রিপ্রোডাক্টিভ হেলথে ফিরে যেতে হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

কেয়ার ইকোনমি এবং সার্ভিস সেক্টর সংক্রান্ত সুসংগঠিত তথ্যের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘জাতীয় যুবনীতি পূনর্বিবেচনা এবং স্থানীয় সরকারের সাথে জোড়ালো অ্যাডভোকেসি প্রয়োজন।’

মাহতাব উদ্দিন বলেন, এ পরিস্থিতির কারণে দুই থেকে আড়াই লাখ শিক্ষার্থী তাদের পরিবারসহ আরো দারিদ্রের মুখে পড়েছে। তাদের জন্য ঋণ এবং বৃত্তির ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। কর্মজীবী যুব জনসংখ্যার ৫৩ শতাংশ বেকার হয়ে পড়ার শংকা নিয়ে দিন কাটাচ্ছে। তাই তরুণদের নিয়ে সরকারের সব পরিকল্পনা আরো বাড়ানো হোক।’ সেই সাথে সরকারি চাকরিসহ সব ধরনের চাকরির বয়সসীমা বাড়ানোর সুপারিশ্ও করেন তিনি।

অনেক তরুণ এই অনলাইন সেমিনারে অংশ নিয়ে তাদের মতামত, পরিকল্পনা ও দাবি তুলে ধরেন।