চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

করোনাভাইরাস: পল্লী চিকিৎসকরাই এখন ভরসা

চলমান করোনা পরিস্থিতির কারণে সারাদেশের মতো কক্সবাজারে সবকিছু বন্ধ রয়েছে। জেলা সদর হাসপাতালসহ প্রাইভেট হাসপাতাল খোলা থাকলেও বন্ধ রয়েছে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের চেম্বার। কক্সবাজারে হোম কোয়ারান্টিনে রয়েছে ১৬ জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক। ফলে কক্সবাজারের মানুষের একমাত্র ভরসা হয়ে পড়ছে এখন ৩২’শ পল্লী চিকিৎসক।

চারদিকে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার পর কক্সবাজার জেলা সদরসহ উপজেলা সদর ও বিভিন্ন স্থানে থাকা বেসরকারি হাসপাতালগুলো খোলা থাকলেও সেখানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা চেম্বার না করার কারণে দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ রোগীরা। ফলে গত কয়েক দিনে মৌসুমি নানান রোগে আক্রান্ত হওয়া সাধারণ রোগীরা কোন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের দেখা না পাওয়ায় গ্রামের পল্লী চিকিৎসকরাই এখন তাদের ভরসা।

বিজ্ঞাপন

টেকনাফের সাবরাং ইউনিয়নের শাহপরীর দ্বীপ থেকে কক্সবাজার শহরের চিকিৎসা নিতে আসা আব্দুল জব্বার বলেন, গত দুইদিন বেসরকারি কয়েকটি হাসপাতাল ঘুরে কোনো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসককে দেখাতে পারেনি। ফলে বাধ্য হয়ে আমরা এলাকায় ফিরে যাচ্ছি। সেখানে আমাদের গ্রামের ডাক্তারকে দেখাব। মহেশখালী থেকে কক্সবাজার শহরে ডাক্তার দেখাতে আশা রহিম উল্লাহ বলেন, জ্বর,সর্দি, কাশির কথা শুনলেই কোন চিকিৎসক হাসপাতালে কথা বলতে চায় না। ফলে এখন আমার গ্রামে ফিরে যাচ্ছি।

বিজ্ঞাপন

কক্সবাজার জেনারেল হাসপাতালের চেয়ারম্যান ডাক্তার জিএম কাদের বলে, আমরা সার্বক্ষণিক মানুষকে সেবা দিয়ে যাচ্ছি।তবে আমাদের বেশ কিছু চিকিৎসক হোম কোয়ারেন্টাইন এ থাকায় চেম্বার করতে পারছেন না।

কক্সবাজার ইউনিয়ন হাসপাতালের চেয়ারম্যান আরিফুল মাওলা বলেন, আমাদের হাসপাতাল সার্বক্ষণিক খোলা রয়েছে। যোগাযোগ বন্ধ থাকার কারণে কোন রোগী তো আসছে না। তবে বেশিরভাগ চিকিৎসক কক্সবাজারের বাইরে হওয়ায় তারা বাড়িতে চলে গেছেন বলেও জানান তিনি। কক্সবাজারের স্থানীয় তিনজন চিকিৎসক হাসপাতালের সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছেন বলেও জানান আরিফুল মাওলা।

বিজ্ঞাপন

জেলার বিভিন্ন উপজেলাতেও খোঁজ নিয়ে জানা গেছে এখন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পাওয়া যাচ্ছে না। তবে সার্বক্ষণিক খোলা আছে গ্রাম ডাক্তারদের চেম্বার, তাই যে কোন স্বাস্থ্য সেবাতে এখন গ্রাম ডাক্তাররাই একমাত্র ভরসাস্থলে পরিণত হয়েছে সাধারণ মানুষদের কাছে।।

এ বিষয়ে কক্সবাজার গ্রাম ডাক্তার সমিতির সভাপতি ডাঃ চন্দন কান্তি দাশ বলেন,জেলায় প্রায় ৩২’শ গ্রাম ডাক্তার বা পল্লী চিকিৎসক সার্বক্ষণিক মানুষের সেবা দিয়ে যাচ্ছে। আমরা সব সময় সরকারকে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত রয়েছি। তবে আমার চিকিৎসকদের নিরাপত্তার বিষয়টি চিন্তা করা প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন। মহেশখালীর কালারমারছড়া বাজারের পল্লী চিকিৎসক তপন কান্তি বলেন, আমরা সার্বক্ষণিক মানুষকে সেবা দিয়ে যাচ্ছি।

অন্যদিকে জেলার সিভিল সার্জন ডাঃ মাহাবুবুর রহমান জানান,বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পাওয়া যাচ্ছে না, এই কথা সঠিক না। প্রতিটি উপজেলা এবং জেলা হাসপাতালে সার্বক্ষণিক সেবা দিয়ে যাচ্ছেন চিকিৎসকরা।

জেলা বিএমএ সাধারণ সম্পাদক ও স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের সভাপতি ডা. মাহাবুবুর রহমান বলেন,জেলা শহরের কয়েকজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক হোম কোয়ারেন্টাইনে আছে। আর যারা আছে তারা নিয়মিত চেম্বার করলেও রোগী নাই। মুলত যোগাযোগ ব্যবস্থা ভাল না থাকার কারণে মানুষ আসতে পারছে না।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন বলেন,জেলাবাসীর চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে সরকারের নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। জরুরি অবস্থা হলে আমরা প্রয়োজনে পল্লী চিকিৎসকদের ব্যবহার করবো।