চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

করোনাভাইরাস: দ্বিতীয়বার সংক্রমণ হবে আরও মারাত্মক

করোনাভাইরাস কারও একবার হলে আবার তার হওয়ার আশঙ্কা থাকে কি না, অনেকেরই এ প্রশ্ন। এর সংক্রমণ থেকে পুরোপুরি মুক্তির উপায় নিয়েও চিন্তার শেষ নেই। সম্প্রতি এক জার্নালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, কোভিড-১৯-এ কোন ব্যক্তি আক্রান্ত হলে তিনি দ্বিতীয়বারও আক্রান্ত হতে পারেন, এমনকি দ্বিতীয় সংক্রমণ প্রথমটির চেয়ে মারাত্মক হতে পারে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রে এক ব্যক্তি দু’বার কোভিড-১৯  আক্রান্ত হয়েছেন। তার প্রথম আক্রান্তের উপসর্গ এবং  সুস্থ হওয়ার প্রক্রিয়া দ্বিতীয়বার করোনা আক্রান্তের চেয়ে সহজ ছিল। প্রথমবার করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ২৫ বছর বয়সী ওই ব্যক্তি অক্সিজেনের অভাব অনুভূব করলে হাসপাতালে ভর্তি হন।  কিছুদিনের মধ্যেই তিনি সুস্থ হয়ে পড়েন। এবং সুস্থ হওয়ার পর তিনি আবারও করোনায় আক্রান্ত হোন।

বিজ্ঞাপন

মার্কিন জার্নাল ল্যানসেট ইনফেকশন ডিজিজের এক গবেষণায় প্রশ্ন তোলা হয়, কোন ব্যক্তি প্রথমবার করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হলে,ভাইরাস থেকে কতটা প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করতে পারে?

বিজ্ঞাপন

হাসপাতালের ঐ ব্যক্তির কেস স্টাডির মতে, ওই ব্যক্তির কোন স্বাস্থ্যগত সমস্যা বা ইমিউনিটি ঘাটতি ছিল না, যেটা দিয়ে আমরা ধারণা করতে পারি তিনি আবার করনোয় আক্রান্ত হতে পারেন।

গত ২৫ মার্চ তার করোনার উপসর্গ দেখা দেয়, তারপর ১৮ এপ্রিল সে করোনা পরীক্ষা করান। পজিটিভ আসলে হাসপাতালে ভর্তি থাকেন এবং ২৬ মে করোনা নেগিটিভ রিপোর্ট পান।

এর কিছুদিন পর ২৮ মে আবারও কিছু উপসর্গ দেখা দেয়, ৫ জুন করোনা পজিটিভ হয় এবং অক্সিজেনের প্রেসার কমতে থাকলে হাসপাতালে ভর্তি হন।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞানীরা এই রোগীর করোনার সময়কে পর্যালোচনা করে বলেন, প্রথম করোনা থেকে সুস্থ হয়ে ওঠার পর পরই আবারও ভাইরাসটি তাকে ধরেছিল, যে সময়টায় তিনি রোগটিকে প্রতিরোধ করবেন, তার আগেই তিনি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেন।

যুক্তরাষ্ট্রের নেভাদা বিশ্ববিদ্যালয়ের ড.মার্ক পান্ডোরি বলেন, ‘কেউ যদি একবার করোনায় আক্রান্ত হয়ে পড়েন, তার ভবিষ্যতে করোনার সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের কোন প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হয় না। এমনকি তিনি আগের চেয়ে বেশি অসুস্থ হয়ে পড়তে পারেন।

তিনি আরও বলেন, পুনরায় কোভিড-১৯ আক্রান্ত হলে কিভাবে প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করতে হবে সে বিষয়েও আমাদের পুনরায় সংশোধন কিন্তু মেনে চলতে হবে।

করোনা আক্রান্ত হওয়ার পরও তাকে সোশ্যাল ডিসটেন্স,মাস্ক এবং হাত ধোয়া নিশ্চিত করতে হবে।

করোনা চিকিৎসায় একবার সেরে উঠলেই শরীরে যে করোনারোধী অ্যান্টিবডি তৈরি হয় না বলে আগেই সতর্ক করেছিল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO।  বিশেষজ্ঞরা বার বার সতর্ক করেছিলেন, কোনও ব্যক্তি একবার করোনা থেকে সুস্থ হয়ে উঠলে তিনি দ্বিতীয়বার আর আক্রান্ত হবেন না, তা একেবারেই সঠিক নয়।

তবে করোনার দ্বিতীয় সংক্রমণ কতটা বিপজ্জনক? চীন, দক্ষিণ কোরিয়া ও ইউরোপের কয়েকটি দেশে করোনার দ্বিতীয় সংক্রমণের প্রমাণ আগেও মিলেছে।

এ বিষয়ে ‘পাবলিক হেলথ ফাউন্ডেশন’-এর সভাপতি কে শ্রীনাথ রেড্ডি জানান, করোনা থেকে সেরে ওঠার পরবর্তী তিন মাসে শরীরে অ্যান্টিবডির মাত্রা কমলেও নতুনভাবে সংক্রমণ ঘটলেই তৎক্ষণাৎ ভাইরাস কণাগুলিকে চিহ্নিত করে ফেলে। অনেক ক্ষেত্রে তা প্রথম সংক্রামণের চেয়েও মারাত্মক হয়ে থাকে।