চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

করোনাভাইরাস: পুঁজিবাজারের চ্যালেঞ্জকে অপরচুনিটিতে পরিণত করতে চাই

প্রফেসর শিবলী রুবাইয়াত উল ইসলাম, বিএসইসি চেয়ারম্যান

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) এর নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে যোগদান করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাংকিং এন্ড ইন্স্যুরেন্স বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান, সাধারণ বীমা করপোরেশনের চেয়ারম্যান ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাণিজ্য অনুষদের ডীন প্রফেসর শিবলী রুবাইয়াত উল ইসলাম। তিনি ১৭ মে অর্থ মন্ত্রণালয়ে যোগদান পত্রে স্বাক্ষর করে বিএসইসি’র কর্মস্থলে যোগ দেন।

প্রসঙ্গত, গত ১৪ মে বিএসইসি’র চেয়ারম্যান প্রফেসর এম খায়রুল হোসেনের মেয়াদ শেষ হয়। আর তার স্থলাভিষিক্ত হলেন প্রফেসর শিবলী রুবাইয়াত।

বিজ্ঞাপন

এর আগে রোববার ১৭ মে প্রফেসর শিবলী রুবাইয়াত উল ইসলামকে সরকার এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ প্রদান করে।

প্রফেসর রুবাইয়াত সাধারণ বীমা কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান হিসেবে যোগদানের পর সততা ও দক্ষতার মাধ্যমে ভঙ্গুর এই প্রতিষ্ঠানে ব্যাপক পরিবর্তন আনেন। প্রতিষ্ঠানটিতে ফিরেছে গতিশীলতা ও শৃঙ্খলা। যোগদানের পর থেকে সরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহের মধ্যে প্রতিষ্ঠানটিকে অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী ও করপোরেট কালচারের মাধ্যমে একটি আধুনিক ও যুগোপযোগী প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত করেছেন। এক কথায় করপোরেশনের চেহারাই পাল্টে দিয়েছেন তিনি। ভঙ্গুর প্রতিষ্ঠানটি ২০১৬ সালের পর গত চার বছরে প্রায় ১২শ’ পঞ্চাশ কোটি টাকা লাভ করে। ২০১৬ সালে ২৮৫ দশমিক ৪৩ কোটি টাকা লাভ করে। ওই বছর বীমা দাবি পরিশোধ করা হয় ২০০ দশমিক ০৬ কোটি টাকা। এরপর থেকে এই ধারা বাড়তে থাকে। ২০১৭ সালে প্রতিষ্ঠানটি লাভ করে ৩০১ দশমিক ৭৩ কোটি টাকা। ওই বছর বীমা দাবি পরিশোধ করা হয় ৩৫০ দশমিক ১১ কোটি টাকা। ২০১৮ সালে লাভ করে ৩২৫ দশমিক ০২ কোটি টাকা। ওই বছর বীমা দাবি পরোশোধ করা হয় ৩৭৬ দশমিক ৩৬ কোটি টাকা। আর সর্বশেষ ২০১৯ সালে অনিরিক্ষীত হিসাব অনুযায়ী লাভ করে ৩২৮ দশমিক ৯০ কোটি টাকা এবং বীমা দাবি পরিশোধ করে ৪৬২ দশমিক ২৪।

এছাড়া করপোরেশনে বিভিন্ন পর্যায়ে উন্নয়ন ও কর্মক্ষেত্রে ব্যাপক গতিশীলতা বৃদ্ধি পেয়েছে। সাধারণ বীমা করপোরেশনের সার্বিক প্রবৃদ্ধির পিছনে চেয়ারম্যান প্রফেসর শিবলী রুবাইয়াত গতিশীল ও সাহসী নেতৃত্ব গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। আর এরই ধারাবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে বিএসইসি চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেন। এর আগে গত ৩০ ডিসেম্বরের এক প্রজ্ঞাপনে সাধারণ বীমা কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান হিসেবে তিন বছরের জন্য নিয়োগ দিয়েছিল সরকার।

