চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

করোনাভাইরাস: প্রস্তুত ৪৭০ প্রতিষ্ঠানে কোয়ারেন্টাইন সেবা পাবে প্রায় ২৫ হাজার

দেশে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনের সক্ষমতা বেড়েছে। সারাদেশের ৬৪ জেলার সকল উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে ৪৭০টি প্রতিষ্ঠানকে। এর মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে কোয়ারেন্টাইনের সেবা প্রদান করা যাবে ২৪ হাজার ৪৯২ জনকে।

শুক্রবার দুপুরে করোনাভাইরাস বিষয়ক সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদফতরের অনলাইন বুলেটিনে এ তথ্য জানান স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. সানিয়া তাহমিনা।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, ‘এ পর্যন্ত হোম কোয়ারেন্টাইনে গেছেন ৭১ হাজার ২৪৪ জন। এর থেকে ২৪ ঘণ্টায় ছাড় পেয়েছেন ৬৬০ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় হোম ও প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে গেছেন ২ হাজার ৪৭৪ জন। বর্তমানে হোম কোয়ারেন্টাইনে আছেন ১১ হাজার ৮০৯ জন এবং প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে আছেন ৭৯২ জন আছেন। অর্থাৎ, মোট ১২ হাজার ৬০১ জন কোয়ারেন্টাইনে আছেন।’

বিজ্ঞাপন

তিনি জানান, গতকালের তুলনায় আজকে মজুত ৭৯ হাজার ১৪০টি ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম (পিপিই) বেড়েছে। সানিয়া তাহমিনা বলেন, ‘বর্তমান মজুতের সংখ্যা ৪ লাখ ৯৮ হাজার ৭২টি। যখনই যেখানে পিপিইর প্রয়োজন হচ্ছে, আমরা পাঠাচ্ছি।’

তিনি বলেন, ‘যে জিনিসটা নিয়ে আমাদের চিকিৎসকরা সবচেয়ে বেশি চিন্তা করছেন, সেটা হচ্ছে এন-৯৫ মাস্ক। বাকি জিনিসগুলো নিয়ে আসলে কোনো সমস্যা নেই। এন-৯৫ মাস্ক সংগ্রহের জন্য শেষ চেষ্টা করে যাচ্ছি। যেখান থেকে যতখানি পারি আমরা সংগ্রহ করছি। যেখানে সবচেয়ে বেশি প্রায়োরিটি সেখানে সেটা বিতরণ করে যাচ্ছি।’

পরীক্ষার কিট ৯২ হাজার আমাদের সংগ্রহ করেছি। বর্তমানে মজুত আছে ৭১ হাজার বলেও জানান তিনি। সোনিয়া তাহমিনা বলেন, ‘আইসোলেশনের যে সংকট ছিল, তা প্রতিনিয়ত চেষ্টা করে যাচ্ছি বাড়ানোর জন্য। এই মুহূর্তে আমাদের প্রস্তুত আছে ঢাকা মহানগরীতে ১৫৫০, সারাদেশে ৭ হাজার ৬৯৩টি আইসোলেশন।’

বিজ্ঞাপন

বসুন্ধরা ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টার, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের একটি মার্কেট এবং দিয়াবাড়িতে ৪টি বহুতল ভবনে আইসোলেশন হাসপাতাল তৈরি হবে বলেও জানান তিনি।

গত ৮ মার্চ বাংলাদেশে প্রথম করোনাভাইরাস আক্রান্ত ব্যক্তি শনাক্ত হওয়ার কথা জানানো হয়েছিল। এর পর ১৮ মার্চ কোভিড ১৯-এ আক্রান্ত হয়ে প্রথম ব্যক্তির মৃত্যুর কথা জানায় আইইডিসিআর।

২৫ মার্চ প্রথমবারের মতো সংস্থাটি জানায় যে, বাংলাদেশে সীমিত আকারে কমিউনিটি ট্রান্সমিশন বা সামাজিকভাবে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ হচ্ছে।

চীনের উহান থেকে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাসে বিশ্বের ২১০টি দেশ ও অঞ্চলে এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ১৬ লাখের বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন। এদের মধ্যে মারা গেছেন প্রায় ৯৬ হাজার ৩৭৩ জন। তবে সুস্থ হয়ে ঘরে ফিরেছেন ৩ লাখ ৫৮ হাজারের বেশি মানুষ।

দেশে করোনাভাইরাসে মোট আক্রান্তের শনাক্তের সংখ্যা ৪২৪ জন এবং মারা গেছেন ২৭ জন।

করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে প্রথমে ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে সরকার। পরে এই ছুটি ১১ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়ানো হয়। রোববার এ ছুটির মেয়াদ ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে পরে ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে সরকার। দেশবাসীকে নিজ বাড়িতে থাকার আহ্বান জানানো হয়।

ছুটির সময়ে অফিস-আদালত থেকে গণপরিবহন, সব বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। কাঁচাবাজার, খাবার, ওষুধের দোকান, হাসপাতাল, জরুরি সেবা এই বন্ধের বাইরে থাকছে। জনগণকে ঘরে রাখার জন্য মোতায়েন রয়েছে সশস্ত্র বাহিনীও।