চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

করোনাভাইরাস: দরিদ্র দেশগুলোর ঋণ মওকুফের আহ্বান

করোনাভাইরাস মহামারির জেরে বিশ্বজুড়েই মন্দার আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা। উন্নয়নশীল দেশগুলো যেন সেটা সামাল দিতে পারে এবং জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে পারে, সে জন্য তাদের ঋণ মওকুফ করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রায় ১০০টির বেশি আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা।

যে সকল দেশের অর্থনীতি খুবই দুর্বল এবং করোনার ধাক্কা সামাল দিতে বেগ পেতে হতে পারে সে সকল দেশগুলোকে এ সুবিধার আওতায় আনতে বলেছে তারা।

বিজ্ঞাপন

অক্সফাম এবং অ্যাকশন এইডসহ বিশ্বের প্রধান দাতা ও সাহায্য সংস্থাগুলো এ বছরের জন্য প্রায় ২৫ বিলিয়ন ডলার ঋণ মওকুফের আহ্বান জানায়।তারা এ বিষয়ে বিশ্ব নেতৃবৃন্দের কাছে এবং প্রধান কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে চিঠি দিয়েছে। পাশাপাশি বিশ্বব্যাংক এবং আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলও একই আহ্বান জানিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

বিশ্বের বৃহত্তম এবং দ্রুত বর্ধমান অর্থনীতি জোট জি -২০ গ্রুপের বৈঠকের একদিন আগে এই আহ্বান জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

লন্ডন ভিত্তিক একটি চ্যারিটি সংস্থা এ নিয়ে জোর ক্যাম্পেইন চালিয়ে যাচ্ছে। ক্যাম্পেইন পরিচালক সারা-জেইন ক্লিফটন বলেছেন, ‘উন্নয়নশীল দেশগুলি মারাত্মক অর্থনৈতিক ধাক্কার মুখোমুখি হতে যাচ্ছে এবং একই সাথে জরুরি স্বাস্থ্য জরুরী অবস্থার মুখোমুখি হতে হবে।’

এ অবস্থায় আইএমএফ এবং বিশ্বব্যাংক দেশগুলোর ঋণ মওকুফ করে দেয়ায় তারা কিছুটা হলেও ধাক্কা সামলে নিতে পারবে বলে মনে করেন তারা। বৈশ্বিক মহামারি আকার ধারণ করায় বর্তমানে তা পুরো বিশ্বের জন্যই মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। গণস্বাস্থ্য বা জননিরাপত্তার ইস্যু তো রয়েছেই, প্রাণঘাতী এ ভাইরাসের কারণে বৈশ্বিক অর্থনীতিও এখন ভয়াবহ সংকটের মুখে।

করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা এরই মধ্যে সাড়ে ১৩ লাখ ছাড়িয়েছে এবং মৃতের সংখ্যা ৭৪ হাজারের ওপরে। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ও মৃতের হার গত পাঁচ সপ্তাহে গুণিতক হারে বেড়েছে।

এছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোয় করোনাভাইরাস শনাক্তকরণ, আক্রান্তদের আইসোলেশনে রেখে যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিতকরণ, আক্রান্তদের সংস্পর্শে আসা লোকজনকে চিহ্নিতকরণে এসব দেশকে সংগঠিত করে তোলার ওপর বাড়তি গুরুত্ব দিতে বলেছেন সংস্থা গুলো। সীমিত সম্পদ নিয়েই অনেক দেশ এসব পদক্ষেপ কার্যকরের চেষ্টা চালিয়ে যাওয়ায় তাদের প্রশংসা করা হয়েছে।

এ ছাড়া মহামারির রাশ টানতে অনেক দেশে জনগণের চলাচল সীমিত করা এবং তাদের ঘরে থাকার ওপর জোর দেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এসব পদক্ষেপ ভাইরাসের সংক্রমণ হ্রাসে সহায়তা করবে, তবে তাতে সবচেয়ে দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর ওপর অনাকাঙ্ক্ষিত বিপর্যয় নেমে আসতে পারে।