প্রফেসর শিবলী রুবাইয়াত একাধিকবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও সিনেট সদস্য এবং কোষাধ্যক্ষসহ বিজনেস স্টাডিস অনুষদের ডীন হিসেবে চার বার নির্বাচিত হয়েছেন। একই সঙ্গে বর্তমানে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য, পরিচালক কমিউনিটি ব্যাংক ও এসএমই ফাউন্ডেশন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নীল দলের আহবায়ক। এছাড়া সুইজারল্যান্ড বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি (এসবিসিসিআই) এর সাধারণ সম্পাদক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এ্যালামনাই এসোসিয়েশন অব ব্যাংকিং (ডুয়াব) সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

প্রফেসর রুবাইয়াত এককথায় একজন চেঞ্জ মেকার। গতানুগতিক ধারার বাইরে গিয়ে সুদুরপ্রসারী চিন্তার একজন মানুষ। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে বিশ্বের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করেছেন। গবেষণা আদান প্রদানসহ শিক্ষক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থে নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। তার যোগ্যতা, দক্ষতা ও সাহসিকতার মাধ্যমে নিজেকে ইউনিক হিসেবে তুলে ধরেছেন। একই সঙ্গে বড় দায়িত্বে যাচ্ছেন এটা সবার জন্য সু-খবর হলেও ডায়নামিক এই শিক্ষককে বিশ্ববিদ্যালয় পাবে না এটা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য বড় ক্ষতি।

প্রফেসর শিবলী রুবাইয়াত উল ইসলাম ১৯৬৮ সালে ঢাকার ধামরাইতে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা রফিকুল ইসলাম খান অবসর গ্রহণের পূর্ব পর্যন্ত ন্যাশনাল ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ছিলেন। মা দেশের প্রখ্যত সংগীত শিল্পী হাসিনা মমতাজ। তার স্ত্রী শেনিন রুবাইয়াত ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজীর শিক্ষক এবং বিটিভির একজন সংবাদ পাঠিকা। তাদের দুই পুত্র সন্তান রয়েছে। তিনি এ পর্যন্ত বিশ্বের ৩৩টি দেশ ভ্রমণ করেছেন।

সম্প্রতি বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন এর চেয়ারম্যান এর দায়িত্ব গ্রহণ করার পর রাজু আলীম এর প্রযোজনায় এবং সানজীদা পারভিন এর উপস্থাপনায় চ্যানেল আই এর বিশেষ অনুষ্ঠান সাধারণ বীমা প্রবৃদ্ধির অর্থনীতি অনুষ্ঠানে বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেন তিনি।

প্রশ্ন: পুঁজিবাজার বন্ধ হওয়ার আগে ধারাবাহিক দরপতনের ধারায় ছিল। এর সাথে যোগ হয়েছে কোভিড-১৯ মহামারি। এই পরিস্থিতিতে দায়িত্ব গ্রহণ করা তো অবশ্যই চ্যালেঞ্জের?
প্রফেসর ড. শিবলী রুবাইয়াত উল ইসলাম: আপনি ঠিকই বলেছেন আমরা সারাবিশ্বের পুঁজিবাজারের দিকে যদি তাঁকাই তাহলে খেয়াল করবো যে, করোনা আসার পরেই পৃথিবীর যে সব বড় বড় স্টক এক্সচেঞ্জ বা পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট যে সব প্রতিষ্ঠান সবার উপরেই একটা ধাক্কা আসে। কিন্তু একটু পরেই আস্তে আস্তে তা কিন্তু রিভাইভ করা শুরু করে। আসলে চ্যালেঞ্জটা অনেক বড়। এমনিতেই আমাদের পুঁজিবাজারে কিছুদিন আগে বড় ধরণের দরপতন ঘটেছিল। তবে কোভিড পরবর্তী চ্যালেঞ্জটা আরও বড় হবে। কারণ মানুষের কাছে যে সঞ্চয় ছিল বা বিনিয়োগের জন্যে যে অর্থ ছিল তার অনেকটাই হয়তো খরচ হয়ে যাবে এই সময়টাতে। তারপরেও পুঁজিবাজারের কোভিড-১৯ পরবর্তী চ্যালেঞ্জকে অপরচুনিটিতে পরিণত করতে চাই। আর তাই আমরা নতুন নতুন ইনোভেটিভ প্রডাক্ট নিয়ে আসতে চাচ্ছি। আমরা চাই বাজারে যে সব সেক্টরে বড় ধরণের ক্ষতি হয়েছে করোনার কারণে- মেইনলি রিয়েল এস্টেট, সিমেন্ট ইন্ডাস্ট্রি, ট্যুরিজম ইন্ডাস্ট্রি, হসপিটালিটি ইন্ডাস্ট্রি- আমরা তাদের জন্যে ক্যাপিটাল মার্কেটের যে অন্য প্রডাক্ট আছে যেমন- বন্ড। আমরা যদি কুইক বন্ড দিয়ে তাদেরকে পুঁজি সরবরাহ করতে পারি বিভিন্ন টেনিয়রের, তাহলে কিন্তু তারা ব্যাংকিং সেক্টরের উপরে চাপ কমিয়ে তারা আমাদের এই সেক্টরে চলে আসতে পারবে এবং গতিটা যদি আমাদের ভাল হয় তখন দেখা যাবে যে, লং টার্ম লোন বা লং টার্ম যে সব ক্যাপিটালের প্রয়োজন হয় বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠানের তারা হয়তো ব্যাংকমুখি না হয়ে পুঁজিবাজারমুখি হবে।

