চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

করোনাভাইরাস: থেমে গেল হলিউড দম্পতির পথচলা

২৫ বছরের কিছু সময় আগে অভিনেত্রী লাইনি একদিন আশির দশকের টিভি শো ‘চায়না বিচ’র শুটিং সেটে হাঁটছিলেন। ছোটখাটো একটা চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পাওয়ার আশায় সেখানে গিয়েছিলেন তিনি। পরিচয় হলো অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর ল্যারি লেরনের এর সাথে। এরপর প্রেম ও বিয়ে। কিন্তু করোনা কেড়ে নিল তাদের সুখ। ১ এপ্রিল ৭১ বছর বয়সে চলে গেলেন ল্যারি লেরনের।

লাইনি লেরন বলেন, ‘আমরা ভালো বন্ধু ছিলাম। সবকিছুই একসঙ্গে করতাম, সব। যেন এক শরীর। ও সেভাবেই থাকবে আমার মাঝে।’

বিজ্ঞাপন

তিনি জানান, তারা দুজনেই মার্চের মাঝামাঝি সময়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন। কিন্তু বিষয়টি নিয়ে দুশ্চিন্তা করেননি। তাদের লক্ষণগুলো কোভিড-১৯ এর সংকটাপন্ন রোগীদের মতো ছিল না। নিজেদের ঘরবন্দি করে রেখেছিলেন এবং নিয়ম মেনে চলছিলেন তারা। ল্যারির হালকা জ্বর এবং কাশি ছিল। কিন্তু শুকনো কাশি না। আর লাইনি দুর্বল ছিলেন, অন্য কোনো লক্ষণ ছিল না। চিকিৎসক জানিয়েছিলেন জ্বর ১০২ এর বেশি হলে হাসপাতালে যেতে। জ্বর অতটা না বাড়ায় তারা ভেবেছিলেন ঘরে থেকেই সুস্থ হতে পারবেন।

বিজ্ঞাপন

২২ মার্চ সন্ধ্যায় লাইনি একটা শব্দ শুনতে পেয়ে লিভিং রুমে গিয়ে দেখেন তার স্বামী মেঝেতে পড়ে গেছেন। জ্বর ১০৪। দ্রুত হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয় তাকে। ভেন্টিলেটর দেয়া হয়। লাইনিকেও হাসপাতালে ভর্তি করে নেয়া হয়।

পরের দিন ল্যারির শরীর কিছুটা ভালো হওয়ায় হাসপাতালের বিছানায় শুয়েই একে অপরের সঙ্গে ফেসটাইমে কথা বলেন। দুজন দুজনকে ভালোবাসার কথাও জানান, সাহস দেন। লাইনি তখনও বুঝতে পারেননি যে এটাই স্বামীর সঙ্গে তার শেষ দেখা, শেষ কথা।

এক সপ্তাহ পরে লাইনি সুস্থ হয়ে ঘরে ফিরেন। এরপর তার কাছে একটা ফোন আসে হাসপাতাল থেকে। বলা হয়, ল্যারি আর নেই।

বেস্ট ফ্রেন্ড ল্যারিকে ছাড়া লাইনি নিজেকে অসহায় মনে করছেন। জুন মাসে তাদের বিয়ের পঁচিশ বছর পূর্তি। উদযাপনের জন্য ইউরোপিয়ান ক্রুজের টিকেট কিনে রাখা হয়েছিল। সেটা রিফান্ড করার চেষ্টা করছেন তিনি।

লাইনি বলেন, ‘আমরা বেঁচে ছিলাম একে অপরের জন্য।’

ল্যারি ও লাইনি একসঙ্গে অংশ নিয়েছেন এমি পুরস্কারের আসরে। বিয়ের পর লাইনি অভিনয় করেছেন ‘জেনারেল হাসপাতাল’, ‘ম্যারিড উইথ চিলড্রেন’, ‘ডেইজ অব আওয়ার লাইভস’ এ। আর ল্যারি কাজ করেছেন ‘দ্য ম্যান ইন দ্য হাই ক্যাসেল’, ‘অ্যামবিশনস’ এবং ‘ড্রপ ডেড ডিভা’ শোতে।