চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

করোনাভাইরাস: বিদেশযাত্রার টেস্টে ভোগান্তি

করোনাভাইরাস ইস্যুতে বাংলাদেশ এখন সবার কাছে প্রশ্নবিদ্ধ। টেস্টের রির্পোট, মাস্ক , চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা নিয়ে কেলেংকারী নিয়ে। এতে দেশে বিদেশে সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। তবে দেশের বর্তমান করোনাভাইরাস পরিস্থিতকে অনুধাবন করা সহজ নয়। মানুষের চলাচল এতটাই স্বাভাবিক যে, তা দেখে মনে হয় না করোনাভাইরাস নিয়ে কোন শংকা আছে দেশে। অন্যদিকে সাধারণ মানুষের টেস্ট করার আগ্রহ নেই। অথচ প্রতিদিনই ৪০/৫০ জন মানুষ মারা যাচ্ছে।

কোভিড ১৯ নিয়ে নানা ধরনের নাটকীয়তার কারণে বিগত সময়ের টেস্ট কতটা সঠিক ছিল তা নিয়ে সংশয় আছে জনমনে। দেশের কত মানুষ এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে তার সঠিক তথ্য বলতে গেলে নেই। এর কারণ হলো করোনাভাইরাস উপর্সগ দেখা দিলেও বেশির ভাগ মানুষ ঘরে বসে চিকিৎসা নিয়েছে। এমনকি ভয় ও লোক জানাজানি হলে বিব্রত হবার কারণে তথ্য গোপন করেছে।

বিজ্ঞাপন

দেশের এমন পরিস্থিতিতে বর্তমান সময়ে নতুন সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে প্রবাসীরা বিদেশ ফেরত যাওয়া নিয়ে। সারা বিশ্বকে বদলে দিয়েছে কোভিড ১৯। পুনরায় ভাইরাস আক্রমণ থেকে মুক্ত থাকতে সর্তকতা অবলম্বন করছে মানুষের চলাচলে। সেক্ষেত্রে আকাশ পথের যাত্রীদের জন্য করোনা ভাইরাস টেস্ট করা বাধ্যতামূলক করেছে বাংলাদেশ সরকার। বেসরকারি হাসপাতালের মিথ্যা রির্পোটের কারণে জাপান, ইটালিতে গিয়ে প্রবাসীরা বিব্রত হয়েছে। এ অবস্থায় বিদেশগামী যাত্রীরা করোনা ভাইরাস টেস্ট নিয়ে বিপাকে পড়েছে।

সরকার দেশের ১৬টি স্থানকে নির্ধারণ করেছে এ টেস্টের জন্য। স্থানগুলো হলো: শের ই বাংলা মেডিকেল কলেজ, বরিশাল; বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অফ ট্রপিক্যাল এন্ড ইনফেকশনাস ডিজিসেস, চট্টগ্রাম; কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ (আইইডিসিআর ফিল্ড ল্যাবরেটরি), কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ, কুমিল্লা, ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অফ ল্যাবরেটরি মেডিসিন এন্ড রেফারেল সেন্টার, ঢাকা; ইন্সটিটিউট অফ পাবলিক হেলথ, ঢাকা; ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অফ প্রিভেনটিভ এন্ড সোশ্যাল মেডিসিন, ঢাকা; নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যা হাসপাতাল, নারায়ণগঞ্জ; খুলনা মেডিকেল কলেজ, খুলনা; কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ, কুষ্টিয়া; ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ, ময়মনসিংহ; শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ, বগুড়া; রাজশাহী মেডিকেল কলেজ, রাজশাহী; এম আবদুর রহিম মেডিকেল কলেজ, দিনাজপুর; রংপুর মেডিকেল কলেজ, রংপুর; সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ, সিলেট।

বিজ্ঞাপন

বিদেশ যাত্রার ৭২ ঘণ্টা আগে টেস্ট করতে গিয়ে মানুষ ভোগান্তির শিকার হবে তা স্থান সংখ্যা দেখেই অনুমেয়। দেশের প্রতিটি জেলায় প্রবাসী রয়েছে। সাধারণত তারা নিজ বাড়ি থেকে সকল কাজ সম্পন্ন করে ঢাকা যায় ফ্লাইটের জন্য। কিন্তু করোনাভাইরাস টেস্টের শর্তসমুহ দেখে এক ধরনের অস্থিরতা কাজ করছে বিদেশে যাত্রীদের মাঝে। কারণ বিমানের টিকেট ও টেস্টের রির্পোটের সমন্বয় করা সম্ভব না হলে আর্থিক ক্ষতি হয়ে যাবে। এয়ারলাইনসগুলো তাদের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে টেস্ট করছে তাদের সুনির্দিষ্ট হাসপাতালে। আবার সরকার বলছে তাদের নির্ধারিত হাসপাতালে টেস্ট করাতে হবে। প্রকৃতপক্ষে সঠিক ব্যবস্থাপনা বা তথ্যের ঘাটতিতে হয়রানিতে পড়ছে মানুষ।

বাধ্যতামূলক টেস্ট পদ্ধতিটি আরও সহজ করা প্রয়োজন। দেশের কোভিড ১৯ নিয়ে যখন সচেতন হবার প্রয়োজন ছিল তখন সে কাজ করা হয়নি। আর সে কারণে শাহেদ-সাবরিনারা দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করেছে বিশ্বের কাছে। যার খেসারত দিতে হচ্ছে প্রবাসীদের।

বিমান চলাচল শুরু হবার পরপরই আটকে পড়া প্রবাসীরা বিদেশ যেতে বিমানের টিকেট সংগ্রহ করতে শুরু করে। বর্তমানে টিকেটের উচ্চমূল্য তা সকলের জানা। এ অবস্থায় বিদেশ যাত্রীদের করোনাভাইরাস টেস্টের জন্য সরকারের বিশেষ উদ্যোগকে কার্যকর করতে আরও সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা নিতে হবে।

ঢাকার বাইরে টেস্টের স্থান বৃদ্ধি করতে হবে। যেখানে অর্থের বিনিময়ে টেষ্ট করা হচ্ছে সেখানে বিদেশ যাত্রীরা যেন ভোগান্তিতে না পড়ে তা লক্ষ্য রাখতে হবে। ৭২ ঘণ্টা আগে টেস্ট করতে দেয়া এবং ২৪ ঘণ্টা আগে রির্পোট প্রদান করা সুনিশ্চিত করতে হবে। টেস্টের চাপ বেশি এমন অজুহাতে বিদেশ যাত্রীরা যেন বিপাকে না পড়ে তার ব্যবস্থা করতে হবে যথাযথ কর্তৃপক্ষকে।

(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। চ্যানেল আই অনলাইন এবং চ্যানেল আই-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)