এখানে আরেকটা জিনিস আমাদের সহায়ক শক্তি হিসাবে কাজ করবে বন্ডের ক্ষেত্রে সেটা হলো যে, সরকার ব্যাংকিং সেক্টরের ফিক্সড ডিপোজিটের রেট অব ইন্টারেস্ট ৬ পারসেন্ট করার কথা বলেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আমি মনে করি এটার কারণে যারা সঞ্চয়ের উপরে নির্ভরশীল তারা সামনের দিনগুলোতে যদি ৬ পারসেন্টের উপরে আট বা নয় পারসেন্ট কোন ইন্টারেস্ট পায় তাহলে তারা বন্ডের ব্যাপারে ইন্টারেস্টেড হবে কারণে এটি তো গ্যারান্টেড রিটার্ন। তাই আমাদের এখানে মার্কেটিং করতে হবে। জনগণের কাছে পৌছতে হবে আর তাদেরকে এখানে পার্টিসিপেট করার সুযোগ করে দিতে হবে। আর এই কারণে আমরা বন্ডে খুব জোর দিচ্ছি। অল্টারনেটিভ একটা মার্কেট করতে চাচ্ছি যাতে ইন্টারনেটে ট্রেড করা যায়। আর এই জন্যে ছুটির মধ্যেও আমরা কাজ করছি।

বিজ্ঞাপন

প্রশ্ন: খুবই ভাল উদ্যোগ। কারণ আমাদের ইক্যুইটি পার্টিসিপেশনটা আরও বাড়ানো উচিৎ। কারণ বন্ড মার্কেটটা যদি ডেভলপ করে তাহলে পুঁজিবাজার অনেক সমৃদ্ধ হবে?
প্রফেসর ড. শিবলী রুবাইয়াত উল ইসলাম: জ্বি। এটি ডেটিভ ইন্সট্যুমেন্ট কিন্তু তারপরেও সেটির উপরে আমরা জোর দিচ্ছি এই মুহুর্তে। ইক্যুইটি মার্কেট যেটি আপনি বলছেন- সেটা আমরা প্রাইমারী মার্কেট সেকেন্ডারী মার্কেট দুইটার পার্টিসিপেন্ট দুই রকম। এখন সেকেন্ডারি মার্কেটে যারা আছেন তারাই সাধারণত ক্ষদ্র বিনিয়োগকারী তাদেরকে নিয়েই আমাদের এখন সবচেয়ে বেশি চিন্তা করতে হচ্ছে। কিন্তু তাই বলে আমরা একদম বসেও থাকতে পারি না। কারণ যারা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ইক্যুইটির জন্যে আমাদের কাছে আসে তাদেরকে যদি একদম বন্ধ করে রাখি নিরুৎসাহিত করি তাহলে আবার বাজারের যে ক্যারেক্টার সেটা আবার থাকে না। তাই সেকেন্ডারি মার্কেটে যারা ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী তাদের দিকেই সবচেয়ে বেশি খেয়াল থাকবে। কিন্তু প্রাইমারি মার্কেটেওতো কিছুটা খেয়াল করতে হবে।

