চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

করোনাভাইরাস: জীবনের ঝুঁকির চেয়েও ‘ঈদ আনন্দ’ বড়?

করোনাভাইরাস দিন দিন যে দেশে তার ছোবল বাড়িয়ে চলছে, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে তা দৃশ্যমান। দেশে কোভিড-১৯ প্রাদুর্ভাবের ৮১তম দিনে গত ২৪ ঘণ্টায় এক হাজার ১৬৬ জনের দেহে করোনাভাইরাসের উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে। আর আক্রান্তদের মধ্যে ২২ জনের মৃত্যু হয়েছে।

তবে শনাক্ত ও মৃত্যুর হার উর্ধ্বমুখী হলেও সচেতনতার হার নিম্নমুখী। চ্যানেল আই অনলাইনের প্রতিবেদনে এমনটাই দেখা গেছে। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়: ‘‘মহামারি করোনাভাইরাসের কারণে টাঙ্গাইলের বিনোদন কেন্দ্রগুলো বন্ধ থাকলেও বঙ্গবন্ধু সেতুর পূর্ব পাড়ে ঈদ আনন্দে মেতে উঠেছে মানুষ, উপচে পড়া ভিড়ে স্বাস্থ্যবিধির বালাই নেই। কোনো রকম সামাজিক দূরত্বের তোয়াক্কা না করে ঈদ আনন্দে মেতে উঠেছেন দর্শণার্থীরা।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

যমুনা নদীর বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব পাড়ের গরিলাবাড়ী এলাকায় বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে একদল মানুষের উপস্থিতির দৃশ্য দেখে বুঝে ওঠার উপায় নেই দেশে করোনাকাল চলছে। যমুনা নৌ পুলিশের দাবি, এসব দর্শণার্থীদের বারবার সতর্ক করলেও তারা স্বাস্থ্যবিধি মানছেন না।’’

বিজ্ঞাপন

কোভিড-১৯ এর দুর্যোগকালে এমন সংবাদে শঙ্কা বাড়ে। বিশ্বব্যাপী যখন লাখ লাখ মানুষ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত এবং মারা যাচ্ছেন, তখন এমন পরিস্থিতি কোনোভাবেই কাম্য ও সমর্থনযোগ্য নয়। তবে এর আগেও এসবের তোয়াক্কা না করা ঈদের কেনাকাটায় উপচে পড়া ভিড়ের দৃশ্যও আমাদের দেখতে হয়েছে। এর ফলে বাধ্য হয়ে শর্তসাপেক্ষে দোকানপাট খোলার পরও তা আবার বন্ধ করতে হয়েছে। এখন ঈদের পরও একই দৃশ্যের অবতারণা হয়েছে।

টাঙ্গাইলের যমুনা পাড়ের এ সংবাদটি একটি উদাহরণ। দেশের অনেক জায়গায়ই এমন অনাকাঙ্খিত জনসমাগম হয়েছে। এমন অসচেতনতা আমাদের কোন দিকে নিয়ে যাবে তা ভাবতেও গা শিউরে ওঠার কথা। অথচ জনসমাগম করা মানুষের মধ্যে যেন সেসবের বালাই নেই। প্রধানমন্ত্রীও বারবার সাধারণ জনগণকে সচেতন হওয়ার কথা বলছেন। চিকিৎসকরাও একই আহ্বান জানাচ্ছেন নিরাপত্তার কথা বিবেচনায়। তাই এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ সরকারের সামনে কঠোর হওয়ার কোনো বিকল্প নেই। এজন্য যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণে আমরা সরকারের সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।