চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

করোনাভাইরাস: নতুন শনাক্ত ২৮৫১, মৃত্যু ২৭

দেশে কোভিড-১৯ প্রাদুর্ভাবের ১৫৩তম দিনে গত ২৪ ঘণ্টায় ২ হাজার ৮৫১ জনের দেহে করোনাভাইরাস এর উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে ২৭ জন মারা গেছেন। এসময়ে সুস্থ হয়েছেন ১ হাজার ৭৬০ জন।

শুক্রবার দুপুরে করোনাভাইরাস সংক্রান্ত নিয়মিত অনলাইন বুলেটিনে এসব তথ্য জানান স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় ১৩ হাজার ২৫৩টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পরীক্ষা করা হয়েছে ১২ হাজার ৬৯৯টি। এ নিয়ে দেশে মোট নমুনা পরীক্ষা করা হলো ১২ লাখ ৩৭ হাজার ৮২৩টি। নমুনা পরীক্ষার তুলনায় গত ২৪ ঘণ্টায় শনাক্তের হার ২২ দশমিক ৪৫ শতাংশ।

তিনি বলেন, নতুন নমুনা পরীক্ষায় আরও ২ হাজার ৮৫১ জনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে দেশে মোট আক্রান্ত হয়েছেন ২ লাখ ৫২ হাজার ৫০২ জন। মোট শনাক্তের হার ২০ দশমিক ৪০ শতাংশ। আক্রান্তদের মধ্যে মারা গেছেন আরও ২৭ জন। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ৩ হাজার ৩৩৩-এ। শনাক্ত বিবেচনায় মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৩২ শতাংশ।

ডা. নাসিমা আরও বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন আরও ১ হাজার ৭৬০ জন। সবমিলিয়ে এ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১ লাখ ৪৫ হাজার ৫৮৪ জন। শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৫৭ দশমিক ৬৬ শতাংশ।

মারা যাওয়া ২৭ জনের মধ্যে পুরুষ ২৪ জন এবং নারী তিন জন। হাসপাতালে মারা গেছেন ২৬ জন, বাড়িতে মারা গেছেন একজন। এখন পর্যন্ত পুরুষ মোট মারা গেছেন দুই হাজার ৬৩০জন; যা ৭৮ দশমিক ৯১ শতাংশ এবং নারী মারা গেছেন ৭০৩ জন; যা ২১ দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ। পুরুষ শনাক্তের হার ৭১ শতাংশ এবং নারীর ক্ষেত্রে শনাক্তের হার ২৯ শতাংশ।

বিজ্ঞাপন

মারা যাওয়াদের বয়স বিশ্লেষণে, ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে চার জন, ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে ছয় জন, ৬১ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে ১২ জন, ৭১ থেকে ৮০ বছরের মধ্যে চার জন এবং ৮১ থেকে ৯০ বছরের মধ্যে একজন রয়েছেন।

তিনি জানান, এ পর্যন্ত যারা মৃত্যুবরণ করেছেন তাদের বয়স এবং শতকরা হারে দেখা গেছে, শূন্য থেকে ১০ বছরের মধ্যে ১৮ জন, যা দশমিক ৫৪ শতাংশ; ১১ থেকে ২০ বছরের মধ্যে ৩৩ জন, যা দশমিক ৯৯ শতাংশ; ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে ৮৭ জন, যা দুই দশমিক ৬১ শতাংশ; ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে ২১৪ জন, যা ছয় দশমিক ৪২ শতাংশ; ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে ৪৬২ জন, যা ১৩ দশমিক ৮৬ শতাংশ; ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে ৯৫৩ জন, যা ২৮ দশমিক ৫৯ শতাংশ এবং ষাট এর অধিক বয়সের রয়েছেন এক হাজার ৫৬৬ জন, যা ৪৬ দশমিক ৯৮ শতাংশ।

২৪ ঘণ্টায় বিভাগভিত্তিক মৃতের সংখ্যা, ঢাকা বিভাগে ১৩ জন, খুলনা পাঁচ জন, চট্টগ্রাম ও রাজশাহী বিভাগে তিন জন করে, রংপুর বিভাগে দুই জন এবং বরিশাল বিভাগে একজন। এ পর্যন্ত বিভাগ অনুযায়ী মারা গেছেন, ঢাকা বিভাগে এক হাজার ৫৯৭ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৭৯৪ জন, রাজশাহী বিভাগে ২০৫ জন, খুলনা বিভাগে ২৪৭ জন, বরিশাল বিভাগে ১৩১ জন, সিলেট বিভাগে ১৫৬ জন, রংপুর বিভাগে ১৩২ জন এবং ময়মনসিংহ বিভাগে ৭১ জন।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশনে যুক্ত হয়েছেন ৮১৫ জন এবং আইসোলেশন থেকে মুক্ত হয়েছেন ৮৩৮ জন। এ পর্যন্ত মোট আইসোলেশনে গেছেন ৫৫ হাজার ১৭৫ জন, ছাড়া পেয়েছেন ৩৬ হাজার ৫২৪ জন। বর্তমানে আইসোলেশনে আছেন ১৮ হাজার ৬৫১ জন।

তিনি আরও জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় কোয়ারেন্টিনে যুক্ত হয়েছেন দুই হাজার ৬০ জন, ছাড়া পেয়েছেন দুই হাজার ২৮১ জন। এ পর্যন্ত কোয়ারেন্টিনে গেছেন ৪ লাখ ৪৮ হাজার ১৩৮ জন, এ পর্যন্ত কোয়ারেন্টিন থেকে ছাড়া পেযেছেন তিন লাখ ৯৫ হাজার ৫২৯ জন। বর্তমানে কোয়ারেন্টিনে আছেন ৫২ হাজার ৬০৯ জন।

চীন থেকে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাসে বিশ্বের ২১৫টি দেশ ও অঞ্চলে এখন পর্যন্ত ১ কোটি ৯২ লাখেরও বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন। এদের মধ্যে মারা গেছেন ৭ লাখ ১৭ হাজারের বেশি মানুষ। তবে সুস্থ হয়ে ঘরে ফিরেছেন ১ কোটি ২৩ লাখের বেশি মানুষ।

করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে প্রথমে ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে সরকার। পরে বিভিন্ন মেয়াদে ছুটি বাড়িয়ে সর্বশেষ ৩০ মে পর্যন্ত সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে সরকার। দেশের ইতিহাসের দীর্ঘ এ ছুটির পর স্বাস্থ্যবিধি মেনে ৩১ মে থেকে অফিস-আদালত খোলা হয়েছে। এছাড়াও স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত পরিসরে চালু হয়েছে গণপরিবহনও।