প্রশ্ন: প্রাইমারি মার্কেটের কথা যেহেতু আসলো তাই একটু জানতে চাই। প্রাইমারী মার্কেটে এর আগের কমিশন যে একটা উদ্যোগ নিয়েছেন তা হলো- সার্কিড ব্রেকার। সার্কিড ব্রেকার বসানোর একটা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে?
প্রফেসর ড. শিবলী রুবাইয়াত উল ইসলাম: ফ্লোর। ফ্লোর।

প্রশ্ন: সার্কিড ব্রেকার। আইপিও’তে যে প্রথমে ট্রেড শুরু হবে সেখানে সার্কিড ব্রেকারের একটা অপশন করা হয়েছে। এটাতে কি বিনিয়োগকারীদের জন্যে উপকার হচ্ছে? কারণ এটা হয়তো প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের জন্যে কতোটা উপকার হচ্ছে বা ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের জন্যে কতোটা? কারণ আইপিও অনেকে ইনভেস্ট করছে তারা প্রফিটের জন্যে। সেখানে যদি প্রথম দুই তিন দিনেই সার্কিড ব্রেকারটা থাকে- এটা বিনিয়োগকারীদের জন্যে কেমন হচ্ছে?
প্রফেসর ড. শিবলী রুবাইয়াত উল ইসলাম: এর ভাল দিকও আছে খারাপ দিকও আছে। একপক্ষ লাভবান হয় আরেকপক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সুতরাং প্রথমেই এটি এখন আমরা উঠিয়ে দিচ্ছি না। কিন্তু কিছুদিন পরে এটি দেখেশুনে আমরা বিবেচনা করবো। কিন্তু তার জন্যে মার্কেটের স্ট্রেংথটা আমাদের দেখতে হবে আগে।

প্রশ্ন: আরেকটা বিষয়- আপনি সেকেন্ডারি মার্কেটে বিনিয়োগের কথা বলছিলেন। এখন মার্কেট বন্ধ আছে দুইমাস। এখানে বিনিয়োগকারীরা কিন্তু অনেকেই মার্জিন লোন নিয়ে ইনভেস্টমেন্ট করেছে। অনেকের আছে মার্জিন লোন। চড়া সুদে মার্জিন লোন দেওয়া হয়, ১২-১৮ পারসেন্ট। এই যে দুইমাস যে বন্ধ রয়েছে তারা ট্রেড করতে পারছে না কিন্তু তার সুদ বেড়ে যাচ্ছে। এই ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীদের জন্যে আপনি কোন ইনিশিয়েটিভ নেবেন কিনা?
প্রফেসর ড. শিবলী রুবাইয়াত উল ইসলাম: জ্বি। কমিশনের অন্য দুইজনকে মাত্র পেয়েছি। কিন্তু আমি আমার অফিসের সবাইকে নিয়ে কাজ করেছি ছুটির মধ্যে। ইনশাল্লাহ আমরা খুব শিগগিরই বাজার খুলে দিচ্ছি। সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী ৩০ মে পর্যন্ত ছুটি। তারপরে বাজার খুলে যাচ্ছে। আমি মনে করি বাজারটা খোলা থাকলে এটলিস্ট এখানে যাদের জীবন এবং জীবিকা জড়িত বাজার খোলা না থাকলে তারা সাংঘাতিক ক্ষতিগ্রস্ত হন। এই ধরণের ব্যবসার সাথে যারা জড়িত বাজার বন্ধ হলে তারা একেবারে বেকার হয়ে যান। পৃথিবীতে কিন্তু অন্যান্য দেশে করোনা হওয়া সত্ত্বেও তারা কিন্তু মার্কেট বন্ধ করেনি বা করলেও খুলে দিয়েছে। আমরাও সেদিকেই যাব। কারণ আমরা দেখতে পাচ্ছি- জীবন ও জীবিকা এই দুটোর মধ্যে আমাদের কোথাও ক্রসলাইন টানতে হবে যে, কোথায় গিয়ে আমরা কম্প্রোমাইজ করবো?

প্রশ্ন: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ব্যাংকগুলোতে দুইমাস ইন্টারেস্ট না নেওয়ার বাধ্যবাধকতা দিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে। মার্জিন লোন দুইমাস মওকুফের কোন উদ্যোগ আপনি নেবেন কিনা?


