চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

করোনাভাইরাস: দেশে ২৪ ঘণ্টায় ৪১৮ জন আক্রান্ত শনাক্ত, ৫ জনের মৃত্যু

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৪১৮ জনের দেহে করোনাভাইরাস এর উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে। আর আক্রান্তদের মধ্যে মৃত্যু হয়েছে আরও ৫ জনের।

রোববার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের করোনাভাইরাস সংক্রান্ত নিয়মিত হেলথ বুলেটিনে এ তথ্য জানান স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন:  করোনাভাইরাস শনাক্তে গত ২৪ ঘণ্টায় ৩ হাজার ৬৮০টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়। এর মধ্যে ৩ হাজার ৪৭৬টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। সব মিলিয়ে নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ৪৬ হাজার ৫৮৯টি। নতুন যে নমুনা পরীক্ষা হয়েছে তার মধ্যে আরও ৪১৮ জনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। ফলে করোনায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৫ হাজার ৪১৬। আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে মারা গেছেন আরও ৫ জন। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়ালো ১৪৫ জনে। এছাড়া সুস্থ হয়েছেন আরও নয়জন। ফলে মোট সুস্থ হয়েছেন ১২২ জন।

ডা. নাসিমা আরও বলেন, নতুন করে যারা মারা গেছেন তাদের মধ্যে তিনজন পুরুষ ও দুজন নারী। চারজন রাজধানীর এবং একজন ঢাকার দোহারের বাসিন্দা। এদের মধ্যে ১০ বছরের কম বয়সী এক শিশুও রয়েছে। এ শিশুটি কিডনিজনিত সমস্যায় (নেফ্রোটিক সিনড্রোম) ভুগছিল। এরই মধ্যে তার করোনা পজিটিভ আসে। বাকিদের মধ্যে ষাটোর্ধ্ব একজন এবং পঞ্চাশোর্ধ্ব তিনজন।

বিজ্ঞাপন

করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে সবাইকে ঘরে থাকার এবং স্বাস্থ্য অধিদফতর ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ-নির্দেশনা মেনে চলার অনুরোধ জানানো হয় বুলেটিনে।

এসময় মানসিক স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে বই পড়া, বাগান করা এবং শারীরিক ব্যায়াম করার পরামর্শ দেয়া হয় বুলেটিনে। রোজার ইফতারে পানিসহ তরল খাবার বেশি করে গ্রহণেরও পরামর্শ দেন তিনি।

চীনের উহান থেকে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাসে বিশ্বের ২১০টি দেশ ও অঞ্চলে এখন পর্যন্ত ২৯ লাখের বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন। এদের মধ্যে মারা গেছেন ২ লাখ ৩ হাজার ৩১০ জন। তবে সুস্থ হয়ে ঘরে ফিরেছেন ৮ লাখের বেশি মানুষ।

করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে প্রথমে ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে সরকার। পরে এ ছুটি ১১ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়ানো হয়। এরপর এ ছুটির মেয়াদ ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়ানো হয়, পরে ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে সরকার। কোভিড-১৯ সংক্রমণ পরিস্থিতির মধ্যে চলমান সাধারণ ছুটি আরও ১০ দিন বাড়িয়ে ৫ মে পর্যন্ত করেছে সরকার। এ সময়ে দেশবাসীকে নিজ বাড়িতে থাকার আহ্বান জানানো হয়।

ছুটির সময়ে অফিস-আদালত থেকে গণপরিবহন, সব বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। তবে কাঁচাবাজার, খাবার, ওষুধের দোকান, হাসপাতাল, জরুরি সেবা এই বন্ধের বাইরে থাকছে। জনগণকে ঘরে রাখার জন্য মোতায়েন রয়েছে সশস্ত্র বাহিনীও।