চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

করোনাভাইরাস: দুর্ভিক্ষ মোকাবেলায়ও সতর্ক থাকতে হবে

করোনাভাইরাস দিন দিন কল্পনাতীত পরিস্থিতি তৈরি করছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো বাংলাদেশেও এই পরিস্থিতি বিদ্যমান। করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে চলমান এই যুদ্ধের মধ্যেই আরেক শঙ্কার বিষয়ে সতর্ক করলো জাতিসংঘ।

করোনাভাইরাসে যতো মানুষ আক্রান্ত ও মারা যাচ্ছে, দুর্ভিক্ষের কারণে তার দ্বিগুণ মানুষের ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার শঙ্কার কথা প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ। বিশ্ব সংস্থাটি এক প্রতিবেদনে জানায়, করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে বিশ্ব বড় রকমের দুর্ভিক্ষের ঝুঁকিতে রয়েছে। বিশ্বব্যাপী ক্ষুধা বেড়ে যাবে। আর এই মন্দায় ভুগতে থাকা সংখ্যাটি ১৩৫ মিলিয়ন থেকে ২৫০ মিলিয়নেরও বেশি হয়ে যেতে পারে।

বিজ্ঞাপন

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও এর আগে একই শঙ্কার কথা জানিয়েছেন। করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণ থেকে শুরু করে প্রায়ই তিনি এ বিষয়ে জনসাধারণসহ সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করছেন। এক ইঞ্চি কৃষিজমিও যেন অনাবাদী না থাকে সেই বিষয়ে তিনি তাগাদা দিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য সংস্থা ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগ্রাম এই তথ্য তুলে ধরে বলছে, বিভিন্ন যুদ্ধ-সংঘাত, অর্থনৈতিক সংকট এবং জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ১০ দেশ বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। এ তালিকায় বাংলাদেশ না থাকলেও রয়েছে ইয়েমেন, গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গো, আফগানিস্তান, ভেনেজুয়েলা, ইথিওপিয়া, দক্ষিণ সুদান, সুদান, সিরিয়া, নাইজেরিয়া এবং হাইতি। তারপরও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে পদক্ষেপের কথা জানিয়েছেন তা প্রশংসনীয়। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা মেনে কৃষকের দুর্ভোগ লাঘবে ছাত্রলীগসহ যেসব সংগঠনের নেতাকর্মী এবং ব্যক্তিপর্যায়ে যারা ধান ঘরে তুলতে সহযোগিতা করছেন, তাদেরকেও আমরা ধন্যবাদ জানাই।

বিশ্ব মহামন্দার আশঙ্কা করে ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগ্রামের প্রধান বলেছেন, বিপর্যয় এড়াতে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া দরকার। বিশ্বকে বুদ্ধি ও কৌশলের সঙ্গে কাজ করতে হবে এবং দ্রুত কাজ করতে হবে। সত্যি আমাদের হাতে কোনো সময় নেই। আমি বিশ্বাস করি যে, আমরা দক্ষতা ও বুদ্ধির সঙ্গে সম্মিলিত উপায়ে কোভিড-১৯ মহামারীর কারণে যেন খাদ্য সংকট না হয়, তা নিশ্চিত করতে পারি।

ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগ্রামের প্রধানের এ বক্তব্য খুবই যৌক্তিক। মহামারী মোকাবেলার সাথে সাথে এ বক্তব্যকেও যথাযথ গুরুত্বের সঙ্গে আমলে নিতে হবে। এজন্য খাদ্য সংকট ও দুর্ভিক্ষ মোকাবেলায় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা বাস্তবায়ন করে কোনো কৃষিজমি অনাবাদী না রাখার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। একইসঙ্গে প্রয়োজনীয় নীতিমালা যথাযথভাবে গ্রহণের জন্য আমরা সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।