প্রফেসর ড. শিবলী রুবাইয়াত উল ইসলাম: এই রকম অনুরোধ আমার কাছে কেউ কেউ করেছেন। এটা করলে অন্যদিকে আরেকজনের আবার ক্ষতি হবে। তাই এটি দুই পক্ষের জন্যে কিভাবে সহনীয় করা যায়- তা নিয়ে আমরা কাজ করবো। আর নেগেটিভ ইক্যুইটি নিয়ে অনেকে আমাদের সাথে কথা বলেছেন, সেটিও আমরা দেখছি কিভাবে তাদেরকে সহায়তা করা যায়।

প্রশ্ন: এটা আমাদের জন্যে লার্নিং। কোভিড- ১৯ আসার পরে পুঁজিবাজার আমাদেরকে বন্ধ রাখতে হলো বিশ্বের অনেক মার্কেটই খোলা। আমাদের মার্কেট ডিজিটাইজেশন ফুললি করার ক্ষেত্রে কি উদ্যোগ নেবেন?
প্রফেসর ড. শিবলী রুবাইয়াত উল ইসলাম: আমাদের প্রধানমন্ত্রী যে ডিজিটাল বাংলাদেশের কথা বলেছেন- আমাদের আসলে সেইদিকে যাওয়া ছাড়া অন্য কোন উপায় নেই। আমাদের কারো কাছে যদি এই সুবিধা থাকে আর কারো কাছে যদি এই সুবিধা না থাকে তাহলে ডিজিটাল পদ্ধতিতে যদি মার্কেট খুলে দেই তাহলে যারা এই ব্যবস্থায় অভ্যস্ত নয় তারা মার খাবে। তাই আমরা চেষ্টা করবো- আমাদের ভাল শিক্ষা হয়েছে। এরপরে ডিজিটাল টেকনোলজির উপরে বেইস করে যেভাবে ট্রেড করা যায় এবং ই- ফান্ড ট্রান্সফারের মাধ্যমে টাকা লেনদেন করা যায়। এই রকম পদ্ধতির দিকে আমরা যাচ্ছি। আমাদের এখানে আইটি’র তেমন কন্সালটেন্ট ছিল না। আইটি’র কন্সালটেন্ট নিয়ে আলোচনা করেছি। কিভাবে কন্সালটেন্ট নিয়ে আইটিকে আরও স্ট্রং করা যায় এবং এমআইএসের মাধ্যমে দেশের সম্পূর্ণ পুঁজিবাজারে যারা পার্টিসিপেন্ট তাদেরকে কিভাবে নেটওয়ার্কিংয়ের মধ্যে নিয়ে আসা যায়- দ্যাট ইনক্লুড ব্যাংক অলসো? তাহলে যে কোন সময়ে আমরা ডিজিটাল পদ্ধতিতে কিন্তু বাজার খোলা রাখবো। আরেকটা জিনিস কিন্তু ইম্পর্ট্যান্ট ব্যাংক খোলা থাকতে হবে। ব্যাংক বন্ধ থাকলে কিন্তু আবার অসুবিধা।

প্রশ্ন: এখানে বিনিয়োগকারীদের অ্যাওয়ারনেস বা প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নেওয়াও তো দরকার?
প্রফেসর ড. শিবলী রুবাইয়াত উল ইসলাম: আমাদের সাথে মন্ত্রণালয়ের এই রকম একটি বিআইসিএম একটি প্রতিষ্ঠান আছে। আর আমাদের নিজস্ব একটি ট্রেনিং ইন্সটিটিউট আছে। আমরা এসেই খোঁজ খবর নিয়ে দেখেছি আমাদের এই দুইটা প্রতিষ্ঠানই বাজারে যারা অলরেডি এই বিষয়ে কাজ করছে তাদের জন্যে একটু উচ্চতর শিক্ষার ব্যবস্থা করে দেওয়া। ট্রেনিং এর ব্যবস্থা করা। আর যারা একেবারে নতুন তাদের জন্যে প্রশিক্ষণ দেওয়া। সেই সাথে ব্রোকারেজ হাউজগুলোতে মানুষ যখন বসে থাকে সেখানে টিভি স্ক্রিনের মাধ্যমে আমরা বিভিন্ন ধরণের প্রডাক্ট, পুঁজিবাজার সংক্রান্ত তথ্য, নিয়ম কানুন ও আইন কন্সট্রান্ট ডিসপ্লের ব্যবস্থা করতে যাচ্ছি আমরা। যাতে বসে থাকা অবস্থায় স্ক্রিনে তারা সচেতন হতে পারেন। এই বিষয়টও আমাদের মাথায় আছি।

