চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

করোনাভাইরাস: চিকিৎসকসহ ২ হাজার ১১১ জন স্বাস্থ্যকর্মী আক্রান্ত

বৈশ্বিক মহামারী করোনাভাইরাসে দিন দিন চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীদের আক্রান্তের পরিমাণ বাড়ছে। সারাদেশে ৭০৩ জন ডাক্তার, ৫৬১ জন নার্স ও ৮৪৭ জন অন্যান্য স্বাস্থ্য সেবাকর্মী করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন।

শনিবার বিকেলে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) দপ্তর সম্পাদক অধ্যাপক ডা. শহিদ উল্লাহ বিষয়টি চ্যানেল আই অনলাইনকে নিশ্চিত করেন।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, সারাদেশে ৭০৩ জন ডাক্তার, ৫৬১ জন নার্স ও ৮৪৭ জন অন্যান্য স্বাস্থ্য সেবাকর্মীসহ ২ হাজার ১১১ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

বিএমএ জানায়, ঢাকা বিভাগে ৪৫১ জন ডাক্তার, এর মধ্যে সর্বোচ্চ ২৯৬ জন রাজধানী ঢাকাতেই। নার্স ৩৩০ জন, ঢাকাতে ২৩০ জন। অন্যান্য স্বাস্থ্যসেবা কর্মী ৪৫১ জন। যার মধ্যে ঢাকাতেই ১৯০ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন।

বরিশাল বিভাগে ১৩ জন ডাক্তার, ১৭ জন নার্স, ১৬ জন অন্যান্য সেবা কর্মী আক্রান্ত হয়েছেন। চট্টগ্রাম বিভাগে ৭৪ জন ডাক্তার, ৩৫ জন নার্স ও ১৫৭ অন্যান্য সেবা কর্মী আক্রান্ত হয়েছেন।

খুলনা বিভাগে ৩৯ জন ডাক্তার, ২০ জন নার্স, ৪৮ জন অন্যান্য সেবা কর্মী আক্রান্ত হয়েছেন। রাজশাহী বিভাগে ১১ জন ডাক্তার, ১৭ জন নার্স, ২৮ জন অন্যান্য সেবা কর্মী আক্রান্ত হয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

রংপুর বিভাগে ২১ জন ডাক্তার, ২১ জন নার্স ও ২৬ জন অন্যান্য সেবা কর্মী আক্রান্ত হয়েছেন। সিলেট বিভাগে ৪৭ জন ডাক্তার, ৫৩ জন নার্স ও ৬৫ জন অন্যান্য সেবা কর্মী আক্রান্ত হয়েছেন।

ময়মনসিংহ বিভাগে ১০৬ জন ডাক্তার আক্রান্ত হয়েছেন। যারমধ্যে ময়মনসিংহে ৭১ জন, ৯৬ জন নার্স। যার মধ্যে ময়মনসিংহে ৭৭ জন এবং ১৬৭ অন্যান্য সেবা কর্মী আক্রান্ত হয়েছেন। যারমধ্যে ময়মনসিংহে ৮৪ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী, এখন পর্যন্ত আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যার হিসাবে শীর্ষে রয়েছে রাজধানী ঢাকা। ৪৪ হাজার ৬০৮ আক্রান্তের মধ্যে মহানগরসহ ঢাকায়ই শনাক্ত হয়েছেন ১৬ হাজার ৪৫২ জন। আর মৃত ৬১০ জনের মধ্যে রাজধানী ঢাকায় মৃত্যু হয়েছে ২১৩ জনের, ঢাকা জেলায় মৃত্যু হয়েছে ১৭৩ জনের। আর চট্টগ্রামে ১৫২, ময়মনসিংহে ১৫, রাজশাহীতে ৫, রংপুরে ১৬, খুলনায় ৮, বরিশালে ১১ এবং সিলেট বিভাগে মৃত্যু হয়েছে ১৭ জনের।

চীনের উহান থেকে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাসে বিশ্বের ২১৩টি দেশ ও অঞ্চলে এখন পর্যন্ত ৬০ লাখ ৬৫ হাজারের বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন। এদের মধ্যে মারা গেছেন তিন লাখ ৬৭ হাজারের বেশি মানুষ। তবে সুস্থ হয়ে ঘরে ফিরেছেন ২৬ লাখ ৭১ হাজারের বেশি মানুষ।

করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে প্রথমে ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে সরকার। পরে বিভিন্ন মেয়াদে ছুটি বাড়িয়ে সর্বশেষ ৩০ মে পর্যন্ত সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে সরকার।

ছুটির সময়ে অফিস-আদালত থেকে গণপরিবহন, সব বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। তবে কাঁচাবাজার, খাবার, ওষুধের দোকান, হাসপাতাল, জরুরি সেবা এই বন্ধের বাইরে থাকছে। জনগণকে ঘরে রাখার জন্য মোতায়েন রয়েছে সশস্ত্র বাহিনীও।