চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

করোনাভাইরাস: দাফন নিয়ে এখনও এত আতঙ্ক!

করোনাভাইরাস একদিকে যেমন পৃথিবীকে মনুষ্যত্ববোধ চিনিয়েছে, তেমনই অমানবিকতার নজিরও রেখে গেছে, এখনও যাচ্ছে। এমনই একটি খবর আজও গণমাধ্যমে প্রকাশ হয়েছে।

সেই খবরটি হলো সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার একটি সড়কের পাশে এক ব্যক্তির লাশ পড়ে থাকার সংবাদ। করোনার উপসর্গ নিয়ে ওই ব্যক্তির মারা যাওয়ার খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে আতঙ্কে লাশের পাশে কেউ আসেননি। তাই বলে লাশ দাফন হয়নি, তা নয়। বরং খবর পেয়ে গোয়াইনঘাট থানার পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে কবর খোঁড়া থেকে শুরু করে লাশের জানাজা ও দাফনের ব্যবস্থা করেছে।

বিজ্ঞাপন

গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে জানা যায়, মারা যাওয়া ওই ব্যক্তির নাম নাজিম উদ্দিন (৪৫)। তিনি গোয়াইনঘাট উপজেলার পশ্চিম জাফলংয়ের হাজীপুর গ্রামের বাসিন্দা। গত বুধবার সন্ধ্যার পর শরীরে ব্যথার ওষুধ কেনার জন্য নাজিম উদ্দিন বাড়ি থেকে বের হন। আর বাড়ি ফেরেননি। পরে বৃহস্পতিবার সকালে জাফলং চা–বাগানসংলগ্ন হাজীপুর সড়ক থেকে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পুলিশ সদস্যরা বৃষ্টির মধ্যে কবর খুঁড়ে তাদের ব্যবস্থাপনায় জানাজা পড়ানো হয়েছে। জানাজায় স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে তাদের পরিবারের কয়েকজন ও পুলিশ সদস্যরা অংশ নেন। এ ঘটনায় অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে। করোনা পরীক্ষার জন্য তাঁর নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

এমন ঘটনা যে এবারই প্রথম, তা নয়। এর আগেও এমন অমানবিক ঘটনা আমরা লক্ষ্য করেছি। তবে এর বিপরীত চিত্রও লক্ষ্য করা গেছে। সেখানে মানুষকে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চিত্র লক্ষণীয় ছিল। করোনাভাইরাস বিশ্বব্যাপী প্রতিনিয়ত আমাদের এসব চিত্র দেখাচ্ছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ইতোমধ্যে বলেছে, মৃত মানুষদের শরীর থেকে মৃত্যুর তিন ঘণ্টা পর করোনাভাইরাস ছড়ায় না। সেই অনুযায়ী স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ব্রিফিংয়েও একাধিকবার বিষয়টি বলা হয়েছে। স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে অনেকবার সচেতন করেছেন, যেন আমরা এতটা অমানবিক দৃশ্য না দেখি।

করোনাভাইরাস চিরদিন থাকবে না। বিশ্ব ইতিহাসের অন্যান্য অতিমারির মতো করোনাভাইরাসও জয় করবে মানুষ। তবে এমন বিপদের দিনে যেন আমাদের মনুষ্যত্ববোধ হারিয়ে না যায়। বিশ্বব্যাপী এমন সংকটে আমরা বিশেষ করে চিকিৎসকদের দিকে তাকাতে পারি। তারা নিজেদের জীবনকে হাতের মুঠোয় রেখে সাহসের সাথে সরাসরি যুদ্ধ জয়ের চেষ্টায় লড়াই করে যাচ্ছেন। সম্মুখসারির সব যোদ্ধাই তা করছেন। এর ফলে সারা বিশ্বে লাখ লাখ মানুষ সুস্থ হয়ে উঠছেন। তাহলে আমরা এখনও কীভাবে এতটা আতঙ্কে থাকি?

করোনা মহামারি মোকাবেলায় আমাদের অবশ্যই সচেতন হতে হবে। নিয়মকানুন মানতে হবে। তবে এজন্য কোনোভাবেই আতঙ্কিত হওয়া যাবে না। মনুষ্যত্বহীনতার পরিচয় দেওয়া যাবে না। তাহলেই আমরা করোনাভাইরাস মোকাবেলা করতে পারবো। এজন্য যার যার অবস্থান থেকে সবাইকে এগিয়ে আসতে আমরা আহ্বান জানাচ্ছি।