প্রশ্ন: বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের অলরেডি একটা উদ্যোগ ছিল- পুঁজিবাজারের অ আ ক খ। এখন মনে হয় আমাদের গ্রামার মেনে বিনিয়োগ করার সময় এসেছে?
প্রফেসর ড. শিবলী রুবাইয়াত উল ইসলাম: সাবজেক্টটাতো একদম সহজ না। বেশ টেকনিক্যাল। খুব কম জ্ঞান নিয়ে বাজারে আসলে ঠকে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই সম্পূর্ণ জ্ঞান বুদ্ধি নিয়ে যাতে মানুষ এই বাজারে আসতে পারে তাই আমরা শিক্ষামূলক নানা ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছি।

প্রশ্ন: বিএসইসি ডিমিউচুয়ালাইজেশনের আন্ডারে দুইটা স্টক এক্সচেঞ্জকে এনেছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ এবং চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ অলরেডি স্ট্রাটেজিক পার্টনার পেয়েছে চায়নাকে। চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ এর স্ট্রাটেজিক পার্টনার পাওয়ার ব্যাপারে আপনার স্পেশাল কোন উদ্যোগ থাকবে কিনা?
প্রফেসর ড. শিবলী রুবাইয়াত উল ইসলাম: হ্যাঁ, নিশ্চয়ই থাকবে। একটা মার্কেট হয়েছে আরেকটা হয়নি। ওটাও হওয়া প্রয়োজন। যেহেতু এখন বাজারটা বন্ধ তাই চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের সাথে আমরা এখনো বসার সুযোগ পাইনি। খুব শিগগিরিই তাদের সাথে বসবো এবং এই ব্যাপারে তাদেরকে যদি কোনভাবে সহায়তা করা যায় সেটাও আমি খেয়াল করবো।

প্রশ্ন: আইপিও এর ব্যাপারে আমরা প্রায়ই শুনি- খারাপ আইপিও বা ভাল আইপিও। যদিও এটা আমরা কিভাবে ক্লাসিফাই করবো সেই বিষয়টা আছে। ভাল আইপিও বাজারে আনার জন্যে বিএসইসি এর ভুমিকা থাকে- এই ক্ষেত্রে আপনাদের ভুমিকা কী হবে?
প্রফেসর ড. শিবলী রুবাইয়াত উল ইসলাম: আমি দেখেছি বেশ কিছু আইপিও এর আমাদের এখানে দরখাস্ত আছে এবং আমাদের কমিশনে যারা এই ব্যাপারে কাজ করেন তারা এই ব্যাপারে বেশ অভিজ্ঞ বলে আমার মনে হয়েছে। আমাদের আগের কমিশন এই ব্যাপারে আইন কানুনগুলো খুব সুন্দর করে দিয়েছেন। ভাল অবকাঠামো এইক্ষেত্রে দিয়ে গেছে আগের কমিশন। আমরা চেষ্টা করবো সেই আইনকানুন এবং সুযোগ সুবিধাগুলো ব্যবহার করে আইপিওগুলো দেখে সুন্দরভাবে যাচাই বাছাই করে সুন্দরভাবে বাজারে আনা। একসাথে অনেক আইপিও আনেরে তো বাজার নিতে পারবে না। আমরা দেখেশুনে যেটাকে সবচেয়ে ভাল মনে করবো মানুষের জন্যে এবং বিনিয়োগকারীদের জন্যে সেটাই প্রথম নিয়ে আসবো। আর বাজারে মানুষের লিকুইডিটির অবস্থা বা পজিশন দেখে অন্যগুলো নিয়ে আসবো। এর মধ্যে আমি একটা দুইটা খেয়াল করেছি। যেগুলো অলমোস্ট রেডি এবং ভাল। সেইগুলো বাজারে ছেড়ে ফিডব্যাক দেখে অন্যগুলোর ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবো