চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

করোনাভাইরাস: জীবনযাত্রা সচলের পাশাপাশি সংক্রমণ কমাতে হবে

করোনাভাইরাস বা অন্য কোনো কারণে আপনজনের জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে হাসপাতালের বারান্দায় প্রহর গোণা কতটা ভয়ংকর তা কেবল অনুভব করা যায়। করোনাভাইরাস দুর্বল হয়ে গেছে কিংবা প্রকোপ কমে গেছে, এমনটা বলা হয় সরকারি বেসরকারি হিসাব অনুপাতে৷ বেশ ক’দিন ধরে নামকরা এক হাসপাতালের কোভিড ইউনিট দেখে মনে হলো, কোভিড এখন হানা দিলে পরিবারকে চরম অসহায়ত্বের মুখে ফেলে দেয় শারীরিক, মানসিক ও আর্থিকভাবে। এ ভাইরাস মানুষের জীবনকে বিষময় করে তুলেছে। কবে আসবে ভ্যাকসিন তা আসলে বলা মুশকিল। কোভিড ১৯ কেবল রোগ নয়, পরিবারের জন্য অভিশাপ ও বটে।

দেশের সরকারি হাসপাতালগুলোতে কোভিড-১৯ এর চিকিৎসা ব্যবস্থা থাকলেও উচ্চ মধ্যবিত্তরা ছুটে যায় বেসরকারি হাসপাতালে। কিন্তু সেখানে এখন অবধি চিকিৎসা ব্যয়বহুল। ঘরের মানুষকে ঘরে ফিরিয়ে আনতে গিয়ে নিঃস্ব হচ্ছে কত পরিবার তা বুঝা যায় হাসপাতালে গেলে। তবুও চিকিৎসকের থেকে আশার বাণী শুনতে তীর্থের কাকের মত অপেক্ষা করে। এসব পরিস্থিতি জেনে বুঝেও মানুষ সচেতন হচ্ছে না কোভিড-১৯ নিয়ে। মানুষের অসচেতনতা সর্বক্ষেত্রে পরিলক্ষিত হয় ।

বিজ্ঞাপন

টেস্ট কম হলে শনাক্ত কম হবে এটাই স্বাভাবিক। সরকারি এক গবেষণায় বলা হয়েছে ঢাকা শহরের ৪৫ শতাংশ মানুষ করোনাভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হয়েছে। দেশের অন্যান্য শহরের অবস্থা ভিন্ন হবে তা আশা করা অমূলক। বস্তিবাসী করোনাভাইরাসকে কোন অসুখ হিসাবে মানতে চায় না। তারা টেস্ট করতে চায় না বিভিন্ন ধরনের ভুল ধারণার কারণে। রোগ লুকিয়ে রাখে সামাজিকভাবে হেয় হবার ভয়ে।

বিজ্ঞাপন

কোভিড-১৯ এর সেকেন্ড ওয়েভ শব্দটির চিকিৎসাগত ও রাজনৈতিক বিশ্লেষণ রয়েছে নানা আঙ্গিকে।মানুষের জীবন যাত্রাকে সচল রাখতে হবে একথা যেমন সত্য, তেমনই কোভিড থেকে বাঁচতে হবে। আর এর জন্য সচেতনতার বিকল্প কিছু নেই।

বিজ্ঞাপন

তাই এ ভাইরাসকে নিয়ে অবহেলার কোন সুযোগ নেই। কারণ পরিবারের একজন আক্রান্ত হলে তা বিপর্যস্ত করে গোটা পরিবারকে। এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পেতে হলে সরকারি বেসরকারি পর্যায়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরালোভাবে অব্যাহত রাখতে হবে৷ শীত আসন্ন। ধারণা করা হয় শীতের মৌসুমে এর প্রকোপ বাড়বে। কিন্তু এর প্রতিরোধের জন্য কতটা প্রস্তুত জনগণ ও সরকার তার সুস্পষ্ট চিত্র না থাকলে দেশে বিপদগ্রস্ত হবে৷

মানুষ এ মহামারির প্রথমদিকে বিনা পয়সাতে টেস্টের সুযোগ পেয়েছিল। বর্তমানে স্বল্প ফি থাকার কারণে মানুষ টেস্টে করতে চায় না। আর বেসরকারি হাসপাতালে এখন অবধি টেস্ট ফি অনেক বেশি। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এখন চরম অবস্থার সম্মুখীন না হলে টেস্ট করে না। আবার সরকার নির্ধারিত অনেক বেসরকারি হাসপাতাল কোভিড চিকিৎসা বন্ধ করে দিচ্ছে। আগামীতে সংকট তীব্র হলে কী করবে তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে৷

গত ৮ মাসে দেশের চিকিৎসক ও হাসপাতালগুলো কোভিড-১৯ এর চিকিৎসা ব্যবস্থা নিয়ে ভিন্ন ধরনের অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করেছে। যা আশাব্যঞ্জক। কোভিড ১৯ নেগেটিভ বা পজিটিভ হবার চেয়েও এ মুহূর্তে বেশি ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় শরীরে নানা পার্শ্ব প্রতিক্রিয়াগুলো। আর এ পার্শ্ব প্রতিক্রিয়াকে সামাল দেয়ার চিকিৎসা অত্যন্ত ব্যয়বহুল। ওষুধ থেকে শুরু করে অন্যান্য পরীক্ষা নিরীক্ষা চালিয়ে যেতে হয় দীর্ঘ সময় ধরে ।

ভালো চিকিৎসার আশায় মানুষ ছুটে উন্নতমানের বেসরকারি হাসপাতালে। অর্থের চেয়ে জীবন বড়। এ মানবিক ভাবনা থেকে কোভিড ১৯ এর চিকিৎসারত হাসপাতালগুলো যদি আর্থিক বিষয়টি বিবেচনা করে তবে মানুষ সাহস পাবে চিকিৎসা করার জন্য। দেশ ও জনগণের স্বার্থে এ বিষয়টি ভাবতে হবে সকলকে, সম্মিলিতভাবে।

(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। চ্যানেল আই অনলাইন এবং চ্যানেল আই-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)